, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, তানোর: রাজশাহীর তানোরে তুলসী রানী (৩৫) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই গৃহবধূ দুই সন্তানের জননী। এ ঘটনায় স্বামী প্রদীপ চন্দ্রসহ (৪৫) তিনজনকে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন গৃহবধূর পিতা।
প্রদীপ চন্দ্রকে শুক্রবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার তানোর পৌর এলাকার তালন্দ নাপিতপাড়ায়। তুলশী রানীর বাবার পরিবারের দাবি এটা আত্মহত্যা নয়, তাকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে।
সরজমিনে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, বাগমারার বিরকয়া গ্রামের অনীল চন্দ্র প্রামাণিকের মেয়ের সঙ্গে তালন্দ নাপিতপাড়ার প্রদীপ চন্দ্রের বিয়ে হয় ১৮ বছর আগে।
দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। বর্তমানে মৃত তুলশী রানীর শ্বশুর বাড়িতে তার দুই ছেলে-মেয়ে সহ বৃদ্বা শাশুড়ি রয়েছে। দুই ননদ লক্ষ্মী রানী ও ববি রানী বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
প্রত্যাক্ষদর্শী নাসিমা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকে স্বামী সহ অবিবাহিত দুই ননদ লক্ষ্মী রানী ও ববি রানী মিলে তুলসী রানীকে কারণে অকারণে মারপিট করতো। ঘটনার দিন প্রথমে তুলসীকে তার স্বামী মারপিট করে। আমি শুনেছি তুলশীকে মারপিট করার সময় তার মুখে ওই দুই ননদ উড়না ঢুকিয়ে দেয়। যাতে করে কেউ তার কান্না শুনতে না পারে। আমার মনে হয়, তারা তিনজন মিলে সন্ধ্যার আগে তুলশীকে মেরে ফেলেছে।
ওই গ্রামের আনসার আলী বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আমরা যখন শুনলাম তুলশী রানী তার নিজ ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে। আমি সহ আরো অনেকেই ঘরের মধ্যে গিয়ে দেখি ঝুলন্ত লাশ লটকে ছিল। কিন্তু মাটিতে পা ঠেকে ছিল। মনে হচ্ছিল না সে গলায় দড়ি দিয়েছে। তাকে কৌশল করে মেরে ফেলা হয়েছে। তুলশীর দুই হাতে ও পাশে মাটি কাদা লেগেছিল।
আমরা গ্রামবাসি প্রশাসনের কাছে দাবি করছি তুলশীর দুই ননদ লক্ষ্মী ও ববি সহ তার স্বামীর শান্তি হোক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রদীপ চন্দ্রের বাড়ির পাশের আত্মীয়রা অনেকে বলেন, প্রায় প্রায় তুলশী রানীকে প্রদীপ ও তার অবিবাহিত দুই বোন লক্ষ্মী ও ববি মারপিট করতো। তাদের অত্যাচারে সে তার বাবার বাড়ি বাগমারায় চলে গিয়েছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন একাধিকবার তুলশীকে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। তুলশী ভালো মেয়ে। গ্রামের সকলে তাকে ভালো জানেন।
তুলশী রানীর ছোট ভাই উত্তম কুমার প্রামানিক বলেন, আমার বোনকে তারা মেরে ফেলে দড়িতে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে। বিকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে থেকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাগমারায় আনা হয়েছে। আমার বোনের শেষ সমাধির কাজ সম্পন্ন করা হবে।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।