, , ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
পৃথিবীতে কেউ সাফল্যের চামচ নিয়ে জন্মলাভ করে না। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করতে হয়। মানুষ যদি তার লক্ষ্যে অটুট থাকে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে, তবে একদিন সে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছতে পারে। পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক সফল ব্যক্তির নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। যুগে যুগে, কালে কালে, যারা স্মরণীয় ও বরণীয় হয়েছেন, প্রকৃতপক্ষে তাদের সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়। যাদের মধ্যে অন্যতম রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দিন মজুরের ছেলে শাকিল শেখ। তিনি সম্প্রতি বি.সি.এস স্বাস্থ্য ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ খবরে আনন্দিত হয়েছেন তার পরিবার-সহ পুরো গ্রামবাসী।
বিসিএস ক্যাডার হওয়া এক গর্বিত স্বপ্নের নাম। এটি শুধু একটি চাকরি নয়, বরং দেশ সেবা করার এক মহৎ সুযোগ। একজন বিসিএস কর্মকর্তা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। ঠিক এমনি চিন্তা ধারার মাথায় নিয়ে স্কুল জীবন থেকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে কঠোর পরিশ্রম করেছেন শাকিল শেখ। অবশেষে তার সেই আশা পূর্ণ করেছেন সৃষ্টিকর্তা।
শাকিল শেখ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরপুর গ্রামের দিনমজুর মো: আব্দুল খালেক ও মা’ দোলেনা বেগম এর সন্তান। তিনি ৪৮তম বিসিএস পরীক্ষায় স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।শাকিল উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চল কিশোরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং পরবর্তীতে বাঘা শাহদৌলা সরকারি কলেজ থেকে এইচ.এস.সিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পাবনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং সফলভাবে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। শাকিল শেখ তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় ভাই বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে কর্মরত ও ছোট ভাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছেন।
শাকিল শেখ বলেন, আমার ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল বিসিএস ক্যাডার হবো। আল্লাহ পাক আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আমি ৪৬ তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি, যদিও লিখিত পরীক্ষার ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে ৪৮তম বিসিএ’টি শুধুমাত্র ডাক্তারদের জন্য ছিল। আমি নিয়মিত সকল বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি এবং সর্বশেষে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি ।
শাকিল শেখের বাবা আব্দুল খালেক বলেন, ছেলের এই সাফল্যে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। ছোটবেলা থেকেই ওর লক্ষ্য ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার, আজ আল্লাহর রহমতে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমরা পরিবারের সবাই ওর জন্য দোয়া করেছি এবং সকল মানুষের কাছেও তার জন্য দোয়া চাচ্ছি। সে যেনো মানব সেবা প্রদান-সহ দেশের কল্যানে কাজ করে যেতে পারে।
সানশাইন /শামি