, , ।
মান্দা প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরুচী রানী হাওলাদের বিরুদ্ধে ১৫০ পিস ঢেউটিন বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের নির্মাণের জন্য পুরাতন ভবন ভেঙে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি সংকট দেখা দেয়। এ অবস্থায় পুরাতন ভবনের ঢেউটিনের সাহায্যে ছাউনি ও বেড়া দিয়ে তিনটি শ্রেণি কক্ষ তৈরি করা হয়।
সম্প্রতি ওই তিনটি শ্রেণি কক্ষ ভেঙে দিয়ে ১৫০ পিস ঢেউটিন স্থানীয় ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদের কাছে বিক্রি করে দেন প্রধান শিক্ষক সুরুচী রানী হাওলাদার। এ কাজে তাকে সহায়তা করেন একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক খায়রুল আলম ও দপ্তরি সাইফুল ইসলাম। তবে কত টাকায় টিনগুলো বিক্রি করা হয়েছে অভিযোগে তা উল্লেখ করা হয়নি।
অভিযোগকারী মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জিন্নাতুন নেছা বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে গত শনিবার ২৫ মে গভীর রাতে বিদ্যালয়ের দপ্তরী সাইফুল ইসলাম কিছু ঢেউটিন ক্রেতার কাছ থেকে ফিরিয়ে এনে প্রতিষ্ঠানে জমা রাখে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের টিন বিক্রি করে সরকারি অর্থ আত্মসাত করেন প্রধান শিক্ষক সুরুচী রানী। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে।
মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শরিফুল ইসলাম অবাক বলেন, শনিবার রাতে একটি চার্জারভ্যানে কয়েক পিস ঢেউটিন নিয়ে আসেন দপ্তরি সাইফুল ইসলাম। এসময় বাজারের নৈশপ্রহরী শরিফ উদ্দিন, চা দোকানি সাইদুর রহমান সহ আশপাশের লোকজন টের পান। এনিয়ে দপ্তরি সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসবাদ করা হলে বিদ্যালয় গেটে তালা লাগিয়ে তিনি সটকে পড়েন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুরুচী হাওলাদার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের টিন বিক্রির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা একেবারেই মিথ্যা। প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি কক্ষে টিনগুলো সংরক্ষণ করা আছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার শামসুজ্জামান বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।