, , ।
সবুজ ইসলাম: রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) অনেকটাই সুনিশ্চিত ছিল এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাবেন বিএনপির ত্রাণ ও পূর্ণবাসন বিষয়ক কমেটির সহ-সভাপতি ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। এর আগেও এই আসনে ধানের শীষের কান্ডারি ছিলেন রাজশাহীর এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
গত সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হলে তাঁর নাম নিশ্চিত হয়। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই রাজশাহী-৩ আসনের তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
দুই উপজেলার (পবা-মোহনপুর) তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা জানান, শফিকুল হক মিলন দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সবসময় দলের কর্মীদের পাশে ছিলেন এবং এলাকার জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। স্বৈরাচার হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন এই অঞ্চলে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। সাধারণ কর্মীরা জানান, ‘যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য একজন নেতাকে মনোনয়ন দেয়ায় বিএনপির তৃণমূলের মনোবল আরও বেড়েছে।’
পবা উপজেলার ১ নম্বর দর্শনপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, “গত ১৭ বছর পবা-মোহনপুরের সাধারণ কর্মীদের পাশে ছিলেন মিলন ভাই। এই অঞ্চলে বিএনপির গুরুদায়িত্ব ছিল মিলন ভাইয়ের উপরে। আওয়ামী নির্যাতনে সাধারণ কর্মীদের পাশে ছিলেন এবং জেলা জুলুম ও অত্যচার সহ্য করে তিনি দুই উপজেলার সমস্ত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। আমরা আশা করছি সামনের নির্বাচনে এই আসন থেকে মিলন ভাইকে সব্বোর্চ ভোটে জয়যুক্ত করে দেশনায়ক তারেক রহমানকে উপহার দিব।”
পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ বলেন,“মিলন ভাই বিপদে আপদে কর্মীদের পাশে থাকেন সবসময়। বিগত দিনে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর পবা-মোহনপুরের প্রতিটি অলিতে-গলিতে বিচরণ করে বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন। সামনের জাতীয় নির্বাচনে এমপি পদে আমরা তৃণমূলের পক্ষ থেকে মিলন ভাইকেই চেয়েছিলাম, দল আমাদের আশাহত করেনি। মিলন ভাইকেই এই অঞ্চলে আবারো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা মিলন ভাইয়ের নেতৃত্বেই আগামী সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবো।”
রাজশাহী জেলা যুবদলের সদস্য ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন,“পবা-মোহনপুরে অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তার ভিতর থেকে দেশনায়ক তারেক রহমান মিলন চাচাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। মিলন চাচা মনোনয়ন পাওয়াই আমরা সকলে খুশি। কারণ তিনি, বিগত দিনে আমাদের পাশে ছিলেন।”
পবা-মোহনপুরে মিলনের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী জানিয়ে মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো বলেন, মিলন ভাই সেই ২০১৩ সাল থেকে পবা-মোহনপুরে রাজনীতি করে আসছেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে এখানে আছেন। তার একটি ম্যাসেজে, একটি প্রগামে হাজার হাজার লোক জড়ো হয়। পবা-মোহনপুরে মিলন ভাইয়ের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তিনি আরো আগে এই আসনে এমপি হওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকারের কারণে হতে পারেননি। আশা করছি এইবার বিপুল ভোটে তিনি এই আসনে বিজয় লাভ করবেন।”
জানতে চাইলে রাজশাহী-৩ আসনের ধানের শীষের প্রাথী আ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, “বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। এই দলে আমাকে একটি আসনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সামনের নির্বাচনে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। নির্বাচন যাতে না হয় সেজন্য একটি মহল দেশে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা আমাদের দলের সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষের জন্য কাজ করছি। পবা-মোহনপুরে ধানের শীষের জোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি সামনের নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।”
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, শফিকুল হক মিলনের নেতৃত্বে রাজশাহী-৩ আসনে দল আরও শক্ত অবস্থানে যাবে এবং নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার অভিজ্ঞতা এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা মিলনের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে আসন্ন নির্বাচন।