আঙ্গুর চাষে সাফল্যের প্রত্যাশা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবাসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে শখের পরিবর্তে এখন বাণিজ্যিকভাবে মিষ্টি আঙুরের আবাদ ও চাষিরা আগ্রহী হয়ে উঠছে। পবা ও আশেপাশের উপজেলার উদোক্তারা বাইকুনুর ও একলোর মতো বিদেশি জাতের চাষে সফল হয়ে ভালো ফলন পাচ্ছেন বলে আভাস দিচ্ছেন।
রাজশাহীতে স্ট্রবেরি, মাল্টা, ড্রাগনের পর এবার বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে আঙ্গুরের। জেলার বাগমারা, দুর্গাপুর ও গোদাগাড়ী উপজেলার পাশাপাশি পবার চাষিরাও ঝুকছেন এই চাষে। আর তরুণ কৃষকরাই আগ্রহী হচ্ছেন জনপ্রিয় এ ফল চাষে। রাজশাহীর আবহাওয়ায় ফল সুমিষ্ট হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে আঙ্গুর বাগানের পরিধি। কৃষকের ক্ষতি কমিয়ে বাণিজ্যিক সাফল্য আনতে সহায়তা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অদিধপ্তর।
শনিবার সরোজমিন পবার বসন্তপুর গ্রামের মাঠে বিস্তর জমিতে অসংখ্য কংক্রিট খুঁটি দেখা যায়। আরো কাছে গিয়ে দেখা গেল এসব খুঁটির ঢালেই বেড়ে উঠছে আঙ্গুরের সবুজ গাছ। এমন নজরকাড়া দৃশ্য দেখতে নেমে যাওয়া হলো একদম জমির ওপরে। জানা গেল একই উপজেলার বায়া এলাকার মাহবুব ও সম্রাট নামের দুই যুবক এই আঙ্গুরের ক্ষেত করছেন। সেখানে সম্রাটের সাথে দেখা হলো-কথা হলো। এই তরুণ কৃষক জানান এখানে ৪ বিঘায় এবং বায়া এলাকায় একবিঘা জমিতে জমিতে তারা আঙ্গুরের চাষ করেছেন। বাগানে রয়েছে বাইকুনুর, অ্যাপোলো, দাসুনিয়া, অস্ট্রেলিয়ান কিং জাতের আঙ্গুর।
সম্রাট বলেন, আঙ্গুর চাষের একাডেমিক প্রশিক্ষণ না থাকলেও অন্যান্য স্থানের অর্থাৎ রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায়, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও নাটোরসহ অনেক স্থানের আঙ্গুর ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন তারা। এক একটি ক্ষেত দেখলে প্রাণ জুড়াইয়া যায়। স্বপ্ন ছিল উদ্যোক্তা হব-নিজের প্রতিষ্ঠান বা ক্ষেতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান করবো-তাই এই আবাদে উদ্বুদ্ধু হওয়া। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আঙ্গুর চাষে প্রথমেই অনেক খরচ করতে হয়। এ জন্য অনেকের ইচ্ছা থাকা সত্বেও এই চাষ করেন না।
তিনি বলেন, গাছে ফল আসার বা উৎপাদনে যাওয়ার আগেই প্রতিবিঘা জমিতে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়। অবশ্যই রোপনের কিছুদিন পর থেকেই ফলন পাওয়া সম্ভব। গাছের যত্ন ও বেড়ে উঠার জন্য তখন ওগুলোকে ছেঁটে ফেলতে হয়।
এপর্যন্ত তাদের এই বাগানে দুই হাজার পঞ্চাশ (২০৫০) টি চারা রোপন করা হয়েছে। রোগমুক্ত ও ভালভাবে যত্ন নিলে প্রায় ৩০ বছর ধরে ফল পাওয়া সম্ভব। রাজশাহীর এক উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছূক এক চাষি জানান, চলতি মৌসুমে বাগানের ৩৬০টি গাছ থেকে এই কৃষক আঙ্গুর পেয়েছেন প্রায় ৭ হাজার কেজি। যার বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা। তার মতো জেলার তিন উপজেলায় ৩০ থেকে ৩২ জন কৃষক ৪ হেক্টর জমিতে আঙ্গুরের চাষ করছেন। তাদের সাফল্যে বাগান করার স্বপ্ন বুনছেন জেলার অন্য কৃষকরাও। বাগান দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও নতুন উদ্যোক্তারা।
ওখানে দেখা হয় দুলাল নামের একজন নতুন চাষির সাথে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মাটিতে হবে কি হবে না তার জন্য এখানে এসেছি। পরীক্ষামূলক দু-তিনটা চারা লাগাবো। পরীক্ষা করার পর যদি দেখি হয়, তাহলে আমরাও এই আবাদ করার চিন্তাভাবনা করছি।’
তবে এর আগে রাজশাহীর চাষিরা চেষ্টা করেও আঙ্গুর চাষে ভালো ফলাফল পাননি। এখন আবহাওয়ার পরিবর্তন ও পলিশেড হাউসে সাফল্য আসায় কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। সফল বাণিজ্যিক উৎপাদনে বহুমূখী সহায়তা বাড়িয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও।
এদিকে আবাদের ব্যাপারে কথা বলার জন্য পবা উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা এম এ মান্নানকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে এক কর্মকর্তা বলেন, পবাসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি পরীক্ষামূলক আঙ্গুর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


প্রকাশিত: August 4, 2026 | সময়: 4:19 am | সুমন শেখ

আরও খবর