, , ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নাবালিকা শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ অভিযোগে ইকবাল হোসেনকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল। ইকবাল বনপাড়া পৌর ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক।
রোববার বেলা ১১টার দিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও সম্পাদক মারুফ ইসলামের অনুমোদন সাপেক্ষে দপ্তর সম্পাদক আসিফ ইকবাল নতুনের স্বাক্ষরিত পত্রে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। বহিষ্কারাদেশের বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় বনপাড়া পৌর ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম-আহ্বায়ক ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইকবাল হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি ধর্ষণ নয়, তারা দুজন নিয়মানুযায়ী বিয়ে করেছেন বলে ইকবালের স্বজনদের দাবি।
এর আগে, শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের বাবার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেনের স্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হোসেনসহ তার স্বজনদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। এ সময় ছাত্রদল নেতার শ্বশুর ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতার স্ত্রী বলেন, বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌরসভার গুরুমশৈল মহল্লার ফারুক হোসাইনের ছেলে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ও পৌর ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেনের সঙ্গে ২০১৭ সালের মে মাসে পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়। আমাদের ৫ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। বছর খানেক ধরে ইকবাল আমার ১৬ বছর বয়সী ছোট বোনকে ফুসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে।
ঘটনা জানার পর ইকবালকে বিভিন্নভাবে বোঝানো হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি ইকবাল রাজনৈতিক কাজে বাড়ি ফিরতে দেরি হবে জানিয়ে রাত ১১টার দিকে আমার বাবার বাড়িতে আসে এবং বোনকে ফুসলিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
গত সপ্তাহে বোন অসুস্থ হয়ে পড়লে জানতে পারি, সে তার দুলাভাই দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এরপর গত ৩ এপ্রিল থেকে আকস্মিক নিখোঁজ হয় ছোটবোন। এ ব্যাপারে থানায় জিডি করার পর গত শুক্রবার বিকেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বাবার জিম্মায় দেয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইকবাল কয়েকজনকে সাথে নিয়ে এসে জোরপূর্বক তার বোনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়।
এ সময় বাবা-মার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়ে বোনকে উদ্ধার করে। সেখানে ইকবালকে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে ইকবালের ছোট ভাই স্থানীয় সংবাদ কর্মী মাহবুবকেও বেপরোয়া মারপিট করে তারা। পরে স্থানীয়রা তাদের দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতার শ্বশুর বলেন, আমি আমার দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার অভিযোগে ইকবালের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছোট ভাই সংবাদ কর্মী মাহবুব বলেন, আমার ভাই তার শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন, তাদের কাবিন নামা আছে। বিয়ে করা স্ত্রীকে আবার ধর্ষণ করা হয় কিভাবে। মূলত রাজনৈতিক কারণে একটি পক্ষ আমার ভাই সহ আমাকে হেনস্থা করছে। এ সময় মাহবুব দাবি করেন, তার ভাই প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েই এ বিয়ে করেছেন।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালাম জানান, ভুক্তভোগীর পিতা অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।