, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে রাজশাহীতে বিভিন্ন জায়গায় শোক পালন, বিক্ষোভ ও গায়েবানা জানাজা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২জুলাই) দিনব্যাপি এই কার্যক্রম করে নগরীর স্থানীয় জনগন সহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এদিকে এই ঘটনায় রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং মসজিদ গুলোতে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি আহতের সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়।
রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাবি গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। সমাবেশে বিমান দূর্ঘটনাটিকে রাষ্ট্রের কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে ছাত্রনেতারা বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে নিহতদের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাছাড়া ঘটনার দায়ভার কাঁধে বিমান বাহিনীর প্রধানকে পদত্যাগের দাবিও জানান তাঁরা। সমাবেশে অন্যদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের রাবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার আলিফ, ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সরকার প্রমুখ বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের রাবি শাখার সভাপতি রাকিব হোসেন, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক তারেক আশরাফ, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরা, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক আহ্বায়ক জান্নাতুল নাঈম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সদস্য মারুফ হাসান জিসান, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সদস্য আল আশরাফ রাফি প্রমুখ।
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় যোহরের নামাজের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। গায়েবানা জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। এবিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা বলেন, ‘এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা তাদের বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া করছি এবং তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীরা যে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে, আমরা তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি। আমরা জানতে পেরেছি অন্তবর্তী সরকার তাদের দাবি গুলো মেনে নিয়েছে। তবে আমাদের আহ্বান থাকবে, চাপ থেকে নয়, মন থেকে দাবি গুলো যাতে মেনে নেওয়া হয়। নিহত-আহতদের তালিকা যেন সঠিক ভাবে করা হয়। সেইসঙ্গে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যথাযথ বিচার ও ক্ষতিপূরণ পায়।
রুয়েট: রুয়েট পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক। এক শোক বার্তায় উপাচার্য বলেন, ‘অনাকাঙ্খিত এই দুর্ঘটনায় পাইলট সহ মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-কর্মচারী হতাহতের ঘটনায় যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। পুরো জাতি এ দূর্ঘটনায় ভীষণ মর্মাহত। রুয়েট পরিবারের পক্ষে আমি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সেই সাথে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, ‘এই শোকের সময় আমরা রুয়েট পরিবার মাইলস্টোন স্কুল সহ সংশ্লিষ্ট সকলের পাশে আছি। মহান সৃষ্টিকর্তা যেন এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি থেকে আমাদের রক্ষা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য্য ধারনের তৌফিক দান করেন।’
রাসিক: রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালনের অংশ হিসেবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ যোহর নগরভবন মসজিদে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন নগরভবন মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মোঃ আবুল খায়ের। দোয়া ও মোনাজাতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন।
রাজশাহী কলেজ: রাজশাহী কলেজে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাদ মাগরিব কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুমের সভাপতিত্বে কলেজের কেন্দ্রীয় মসজিদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মু যহুর আলী, প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন, রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামীম উদ্দিন। দোয়া পরিবেশন করেন উলামা মশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন। এছাড়াও সঞ্চালনা করেন কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো: মোশাররফ হোসেন মাহদী। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সামরিক খাত উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন আগের কেনা সামরিক বিমান ব্যবহার যেমন দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তেমনি পাইলটদের জীবন নিরাপত্তায় হুমকিস্বরূপ। এছাড়াও বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রতিকূলতা মোকাবিলার সবাই সচেতন থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।
চেম্বার অব কমার্স: রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সদস্য ও মেসার্স মডার্ন সিল্ক ফ্যাক্টরীর স্বত্তাধিকারী জনাব মো: তোহরুল ইসলাম এর একমাত্র ছেলে পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার জনাব তৌকির ইসলাম সাগর গতকাল ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত সকলের জন্য রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জনাব মাসুদুর রহমান রিংকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব মোঃ সুলতান মাহমুদ সুমন, সহ-সভাপতি জনাব মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বাবু, পরিচালকবৃন্দ সর্বজনাব মোঃ ফরিদ উদ্দিন, মোঃ সাদরুল ইসলাম, রিয়াজ আহমেদ খান, হারুন-উর-রশিদ, মোঃ আব্দুল গাফফার, মোঃ মাসুম সরকার, মোঃ সাজ্জাদ আলী, মোঃ কবির হোসেন, মোঃ কামরুজ্জামান, তৌহিদ হাসান, মোঃ খায়রুল বাশার, মোঃ সাইফুল ইসলাম (হীরক), মোঃ রুহুল আমিন, মোঃ তাসনিম হোসেন, এ জে এম জান্নাতুল ইসলাম, মোঃ নজরুল ইসলাম হেলাল, এস,এম আইয়ুবসহ চেম্বার সচিবালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং সকল মরহুমের বিদেহী আত্নার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
বিএনপি নেতা রায়হান : দেশব্যাপী ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোকের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে নওহাটা পৌরসভার পাকুড়িয়া স্কুলপাড়া এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানের আগে বিএনপি‘র ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ রূপরেখা বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে অবহিত করার লক্ষ্যে একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এই বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. রায়হানুল আলম রায়হান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রায়হানুল আলম রায়হান বলেন,“মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুর্ঘটনা পুরো জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি ও গভীর বেদনার। আমরা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এই ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, একটি রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় কতটা ঘাটতি থাকতে পারে। একটি কার্যকর, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এখন সময়ের দাবি।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেজন্য একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। উঠান বৈঠক শেষে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা শফিকুল ইসলাম। মোনাজাতে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্যও প্রার্থনা করা হয়। নওহাটা পৌর কৃষকদলের আহ্বায়ক মো. রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় ও নওহাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি সেন্টু কুমার সাহা, হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, উপজেলা জাসাস নেতা আক্কাস আলী এবং নওহাটা পৌর ছাত্রদল নেতা তারেক আহমেদ মুন্না। অনুষ্ঠানে নওহাটা পৌর বিএনপি, কৃষকদল, ছাত্রদল, যুবদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গোল্ডেন সান শিক্ষা পরিবার: যুদ্ধ প্রশিক্ষণ বিমান দূর্ঘটনায় নিহত পাইলট তৌকির ইসলাম সাগর নিহত হওয়ায় গোল্ডেন সান শিক্ষা পরিবারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা সহ নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন গোল্ডেন সান শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান রফিকুল আলম, পরিচালক শামজিদা আলম, অধ্যক্ষ রাজিয়া সুলতানা সহ প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষিকাবৃন্দ এবং গোল্ডেন সান বৃত্তি প্রদান কমিটির চেয়ারম্যান দৈনিক সোনালী সংবাদ সম্পাদক মোঃ লিয়াকত আলী। উল্লেখ্য, নিহত সাগর গভঃ ল্যাবরেটরী স্কুল হতে অংশ নিয়ে গোল্ডেন সান বৃত্তি পরীক্ষায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণী হতে পর পর তিন বার মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে বৃত্তি পেয়েছিল। গোল্ডেন সান শিক্ষা পরিবার তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।
এর আগে, গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফটি-৭বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের একটি ভবনের উপর বিধ্বস্ত হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাইলট, একজন শিক্ষক এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ বহুসংখ্যক মানুষ নিহত এবং দেড় শতাধিকের অধিক আহত হন। এই ঘটনায় সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং সরকার জাতীয় শোক ঘোষণা করে।