, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপদ ও টেকসই পরিবর্তনের সূচনা ঘটাচ্ছে ই-টমটম। আধুনিক নগরজীবনে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার প্রসারে ই-টমটম চালু করেছে ইলেকট্রিক গাড়ি রেন্টাল সেবা।
বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেমন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ইলেকট্রিক গাড়ি, তেমনি বাংলাদেশেও দিন দিন বাড়ছে এর গ্রহণযোগ্যতা। এই ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে বাংলামার্ক গ্রুপ ও ই-টমটম যৌথভাবে কক্সবাজারে ইলেকট্রিক ফোর হুইলার চার্জিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর বনানীতে ই-টমটমের অফিসে এ বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ই-টমটমের ফাউন্ডার ও সিইও মো. জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ইলেকট্রিক গাড়িকে জনপ্রিয় করতে আমরা বাংলামার্ক গ্রুপের এর সঙ্গে কাজ করছি। খুব শীঘ্রই চালু হবে চার্জিং স্টেশন, যেখানে সকল ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক ফোর হুইলার চার্জিং সুবিধা নিতে পারবে।
ছোট্ট এই কার্যক্রমকেই তিনি বলেন “প্রশান্তিদায়ক সূচনা” কারণ এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়, বরং একটি সবুজ ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
বিশেষ আকর্ষণ ছিল অনুষ্ঠানে অতিথি বরণ পদ্ধতি। প্রচলিত ফুলের তোড়ার পরিবর্তে অতিথিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ছোট্ট সবুজ গাছ। জয়নাল আবেদীন বলেন, “ফুলের তোড়া কয়েকদিনেই শুকিয়ে যায়, কিন্তু একটি গাছ দিন দিন বড় হয়, শ্বাস নেয়, বাঁচে। আমরা চাই অতিথিরা যখনই সেই গাছের দিকে তাকাবেন, তখনই ই-টমটমের কথা মনে পড়বে।”
তিনি এই ধারণার নাম দিয়েছেন ‘পেট প্লান্ট’ (পিপি)। তাঁর মতে, অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্য হলে “গাছের সঙ্গে মন খুলে কথা বলা” হতে পারে একধরনের মানসিক প্রশান্তি। সবুজায়ন ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতীক হিসেবে সবুজ রঙকেই বেছে নিয়েছেন তিনি।
“বাংলাদেশকে বদলাতে হলে যে যেভাবে পারে অবদান রাখা উচিত। আমাদের প্রতিবন্ধকতা আকাশসম, কিন্তু সাহস, বিশ্বাস আর সংকল্প হতে হবে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির মতো বিশাল,” বলেন ই-টমটমের এই উদ্যোক্তা।
বাংলামার্ক গ্রুপের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার তন্ময় মজুমদার এবং কো-অর্ডিনেটর মাহবুব শিশির। তারা জানান, “বাংলামার্ক ঋওঅঞঙ ইভি চার্জিং নেটওয়ার্ক সারাদেশে গড়ে তুলছে—যেখানে নির্দিষ্ট কোনো ব্র্যান্ড নয়, বরং সব ধরনের ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জিং সুবিধা নিতে পারবে। এভাবেই আমরা বাংলাদেশের ইলেকট্রিক গাড়ির বিপ্লবে অংশ নিতে চাই।”
পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগ শুধু কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকেই নয়, বরং দেশের পরিবহন ব্যবস্থাতেও আনতে পারে এক নতুন দিগন্ত।