Daily Sunshine

হোয়াইট হাউসে হামলার ষড়যন্ত্র ফাঁস, যুবক আটক

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক বাসভবন হোয়াইট হাউসে অ্যান্টি ট্যাঙ্ক রকেট দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছিলেন এক মার্কিন যুবক। বুধবার তাকে আটক করেছে পুলিশ।

তার নাম হাশের জালাল তাহেব, বয়স ২১। সে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস ধ্বংসের পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাহেবের বিষয়টি গত মার্চেই নজরে এসেছিলো যুক্তরাষ্ট্রের এক স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। তারা এ নিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপরই এ নিয়ে তদন্ত শুরু করে এফবিআই।

গত অক্টোবরে গোয়েন্দা সংস্থাটি জানতে পারে, জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের আদর্শে দীক্ষিত তাহেব এফিডেভিট করে নিজের নাম পাল্টে ফেলেছে এবং ওই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত কোনো অঞ্চলে সফর করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। কিন্তু পাসপোর্ট যোগাড় করতে না পারায় তার সে উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

এরপর সে যুক্তরাষ্টের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাসভবন এবং দেশটির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন স্ট্যাচু অফ লিবার্টি ভাস্কর্যটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করতে শুরু করে।

এই তথ্য জানার পর গত বছরের ডিসেম্বরে মিথ্যা পরিচয়ে দফায় দফায় ওই যুবকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে শুরু করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গোপন এজেন্ট (undercover agent) ও এফবিআই’র এক সোর্স।

তাদেরকে নিজের মতাদর্শের লোক বলে ভেবে নেয় তাহের এবং তাদের সঙ্গে নিজের সব পরিকল্পনা ফাঁস করতে থাকে। তখন এফবিআই এজেন্টের কাছে জিহাদ করে শহীদ হওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করে ছিল ওই যুবক।

গত সপ্তাহে তাহেব ওই এজেন্টকে জানায়, হোয়াইট হাউস ধবংসের জন্য সে অস্ত্র যোগাড়ের চেষ্টা করছে। তার সে চেষ্টা সফল হলেই সে হোয়াইট হাউস গুড়িয়ে দেয়ার জন্য ওয়াশিংটনের দিকে যাত্রা শুরু করবে।

এফবিআই আরো জানচ্ছে, পুলিশকে বিভ্রান্ত করে পিছনের রাস্তা দিয়ে হোয়াইট হাউসে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল তাহেব। আর হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য সে একটি অ্যান্টি ট্যাঙ্ক অস্ত্রে ব্যবহার করতে চেয়েছিলো। এরপর সেখানকার লোকজনকে হত্যা করে ভবনটির যতটা সম্ভব ক্ষতি করার পরিকল্পনা ছিলো।

গত সপ্তাহে তাহেব ওই এজেন্টকে জানায়, কয়েকদিনের মধ্যেই সে অস্ত্র জোগাড় করতে পারবে এবং এরপরই সে সোজা গাড়ি চালিয়ে ওয়াশিংটন চলে যাবে।

যদিও তাহেব কখনো বন্দুক চালায়নি। তবে এ সংক্রান্ত কিছু ভিডিও দেখে গ্রানেড বিষ্ফোরণ সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিলো তার।

বুধবার জর্জিয়ার বুফোর্ডের পার্কিলটে অটোমেটিক অ্যাসাল্ট রাইফেল, রিমোট ডিটোনেটর তিনটি বিস্ফোরক ডিভাইস এবং অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক রকেট নেয়ার জন্য এফবিআই সোর্স ও এজেন্টের সঙ্গে দেখা করে তাহেব। এসময় সে ওই এজেন্টের সঙ্গে অস্ত্রসস্ত্র ও রকেট কীভাবে ব্যবহার করবে তা নিয়েও আলাপ করে।

পরে এবিআইর সোর্স, যাকে সে নিজের বন্ধু বলে ভেবেছিলো, সে এসে তাদের গাড়ির চাবি নিয়ে নেয় এবং তাকে আটক করে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

সানশাইন অনলাইন/এন এ

জানুয়ারি ১৭
১৮:০২ ২০১৯

আরও খবর