, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: টেস্ট ক্রিকেটকে দুই স্তরে ভাগ করার জোর গুঞ্জন চলছে। এনিয়ে জানুয়ারির শেষ দিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ।
অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত যাতে একে অপরের সঙ্গে বেশি ম্যাচ খেলতে পারে সেজন্য টেস্ট ক্রিকেটের জন্য দুই স্তরের কাঠামো প্রবর্তন করার কথা ভাবা হচ্ছে। যা শুনে একদমই বিরক্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি ক্লাইভ লয়েড। যদিও তার মনে হয় না, সেই পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখবে। তবে দুই স্তরের কাঠামো চললে আর্থিক সমস্যা পড়তে পারে র্যাংকিংয়ের নিচে থাকা দলগুলো।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লয়েড, ‘দুই স্তরের কাঠামো বাস্তবায়িত হবে বলে আমার মনে হয় না। এটা নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত। আশা করি, কিছু একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এটা এখনই বন্ধ করা উচিত। আমরা ৩০-৪০টা ক্রিকেট দল নিয়ে কথা বলছি না, এটি কেবল ১০ ( আসলে ১২) দলই খেলে থাকে। আমাদের এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত, যেখানে সব দলই নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবে। ’
‘টেস্ট ক্রিকেট এখনো অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। তবে আমরা সেটাকে এক পাশে ফেলে দিচ্ছি বলেই মনে হচ্ছে এবং আমার মনে হয় সেটা খুব ভালো হবে। আমাদের ভালো কাঠামো তৈরি করতে হবে। সেটা বসে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে এবং টি-টোয়েন্টিই শুধু গুরুত্বপূর্ণ- সেটা বললে চলবে না। শুধু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটই সবাই দেখতে চায় না, আমরা টেস্ট ক্রিকেট দেখতে চাই। কারণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট হলো প্রদর্শনী, আর টেস্ট ক্রিকেট হলো পরীক্ষা। ’
সত্তর-আশির দশকে দাপট দেখানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই রং হারিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই। দুই স্তরের কাঠামো বাস্তবায়ন হলে দলটি আরও ভেঙে যেতে পারে বলে মত লয়েডের। কেননা তখন র্যাংকিংয়ের ওপরে থাকা দলগুলোর নিচে থাকা দলগুলোর ব্যবধান আরও বেড়ে যাবে।
দুটি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লয়েড বলেন, ‘এর ফলে আমরা আর সেই ধরনের ক্রিকেট তুলে ধরতে পারব না, যেটা আমরা বছরের পর বছর ধরে করে এসেছি। কারণ আমরা দ্বিতীয় স্তরে খেলব। ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেললেই কেবল উন্নতি করা সম্ভব। নিজেদের মধ্যে নিম্নস্তরের লিগে খেললে ওপরে ওঠা সম্ভব নয়।
‘টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্য যেসব দেশ এতো কঠোর পরিশ্রম করেছে তাদের জন্য এটি ভয়াবহ হবে। তারা এখন নিম্নস্তরে নিজেদের সঙ্গে খেলবে, যেখানে রেলিগেশন ও প্রমোশনের ব্যবস্থা থাকবে। এটাই যদি হয়, তাহলে তারা চূড়ায় উঠবে কীভাবে? এর চেয়ে ভালো হলো, দলগুলোকে সমান অর্থ ভাগ করে দেওয়া। যাতে তারা উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে পারে। ’
২০২৭ সাল থেকে দুই স্তরের কাঠামো বাস্তবায়িত হলে প্রথম স্তরে থাকতে পারে- অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে।