, , ।
মতলুব হোসেন, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি বছর হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে বা¤পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি, পাশাপাশি তারা অর্থনৈতিক ভাবেও লাভবান হচ্ছেন। বাম্পার ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় আগামী মৌসুমে এ উপজেলায় হাইব্রিড লাউ চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী হাইব্রিড জাতের এই লাউ সারা বছর চাষযোগ্য হওয়ায় এলাকার কৃষকদের কাছে এটি একটি লাভজনক ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় লাউ চাষি মাদব, হান্নান, লুৎফর, আসাদ, আলাল, তসলিম সহ বেশ কয়েকজন লাউচাষির সাথে আলাপকালে তারা জানান, ‘লাউ আগে শুধু শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু এখন আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে সারা বছরই লাউ চাষ করা যাচ্ছে। এখন আমাদের মাঠে সারি সারি গাছে ঝুলছে অগণিত লাউ।’ অন্যান্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভজনক ও উৎপাদনে খরচ কম হওয়ায় এ উপজেলায় প্রতি বছর বাড়ছে লাউচাষ।
তারা আরও জানান, চারা লাগানোর মাত্র ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যেই গাছে ফল আসা শুরু করে। প্রতিটি লাউয়ের গড় ওজন ২ থেকে ৩ কেজি এবং একেকটি গাছ টানা তিন মাস পর্যন্ত ফল দিতে সক্ষম। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর লাউচাষ অনেক বেড়েছে।
উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হাতিয়র গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম জানান, ‘আমি এবার ৩০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছি। সব খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে। প্রতিটি লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছি। লাউ চাষে খরচ কম, আবার বাজারে চাহিদা বেশি। অনেকেই সরাসরি ক্ষেত থেকে লাউ কিনে নিয়ে যেোচ্ছন।
তিনি জানান, লাউ উৎপাদন শেষ হলে একই জমিতে টমেটো ও শিম চাষ করবেন। আরেক চাষি আব্দুল খালেক বললেন ‘অল্প জমি, অল্প শ্রম ও সীমিত পুঁজি নিয়ে লাউ চাষ করা সম্ভব। বাজারে চাহিদা থাকায় সপ্তাহে দুদিন ক্ষেত থেকে লাউ কেটে বিক্রি করি। এতে ভালো আয় হচ্ছে।’ চলতি বছরে আলু চাষে লোকসানের অনেকটায় পুরন হচ্ছে লাউ চাষে। এছাড়া লাউ বিক্রি করতে বাজারেও যেতে হয় না। জমি থেকেই পাইকড়রা কিনে নিয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে প্রতি লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তাই আগামী বছরে আমি আলুর পরিবর্তে আরও বেশি জমিতে লাউ চাষ করব।
কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ বলেন চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লাউয়ের বা¤পার ফলন হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে চাষিদের সহায়তা করা হচ্ছে। ধান ও আলুর তুলনায় লাউ চাষে খরচ কম ও বেশি লাভ হওয়ায় চাষিরা দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন।’