সর্বশেষ সংবাদ :

দুর্গাপুরে সার পাচারের সময় ডিলারের ম্যানেজার আটক

স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুর: রাজশাহীর দুর্গাপুরে সরকারি সার পাচারের অভিযোগে ২০ বস্তা সার সহ তাহাজ্জাক হোসেন (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে স্থানীয় কৃষকরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সার পাচারের ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওই ব্যবসায়ীর ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।
মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার মাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন উপস্থিত হোন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আটক তাহাজ্জাক মাড়িয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নাজিম উদ্দীনের ম্যানেজার। তিনি অন্যান্য দিনের মতো ওইদিনও গোডাউন থেকে সার বাইরে বের করে বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর বাজারে বেশি দামে বিক্রির জন্য পাচার করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে কৃষকরা তাকে সার সহ আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান উপস্থিত হলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা তার উপরেও চড়াও হোন। এক পর্যায়ে ওই কৃষি কর্মকর্তাকেও অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের মাধ্যমে নিয়মিত সার পাচার ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ করে আসছেন কৃষকরা। এসব অনিয়মের কারণে কৃষকরা সরকার নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে সরকারি দামে সার পাচ্ছেন না। বরং বাধ্য হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে সার নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ কৃষকদের। এতে চাষবাস করতে ব্যয় বৃদ্ধি ও ফসল উৎপাদনে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার নাজিম উদ্দীন ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাহাজ্জাক হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরবরাহকৃত সার পাচার ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা কৃষি কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর এভাবে অনিয়ম করে যাচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, ডিলার নাজিম আমাদের নিয়মিত সার দেন না। পরে দেখা যায় সেই সার পাশের খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আমরা সরকারি দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছি। এই সার পাচারে ডিলারের ম্যানেজার তাহাজ্জাক সরাসরি জড়িত।
কৃষক আহাদ বলেন, কিছুদিন আগে এই ডিলারের কাছে ডিএপি সার নিতে গেলে সে এক বস্তার দাম চেয়েছে এক হাজার ৪০০ টাকা। অথচ সরকারি মূল্য এক হাজার ৫০ টাকা। নিয়মিত এভাবে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। তার ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিসিআইসি ডিলার নাজিম উদ্দীন বলেন, আটক সারগুলো আমার নয়। কৃষকরা যে অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি নিয়ম অনুযায়ী কৃষকদের সার দিয়ে থাকি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, এর আগেও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। তখন আমরা ডিলারকে সতর্ক করে তার ম্যানেজারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম। উপজেলা জুড়ে সার বিতরণ নিয়ে আমাদের নিয়মিত মনিটরিং চলছে। আজকের ঘটনাতেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও অনিয়ম পরিলক্ষিত হপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু বলেন, সার পাচারের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকরা একজনকে আটক করেছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে কৃষি বিভাগের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তির মুচলেকা নেয়া হয় এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।


প্রকাশিত: November 19, 2025 | সময়: 6:42 am | সুমন শেখ