, , ।
মান্দা প্রতিনিধি: নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলায় মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু কাঁচা ও আধাপাকা বসতবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। একই সঙ্গে কলাবাগান, পেঁপে বাগান, ভুট্টা ও হালি পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের খেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
রোববার রাত প্রায় ১০টার দিকে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের সঙ্গে ছিল শিলাবৃষ্টি। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা এই ঝড়ে অনেক বসতবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায়। এছাড়া আম, কাঁঠাল, ইউক্যালিপটাস, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙে পড়ে। শিলাবৃষ্টির কারণে হালি পেঁয়াজের খেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় এক হাজার ৫ হেক্টর জমিতে কলা, সাত হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ১৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে গম, ২১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আলু এবং ৯ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে কিছু ফসল উত্তোলনের পর বর্তমানে এক হাজার ৫ হেক্টর জমিতে কলা, সাত হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ১৭ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে গম, দুই হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে আলু এবং ৪১৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রয়েছে। এরই মধ্যে আকস্মিক কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ২২৫ হেক্টর জমির কলা, ২১৬ হেক্টর জমির ভুট্টা, ২১৬ হেক্টর জমির গম, ২৫ হেক্টর জমির আলু এবং ৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি আক্রান্ত হয়েছে।
আর্থিক ক্ষতির হিসেবে কষলে দেখা যায়, ঝড়ে ১৬৭ কোটি টাকার কলা এবং পাঁচ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভুট্টা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে।
মান্দা উপজেলার কলাচাষি গোলাম রাব্বানী জানান, তার ১০ কাঠা জমির কলাবাগানের প্রায় প্রতিটি গাছে কাঁদি ধরেছিল। ভালো দামে কলা বিক্রির আশা করলেও ঝড়ে বাগানের প্রায় সব গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নাড়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জামিনুর রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন তিনি। গাছে সবে কাঁদি আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু ঝড়ে সব গাছ ভেঙে যাওয়ায় ওই জমি থেকে এখন আর কোনো ভুট্টা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাসিন্দা জামিনুর রহমান জানান, রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর হঠাৎ পশ্চিম আকাশে মেঘের গর্জন শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় প্রবল ঝড়। এতে তার বসতবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং ঘরের ঢেউটিন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন নতুন টিন না লাগালে ওই ঘরে বসবাস করা সম্ভব নয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলাবাগান ও ভুট্টার খেত। পাশাপাশি হালি পেঁয়াজের খেতেও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে বসতবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি নিজেও কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে উপজেলা কৃষি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবাব ফারহান বলেন, ঝড়ে আমার উপজেলায় প্রতি হেক্টরে প্রায় ৭৫ লাখ ২৬ হাজার ৮৮১ টাকার কলা এবং দুই লাখ ৭০ হাজার টাকার ভুট্টা নষ্ট হয়েছে। কলা, পেঁপে, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, গতরাতের ঝড়-বৃষ্টিতে যেসব জমির কলা, ভুট্টা এবং পেঁপে আক্রান্ত হয়েছে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়। এটি চাষিদের চূড়ান্ত ক্ষতি। তবে আলু ও কিছু শাসসবজির জমিতে জমে থাকা পানি শুকিয়ে গেলে, সেখান থেকে কিছু ফসল চাষিরা বিক্রি করতে পারবেন।