, , ।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সেফটিক ট্যাংকের সাটারিং খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক নিহিত হয়েছেন। নিহিতরা হলেন, দৌলতপুর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে রাজন (২৬) ও একই গ্রামের হারুন আলীর ছেলে লিটন (৩২)। এ ঘটনায় মিজান নামে এক যুবক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আজ শনিবার সকালে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাগোয়ান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এবিষয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, বাগোয়ানর গ্রামের মোশারফ হোসেনের বাড়িতে কয়েক মাস আগে একটি সেফটিক ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকার পর শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লিটন এই নির্মাণ শ্রমিক ট্যাংকের মধ্যে প্রবেশ করে সাটারিং এর কাঠ-বাঁশ খুলতে যায়। বেশ কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর তিনি উঠে না আসলে স্থানীয় যুবক মিজান ট্যাংকে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
এসময় তিনি শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে দ্রুত টাংক থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে নির্মাণ শ্রমিক রাজন ওই ট্যাংকে প্রবেশ করেন। তিনিও আর ওপরে উঠে আসেননি। পরে এলাকাবাসী ট্যাংকের এক পাশ ভেঙ্গে দুই নির্মাণ শ্রমিককে উদ্ধার করেন। পরে তাদেরকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় অসুস্থ মিজান ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খাস মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার কবীর মিন্টু বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। সেফটিক ট্যাংকে প্রবেশ করার আগে তাদের আরও সাবধানতা অবলম্বন করার দরকার ছিল।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তাররা বলেন, দীর্ঘদিন ট্যাংকের মুখ বন্ধ থাকায় সেখানে অক্সিজেন ছিল না। ট্যাংকের মুখ খুলেই ভেতরে প্রবেশ করায় অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন, ২০ দিন আগে ওই সেফটিক ট্যাংকের ঢালায় কাজ সম্পন্ন করে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছিলো। সাধারণত এইসব সেফটিক ট্যাংকে মুখ বন্ধ থাকার কারণে ভেতরে এক ধরনের বিষক্রিয়া তৈরি হয়। ধারণা করা হচ্ছে বিষক্রিয়াতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।