, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, চারঘাট: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন তুলতে গেলে সেবা গ্রহিতাদের কাছ থেকে জনপ্রতি নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। এভাবে গড়ে প্রতিদিন সেবা গ্রহিতাদের নিকট থেকে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে কোন ধরনের রশিদ ছাড়াই নিয়ম বর্হিভুত ভাবে টাকা গ্রহণ করলেও দেখার কেউ নেই।
অভিযোগ উঠেছে এসব টাকা পরিষদের কয়েকজন মিলে ভাগ ভাটোয়ারা করে নেন। বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে এ প্রতিবেদক ওই পরিষদে গেলে এমন ঘটনা চোখে পড়ে। বিষয়টি সম্পর্কে পরিষদের সচিবের দাবি রশিদ ছাড়া টাকা গ্রহনের কোন নিয়ম নেই। আর প্যানেল চেয়ারম্যানের ভাষ্য এসব টাকা সরকারী কোষাগারে প্রতিদিন জমা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, সরকার ডিজিটাল জন্মনিবন্ধন করতে ৫ বছর পর্যন্ত বাচ্চার জন্মনিবন্ধন ফি ২৫ টাকা এবং ৫ বছরের উপরের জন্য ৫০ টাকা ফি নির্ধারন করে দেয়। কিন্তু সরকারের বেধে দেয়া নিয়মকে তোয়াক্কা না করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সহকারী সচিব মশিউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সেবা গ্রহিতাদের নিকট থেকে জন্মনিবন্ধন ফি বাবদ আদায় করছেন ১০০ টাকা হারে।
এভাবে দীর্ঘদিন ধরে অধিক টাকা আদায় করে আসলেও দেখার কেউ নেই। অভিযোগ উঠেছে সেবা গ্রহিতারা বাধ্য হয়ে সহকারী সচিবকে ১০০ টাকা দিয়ে জন্মনিবন্ধন নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে গরীব অসহায় লোকজন চরম ভাবে বেকায়দায় পড়ছেন।
বুধবার সকালে জন্মনিবন্ধন নিতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, জনপ্রতি ১০০ টাকা হারে দীর্ঘদিন ধরে আদায় করা হচ্ছে জন্মনিবন্ধন নিতে। এটা যেন সরকারী নিয়মে পরিনত হয়েছে। প্রিন্ট দেয়া আগেই বলা হচ্ছে ১০০ টাকা দেন। টাকা দিতে দেরি হলে জন্মনিবন্ধন প্রিন্ট করতেও হচ্ছে দেরি।
রবিউল ইসলামের মত আরও একাধিক ব্যাক্তি এ প্রতিবেদককে বলেন, আজ থেকে কয়েকমাস আগেও একই ভাবে আদায় করা হয়েছে ১০০ টাকা হারে। প্রতিদিন এভাবে আদায় করা হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এ টাকা কোথায় জমা হচ্ছে তার কোন হদিশ নেই।
বিষয়টি সম্পর্কে টাকা আদায়কারী মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সহকারী সচিব মশিউর রহমানকে রশিদ ছাড়া ১০০ টাকা নিচ্ছেন কোন নিয়মে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা সরকারী নিয়মে আদায় করা হচ্ছে। রশিদ না দিয়ে টাকা আদায় প্রসঙ্গে উত্তর দেননি সহকারী সচিব মশিউর রহমান।
বিষয়টি নিয়ে পরিষদের সচিব সাকলায়েন আহম্মেদ বলেন, রশিদ ছাড়া টাকা নেয়ার কোন বিধান নেই। তাছাড়া সরকারী ফি ৫০ টাকা।
পরিষদের চলতি দায়িত্বে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান একরাম আলী সরকার বলেন, আদায়কৃত টাকা সরকারী কোষাগারে জমা করা হয় প্রতিদিন। রশিদ ছাড়া অধিক টাকার বিষয়টি সচিব ভালো বলতে পারবেন বলে দাবি করেন।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের সঙ্গে তার ব্যবহৃত ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অসিম কুমার সরকার বলেন, নিয়মের বাইরে কেউ অধিক টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমান হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।