, , ।
কামরুজ্জামান, রাবি প্রতিনিধি :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী থাকলেও মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে করা ওই মামলার তদন্ত নিয়েও সন্তুষ্ট নন হামলার শিকার সাংবাদিকরা।
গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে চারজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
আহত সাংবাদিকরা হলেন দ্য ডেইলি স্টারের রাবি প্রতিনিধি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূর আহসান মৃদুল, আগামীর সময়ের রাবি প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, বিডিনিউজ২৪-এর রাবি প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান কোরবান এবং সমকালের রাবি প্রতিনিধি মাইনুল ইসলাম রাজু।
হামলায় জড়িত হিসেবে যাঁদের নাম বিভিন্ন সূত্রে সামনে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এম আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিব, বিশাল চক্রবর্তী, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম ওথি, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম, সহসভাপতি তকবীর হাসান ইমন এবং সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম।
ঘটনার পর এসব নেতাকর্মীর কয়েকজনকে সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাদীরই দাবি, ‘জোর করে স্বাক্ষর করানো হয়েছে’।
হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে মতিহার থানায় মামলাটি করা হয়। হলের উপ-রেজিস্ট্রার মোনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
তবে মামলার বাদী মোনির হোসেন দাবি করেছেন, মামলার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। এমনকি তাঁকে জোর করে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘৫ তারিখে প্রভোস্ট মাহবুবুর রহমান স্যার সাত্তার ভাই ও আমাকে থানায় যেতে বলেন। আমাকে বলা হয়, আমাদের কিছু করতে হবে না, শুধু থানায় গিয়ে স্বাক্ষর করতে হবে। সেখানে গিয়ে স্বাক্ষর করার সময় দেখি, আসামিদের নাম অজ্ঞাত হিসেবে দেওয়া হয়েছে। আমাকে জোর করে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’
মোনির হোসেন আরও বলেন, ‘হলের প্রভোস্ট আমাকে জানিয়েছেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে রয়েছেন।’
পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি ভুক্তভোগীদের।
হামলার দুই দিন পরও পুলিশ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ না করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা।
হামলার শিকার সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, প্রশাসন শুধু আনুষ্ঠানিকতা পূরণের জন্য মামলাটি করেছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বা দেখা করেনি। সবকিছু দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তারপরও কেন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলো, তা বুঝতে পারছি না।’
বিডিনিউজ২৪-এর রাবি প্রতিনিধি আরিফুজ্জামান কোরবান বলেন, ‘যারা সেদিন আমাদের মারধর করেছে, তারা নিয়মিত ফেসবুকে পোস্ট করছে। অথচ হল প্রশাসন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘তাদের কয়েকজনকে ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার কারণে ছাত্রদল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তারপরও প্রশাসন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে। একবার হামলার শিকার হওয়ার পর এখন আবার হামলার আশঙ্কা নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।’
তদন্ত কোথায়, জানেন না ওসি :
মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্জুন বলেন, তিনি ২ অক্টোবর থেকে রাজশাহীর বাইরে ছিলেন এবং গতকাল শহরে ফিরেছেন। মামলার তদন্তের বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত জানেন না।
তিনি বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তাকে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। তিনি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না, সেটি আমি দেখব।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।
হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও মামলায় কারও নাম না থাকা, দুই দিনেও কাউকে গ্রেপ্তার না হওয়া এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ না করার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। তাঁদের দাবি, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
কামরুজ্জামান /শাহজাদা