, , ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক মৎস্যচাষীকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগ জানানোর পর উল্টো ওই মৎস্যচাষীসহ এলাকার ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থী ও ওমানপ্রবাসীকেও আসামি করা হয়েছে। মামলাটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন আসামিদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মামলা রেকর্ড করেছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের বুড়াপুকুর বাজারের একটি বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তাঁরা। লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মামলার ১১ নম্বর আসামি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সালমান নাফিম তায়েফের মা নাহিদা আলম। এ সময় অন্য আসামিদের পরিবারের সদস্যসহ এলাকার ২৫ থেকে ৩০ জন বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে নাহিদা আলম বলেন, বিষ্ণুপুর গ্রামের মৎস্যচাষী সাজেদুর রহমান সোহাগ নওগাঁয় ভাড়া বাসায় থাকেন। গত ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজার দশমীর রাতে তিনি বিষ্ণুপুর থেকে নওগাঁয় যাচ্ছিলেন। রাত আটটার দিকে সান্তাহার-নওগাঁ সড়কের বেলালের হিমাগারের কাছে দুর্বৃত্তরা তাঁর পথ আটকে অপহরণ করে। পরে সোহাগের মুঠোফোন থেকে তাঁর প্রতিবেশী হরি চন্দ্রের কাছে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
বিষয়টি সোহাগের পরিবারের সদস্যরা নওগাঁর পুলিশ সুপার, আক্কেলপুর ও আদমদীঘি থানার ওসিকে জানান। পরে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের পর দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে সান্তাহার-নওগাঁ সড়কের মল্লিকা হোটেলের সামনে টাকা নিয়ে অপেক্ষা করেন সোহাগের প্রতিবেশী আসিফ, সম্রাট ও আরিফ হোসেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে মুখ বাঁধা কয়েকজন ব্যক্তি এসে টাকার ব্যাগ নিয়ে সোহাগকে ছেড়ে দেন। হোটেল মল্লিকার সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনা ধারণ হয়েছে বলে দাবি করেন নাহিদা আলম।
তিনি আরও বলেন, অপহরণের ঘটনায় পাশের করমজি গ্রামের আল-আমিনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর গত ২৮ অক্টোবর তাঁকে বুড়াপুকুর বাজারের একটি মুদিদোকানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় আল-আমিন নিজের ভুল স্বীকার করেন। তবে তাঁকে মারধর করা হয়নি।
নাহিদা আলমের অভিযোগ, এর পরই আল-আমিনের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক ১১ জনের বিরুদ্ধে ছেলেকে অপহরণ, মারধর, এক লাখ টাকা ছিনতাই ও জোর করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁর ছেলে সালমান নাফিম তায়েফকে আসামি করা হয়েছে। অথচ ঘটনার দিন তাঁর ছেলে বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছিলেন। একই মামলায় চেচুরিয়া গ্রামের ওমানপ্রবাসী মাহবুব রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদীর এক পরামর্শদাতার সঙ্গে ওই প্রবাসীর পারিবারিক বিরোধ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সোহাগের বাবা জালাল উদ্দিন বলেন, তাঁর ছেলেকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরও উল্টো তাঁর ছেলেসহ এলাকার ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতে তাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তবে মামলার বাদী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, তিনি লেখাপড়া জানেন না। তাঁর এক ভাই মামলার এজাহার লিখে দিয়েছেন। পরে জানতে পেরেছেন, বিদেশে থাকা একজনের নামও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া গেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।