সর্বশেষ সংবাদ :

রাবিতে বিভাগের সিনিয়রের আঘাতে রক্তাক্ত জুনিয়র শিক্ষার্থী

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) একই বিভাগের এক জুনিয়রকে মেরে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান সিয়াম রাবি আইন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্ত আছিম আব্দুল্লাহ একই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা দুজনে একই বাসায় থাকতেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান সিয়াম বলেন, হামলাকারী স্থানীয় হওয়ায় প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখিয়ে বারবার আমাকে মারার হুমকি দিয়ে আসছিলো এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিহিংসাবশত শনিবার (২৬ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ধারালো ছুরি দিয়ে তিনবার আমার উপর হত্যাচেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় বাসায় অবস্থানরত অপর দুই ব্যক্তি তাৎক্ষনিক বাধা দেয়ায় আমি প্রাণে বেঁচে যাই।
অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে সিয়াম আরো বলেন, পরদিন দুপুর বেলা হামলাকারী আমাকে ক্যাম্পাসে ডেকে তার সহপাঠীদের দিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করে। একই দিন সন্ধ্যায় আমি বাসায় প্রবেশমাত্র আসার ওপর দ্বিতীয় দফায় এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এক পর্যায়ে হামলাকারী ধারালো কাঁচি আমার চোখে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। আমি সরে যাওয়ায় আমার চোখে গুরুতর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এমন মানসিক ভারসাম্যহীন, নিচু মনমানসিকতাসম্পন্ন উগ্র স্বভাবের হামলাকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। উক্ত ঘটনার পর থেকে আমি প্রাণ সংশয়ে আছি। এমন অবস্থায় হামলাকারীকে আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আছিম আব্দুল্লাহ বলেন, সিয়াম প্রতিদিন রাত ১২ টায় বাহির হয় এবং আসে ভোর ৬টার দিকে। আগে সে মাদকসেবন করতো। আসল ঝামেলা হলো মেসের ময়লা পরিষ্কার করা নিয়ে। সে কিছুই করতো না আমরা সিনিয়র হয়ে তার ময়লা পরিষ্কার করতাম। মেসে যখন কোন মিটিং হতো, তখন সে বসে বসে কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনতো। গত শনিবার রাতে সে ফেসবুকে একটা পোস্ট দেয়। সেখানে সে লিখে, আমি নাকি তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছি। তারপর আমার ডিপার্টমেন্টের সবাই এ বিষয় নিয়ে আমাকে কটু কথা বলে।
তিনি আরো বলেন, রোববার রাতে আমি রুমে এসে তাকে বলি পোস্টটা ডিলিট করার জন্য। কিন্তু, সে ডিলিট করতে অস্বীকৃতি জানায়। তারপর আমি রাগে একটি থাপ্পড় মারি। ছোটোভাই ভেবেই রাগের মাথায় এটা হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু আমার হাতে থাকা আংটি তার ভ্রুতে লেগে একটু কেটে যায়। ফলে, একটু রক্ত বাহির হয়। তবে সে বাহিরে গিয়ে নিজেকে নিজেই আঘাত করতে থাকে। তারপর সে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়।
হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী সিয়াম প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ পত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলেও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পত্র পাননি বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক।
জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আজকের অভিযোগটা ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। সে আমার নাম ব্যবহার করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে, এই খবরটা আমি আগেই পেয়েছি। আমি আইন বিভাগের সভাপতিকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দিয়েছি। বিভাগ দুই পক্ষের কথাবার্তা শুনে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থাগ্রহণ করবে।
এবিষয়ে জানতে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জুর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


প্রকাশিত: May 29, 2024 | সময়: 5:18 am | সুমন শেখ

আরও খবর