, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারার প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে ও পাড়া-মহল্লায় এখন মাদক ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বড়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ উড়তি বয়সের যুবসমাজ চরমভাবে বিপদগামী হয়ে পড়ছে। এ কারণে সমাজে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবনতাও বেড়েছে।
বাগমারায় মাদকের ভয়াবহতা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি উপজেলা মাসিক সমন্ময় সভায় মাদক নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক নিয়ে এসব মিটিং ও আলোচনা কেবল চাকুরী রক্ষার্থে করছেন মাদক নিয়ন্ত্রন দপ্তর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। এতে কাজের কাজ কিছুই হয়না। এভাবে মাদক নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে। অপরদিকে মাদকের বিস্তার বেড়েই চলে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জনৈক মাহাবুরের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি চক্র গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের খাজুর, জিল্লুর মোড়, বোয়ালিয়া মোড়, রামপুরপাঁথার ও বটতলা বাজারসহ বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে ও পাড়া মহল্লায় এখন তাড়ি, চুয়ানী, হেরোইন, ফেন্সিডিল ও গাজা সহ বিভিন্ন ধরনের মাদ্রক সামগ্রী সরবরাহ করে আসছে। এছাড়া হাটগাঙ্গোপাড়া, দামনাশ, মচমইল, হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দি এবং তাহেরপুর ও ভবানীগঞ্জ পৌর সভার ব্র্যাক মোড়, গোডাউন মোড়, কলেজ মোড়, বাজারের আলু হাটা সহ অন্তত ১০-১২ টি স্পটে সম্প্রতি মাদক ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবানীগঞ্জে মাদক সম্্রাজ্ঞী হিসাবে পরিচিত এক মহিলা।
তিনি প্রায় ডজন খানেক মাদক মামলায় দশবারের বেশি গ্রেফতার হয়ে আবার জামিনে এসে পূর্বের স্টাইলে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার কথিত স্বামীও আগের স্টাইলে চালাচ্ছে ফেন্সিডিল ব্যবসা।
বর্তমানে ভবানীগঞ্জ বাজার সহ আশেপাশের এলাকায় হাতের নাগালে সহজেই মাদক সামগ্রী পাওয়ায় বড়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ উড়তি বয়সের যুবকরাও তা অবাধে সেবন করছে। ফলে যুবসমাজ চরমভাবে বিপদগামী হয়ে পড়ছে।
এদিকে কয়েকদিন আগে গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের রামপুরপাঁথার গ্রামে এক মাদকসেবীর ধাওয়ায় পালাতে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক করে মিজানুর রহমান মিজান নামে এক ভ্যান চালকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাজশাহীর (সার্কেল) এএসপি ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠান। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।
এর আগে র্যাবের বিশেষ অভিযানে নীলফামারী থেকে আসা মাদকভর্তি মাইক্রোবাস সহ ঢাকার সুমন, নীলফামারীর মিলন, বাগমারার মাদক সম্রাজ্ঞী কোহিনুর বানু, আব্দুল জলিল, ওসমান আলী ও মাহাবুরসহ ৯ জনকে আটক করা হয় এবং উদ্ধার হয় বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল ও ইয়াবা।
গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় তাড়ি ও চুয়ানী ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সমাজে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রবনতাও বেড়েছে। এ কারণে তিনি তার ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে গ্রামপুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে সচেতনামূলক কার্যক্রম শুরু করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন ভবানীগঞ্জ বাজার ও আশেপাশের এলাকায় মাদকের মাদকের ওপেন সিক্রেট ব্যবসা মারাত্বক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ভবানীগঞ্জ বাজারে দিনে দুপুরে মোহটরসাইকেল ভ্যানগাড়ি চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে বাজারের লোকজন এক ছিনতাইকারি ও এক ভ্যান চোরকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তার সময়ে পৌরসভায় মাদকের এত ভয়াবহ অবস্থা ছিল না। এখন বাইরে থেকে লোক এখানে এসে মাদক সেবন করে যাচ্ছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মাদক কারবার বন্ধের জন্য বর্তমানে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রনে তিনি এলাকাবাসীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহবান জানিয়েছেন।