সর্বশেষ সংবাদ :

পবায় নিজ বাড়িতে হামলার বিচার চান বিএনপি নেতা বাদশা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলা তাঁতীদলের সভাপতি ও পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বাদশার বাড়িতে হামলা,লুটপাট এবং মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় দামকুড়া থানায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত রবিবার (১৮ এপ্রিল) হরিপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা সাহেব জাদা এবং ববির নেতৃত্বে বাদশার বাড়িতে একদল কিশোর গ্যাং এবং বহিরাগত আনুমানিক ২০জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে কুতুব উদ্দিন বাদশার মা,ভাই, ভাতিজা সহ ৪-৫ জন গুরুতর আহত হয় এবং তাদের কাছে থাকা নগদ অর্থ লুট হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকিও প্রদান করে উপস্থিত সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় বাদশার মা সাহেদা বেগম বাদী হয়ে দামকুড়া থানায় ৬ জনসহ অজ্ঞাত ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।
দামকুড়া থানা এই ঘটনায় কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন কুতুব উদ্দিন বাদশা। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার বিচার চেয়েছেন দলের সর্ব্বোচ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,“আমি কুতুব উদ্দিন বাদশা, রাজশাহী জেলা তাঁতীদলের সভাপতি এবং পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক। স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের সময়ে জেল জুলুম সহ্য করে দলের জন্য কাজ করেছি দীর্ঘদিন। আমার এই ইউনিয়ন থেকে আমি বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনকে শক্তিশালী এবং একত্রিত করেছি। এছাড়াও জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাড.শফিকুল হক মিলন ভাইয়ের জন্য কাজ করেছি।”
কুতুব উদ্দিন বলেন, “ইদানিং লক্ষ্য করছি কিছু হাইব্রিড নেতা দলের নাম খারাপ করার জন্য বিভিন্ন উপায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য পাঁয়তারা করছে। গত রবিবার কিছু কিশোর গ্যাং আমার বাড়ির সামনে মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার খুলে বিকট শব্দ করছিল। আমার মা অসুস্থ থাকায় তাদেরকে এগুলো কাজ করতে মানা করা হলেও তারা শোনেনি। পরে সেই কিশোর গ্যাংদের কয়েকজন সদস্যের সাথে আমার পরিবারের লোকদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সেদিন রাতে এই ইউনিয়নের নেতা সাহেব জাদা ও ববি তাদের দু’জনের নেতৃত্বে আমার পরিবারের লোকদের উপরে অমানবিক হামলা চালানো হয়। পরে আমি বাঁধা দিতে গেলে তারা আমার উপরেও হামলা চালায়। আমার মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকাও তারা ছিনতাই করে। আমার পরিবারের তিনজন তাদের হামলায় আহত হয়।”
ক্ষমতায় থাকার পরেও হামলা হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন,“আমি নিজে বিএনপি নেতা হয়েও আরেক বিএনপি নেতার কাছে মার খাচ্ছি। বিগত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলেও জেল খেটেছি, মার খেয়েছি। এখন আমাদের দল ক্ষমতায় তার পরেও আবার আমাদের উপরে হামলা হচ্ছে। ”
প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানিয়ে কুতুব উদ্দিন বাদশা বলেন,“আমি আমার দলের প্রধান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে আমি এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই এবং এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি জানাচ্ছি। আমরা দলের ত্যাগী পুরানো কর্মী, আমি আমার দলের কাছেও সহযোগীতা চাই।”
এই ঘটনায় কুতুব উদ্দিন বাদশার মা সাহেদা বেগম আরএমপি দামকুড়া থানায় উপস্থিত হয়ে সাহেবজাদাকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাহেব জাদা মুঠোফোনে বলেন,“গ্রামবাসীর ভিতরের ঝামেলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে কেন সেটাই বুছতে পারছি না। আমি হরিপুর ইউনিয়নে ভোট করবো সেজন্য আমার পিছনে তারা লেগেছে। সে (কুতুব উদ্দিন বাদশা) হরিপুরে ভোট করবে, আমিও করবো। দল যাকে সমর্থন বা মনোনয়ন দিবে আমি তার পক্ষে হয়ে কাজ করবো। কিন্ত এই ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে যেগুলো অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”


প্রকাশিত: April 23, 2026 | সময়: 7:13 am | সুমন শেখ

আরও খবর