সর্বশেষ সংবাদ :

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ,কতটা কার্যকর হবে ?

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা:
রাজশাহীর বাঘায় জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় ফুয়েল কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বৃহস্পতিবার একটি সভা আহ্বান করে এ সিদ্ধান্ত নেন। সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর এ উদ্যোগকে সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে খোলা বাজারে তেলের সিন্ডিকেট গড়ে তোলা ব্যক্তিদের কেউ সভায় উপস্থিত ছিলেন না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

সভায় উপস্থিত এক শিক্ষক জানান, জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর উদ্যোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই পদ্ধতি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটিকে সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি পেট্রোল পাম্পের জন্য উপযোগী হলেও খোলা বাজারে যাদের একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে, তাদের ফুয়েল বিক্রি বন্ধ হয়নি। বরং তাদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দু’জন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, খোলা বাজারে ফুয়েল বিক্রেতারা এখন অধিকাংশ কাজ রাতের আঁধারে পরিচালনা করছেন।

এদিকে সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ফুয়েল কার্ড চালুর মাধ্যমে নির্দিষ্ট খাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমবে এবং কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হতে পারে। বিশেষ করে পরিবহন ও কৃষি খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ব্যবহারকারীর জ্বালানি গ্রহণের হিসাব ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা যাবে। এতে অপচয় কমবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, সরবরাহ নিজেই সীমিত থাকলে শুধু কার্ড চালু করে সংকট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে, ভোক্তাদের একাংশের আশঙ্কা, এই পদ্ধতি চালু হলে সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি পাওয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যদি পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও নজরদারি না থাকে। তারা আরও বলেন, ফুয়েল কার্ড পাওয়ার জন্য যে শর্তগুলো আরোপ করা হয়েছে, তা অনেকের ক্ষেত্রেই পূরণ করা কঠিন। কারো মোটরসাইকেলের লাইসেন্স আছে কিন্তু ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, আবার অনেকের কোনো কাগজপত্রই নেই।

সার্বিক বিষয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার বৃদ্ধি, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং সাশ্রয়ী ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলা। সব মিলিয়ে, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা আনতে সহায়ক হতে পারে, তবে সংকট পুরোপুরি নিরসনে এটি একটি আংশিক সমাধান হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, বাঘায় একটি মাত্র পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এখানে গড়ে একদিন পরপর পেট্রোল সরবরাহ করা হয়। তবুও সংকট পুরোপুরি কাটছে না। অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই একবার ফুয়েল নেওয়ার পর আবার লাইনের পেছনে গিয়ে দাঁড়ান। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই ফুয়েল কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নুরুজ্জামান /শামি


প্রকাশিত: April 10, 2026 | সময়: 10:51 am | Daily Sunshine

আরও খবর