, , ।
সাইফুল ইসলাম: আসন্ন কোরবানীর ঈদকে ঘিরে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গরু মোটাতাজাকরণ শুরু হয়েছে। এলাকার গরু রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। এই চাহিদাকে পুঁজি করে অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু খামারি গরুকে অস্বাস্থ্যকরভাবে দ্রুত মোটাতাজা করতে পোল্ট্রি মুরগির ফিড, স্টেরয়েড ও হরমোন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো শুরু করেছেন। এতে গরু ব্রয়লার মুরগির মতো দ্রুত ফুলে উঠছে।
খামারিদের কেউ প্রকাশ্যে বিষয়টি স্বীকার করতে চাননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক বলেছেন, ‘আমরা নিজেরা দিই না, কিন্তু অনেকেই গরুকে পোল্ট্রি ফিড খাওয়াচ্ছেন।’ স্থানীয় খামারি ও পশু চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, এই পদ্ধতিতে গরু সাময়িকভাবে মোটা হলেও পরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গরুর কিডনি, যকৃত, ফুসফুস ও মাংসের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। এসব মাংস মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থানীয় পশু চিকিৎসক নূরুল ইসলাম বাবু জানান, কিছু কিছু খামারি ও কৃষক গরুকে পোল্ট্রি ফিড খাওয়াচ্ছেন। পোল্ট্রি ফিড খাওয়ালে গরুর স্বাস্থ্য অতিরিক্ত বাড়ে, এতে মোটা গরু অনেক সময় স্ট্রোক করে মারাও যায়। তিনি আরো বলেন, মোটাতাজা করতে গরুকে সুস্থ-সবল রাখতে হয়। এর জন্য ভিটামিন ইনজেকশন, খাওয়ার জন্য রুচি বাড়ানো ও কৃমিনাশক ওষুধ, গ্যাস, সর্দি এসবের নিয়মিত চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাভাবিক খৈল, ভূষি ও দানাদার খাবারই যথেষ্ট। কৃষককে পোল্ট্রি ফিড গরুকে না খাওয়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
গোদাগাড়ী হাসপাতালের চিকিৎসক শিমুল আহমেদ জানান, ফিডে থাকা স্টেরয়েড মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি শরীরে প্রবেশ করলে লিভার ও কিডনি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এমনকি এটি শিশুদের জন্য আরও বিপজ্জনক। তিনি সবাইকে ফিডজাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শায়লা শারমিনের ভাষ্য, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। পোল্ট্রি ফিড খাওয়ানোর ফলে গরু দ্রুত মোটা হয় তা ঠিক, তবে এটি নীতিবিরুদ্ধ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ।’
তিনি জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের স্টেরয়েড বা হরমোনাল ওষুধ বিক্রি ও প্রয়োগ নিষিদ্ধ। খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা এসব পদ্ধতি পরিহার করেন এবং গরুকে ভিটামিনসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাদ্য খাওয়ান।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর গোদাগাড়ীতে ৮৫৪টি খামার এবং কৃষকদের বাড়িতে সবমিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছে, যা গতবারের তুলনায় বেশি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও এসব গরু অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে।