, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, যারা শিশুদের নির্যাতন বা ধর্ষণ করে, তাদের জন্য দেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার আমলে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। এরপরও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে এবং সবাইকে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।
শুক্রবার ২২ মে বিকেলে বাংলা হিলিতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি সারাদেশে আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনায় সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে বলে আমরা আশাবাদী। সরকার চায় এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। ‘অপরাধী যে দলেরই হোক, নিজ দলের কিংবা বিরোধী দলের, আইনের চোখে সবাই সমান। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, দেশে সন্ত্রাস, মাদক ও মব সংস্কৃতি প্রতিরোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৮ দিনের মাথায় সরকার ফ্যামেলি কার্ড কার্যক্রম চালু করেছে। তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ২ কোটি পরিবারকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা ও সুবিধা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। কোনো মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে, চিকিৎসা ও মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
বক্তব্য শেষে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য অনুদান প্রদান করেন মন্ত্রী। তিনি হিলি মাদরাসায় ৫ লাখ টাকা, পাউসগাড়া মাদরাসায় ৩ লাখ টাকা, চন্ডিপুর মন্দিরে ৩ লাখ টাকা, চন্ডিপুর মসজিদে ৩ লাখ টাকা এবং দক্ষিণ বাসুদেবপুর আদিবাসী মিশন মন্দিরে ৩ লাখ টাকা অনুদান দেন। সব মিলিয়ে মোট ১৭ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়।
সভায় ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, হিলি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ, হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহীনুর ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি পারুল নাহার, যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক এস এম রেজা বিপুল, পৌর বিএনপির সভাপতি মিঠু খান, সাধারণ স¤পাদক নাজমুল হকসহ দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।