, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন তিনি অনেক আগেই পূরণ করেছেন। কিন্তু বড় ম্যাচ এলেই লিওনেল মেসি কেন এখনও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা, সেটিই যেন আবারও প্রমাণ করলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে।
গোল না করেও শেষ মুহূর্তে দুইটি অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলের নাটকীয় জয় এনে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন অধিনায়ক। বুধবার রাতে আটলান্টায় ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
সময় যত গড়িয়েছে, আর্জেন্টিনার আক্রমণের চাপ ততই বেড়েছে। সেই চাপের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছিলেন মেসি। ৮৫ মিনিটে তার বাড়ানো বল থেকেই দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান এনসো ফার্নান্দেস। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মেসির ভাসানো নিখুঁত ক্রসে লাউতারো মার্তিনেসের হেড! আর তাতেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
ম্যাচ শেষে আবেগ লুকাননি মেসি, ‘এটা বিশেষ এক অনুভূতি। আমরা সবাই বুঝতে পারছিলাম, আর্জেন্টিনার মানুষ এই ম্যাচটি কতটা জিততে চেয়েছিল। আমরাও তাই চেয়েছি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই লড়াই সবসময়ই আলাদা গুরুত্ব বহন করে।’ ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ কিংবা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র মতো কোনো গোল এদিন করেননি মেসি। তবে দুইটি অ্যাসিস্ট দিয়েই তিনি আবারও হয়ে উঠেছেন ম্যাচের ভাগ্যনিয়ন্তা। চার বছর আগে কাতারে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়কের সামনে এখন সেই শিরোপা ধরে রাখার হাতছানি।
এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় এবং ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে যাচ্ছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। ২০১৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে হারের হতাশা পেরিয়ে ২০২২ সালে শিরোপা জিতেছিলেন। এবার আবারও বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তার উপস্থিতি।
মেসির কণ্ঠেও ধরা পড়েছে সেই বিস্ময়ও, ‘টানা দুইটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলাটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’ ম্যাচের বেশির ভাগ সময় লিওনেল মেসিকে খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়নি। তবে তার মতো খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন হয় কয়েকটি মুহূর্ত দিয়েই! অন্য অনেক ম্যাচের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের শেষ দিকে দুইটি নিখুঁত অ্যাসিস্টে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। আর তাতেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ফাইনাল।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও মেসির সেই সামর্থ্যের প্রশংসা করেছেন, ‘ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আমরা তাকে ভালোভাবেই সামলেছি। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের একজনের পায়ে শেষ তৃতীয়াংশে বল গেলে সে যে কোনো সময় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। আজও সে সেটাই করেছে। এ কারণেই সে সর্বকালের অন্যতম সেরা।’
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলের চোখেও মেসির ভূমিকা ছিল দুর্দান্ত, ‘সে যে দলেই খেলুক, সেই দলের নেতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।’ এদিকে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাসের আরও কাছে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা। ইতিমধ্যে একটি রেকর্ড অক্ষুন্ন রেখেছে আলবিসেলেস্তেরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনো কোনো সেমিফাইনালেই হারেনি তারা। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই তারা পৌঁছে গেছে আরেকটি ফাইনালে। রোববার স্পেনকে হারাতে পারলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।
আর মেসির সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় ইতিহাস। ২০১৪, ২০২২ ও ২০২৬—এই তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে নামলে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার নজির গড়বেন। মেসির জন্য রোববারের ফাইনালের ম্যাচটি বেশ আবেগেরও! বার্সেলোনার জার্সিতে দুই দশকের বেশি সময় কাটানো মেসির জন্য ম্যাচটি বাড়তি আবেগেরও। স্পেনের মাটিতে নিজেকে কিংবদন্তি হিসেবে গড়ে তোলা এই ফুটবলার এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই দেশের বিপক্ষেই নামবেন আরেকটি শিরোপার লড়াইয়ে। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন লিওনেল মেসি। এবার তার সামনে নতুন লক্ষ্য, শিরোপা ধরে রেখে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করা। সেই সঙ্গে নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, যেখানে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কে আর কোন প্রশ্ন থাকবে না!
বিশ্বকাপে মেসির অর্জন: বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ: ৩৩টি (৬টি আসর), বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা: ২১ গোল, ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত: ৮ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট ও টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল।