Daily Sunshine

ই-কমার্স খাতের অগ্রগতিতে অনলাইন ক্যাম্পেইন

Share

বাংলাদেশে ই-কমার্স খাতের যাত্রা খুব বেশি দিনের না হলেও ইতিমধ্যে এটি দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হয়েছে। করোনা মহামারিতে বেশিরভাগ খাত যখন মুখ থুবড়ে পড়েছে, তখন ই-কমার্স খাত দেখেছে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি।

লকডাউন চলাকালীন মানুষের অনলাইন কেনাকাটার ওপর নির্ভরতা অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে এসেছে লাখেরও বেশি অর্ডার। এছাড়া, প্রযুক্তির কল্যাণে স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে আসায় এর প্রভাব পড়ছে কেনাকাটা থেকে শুরু করে মানুষের যাবতীয় সকল কাজকর্মে।
ই-কমার্স দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের চিত্রপটে নিয়ে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

এখন থেকে দুই দশক আগেও মানুষ ভাবতে পারতো না মোবাইলের এক ক্লিকেই অর্ডারকৃত পণ্য ঘরের দরজায় এসে হাজির হতে পারে। অথচ, এই বিষয়টি এখন এতো সহজ ও সুবিধাজনক যে যেকোন মানুষ স্বল্প প্রযুক্তি জ্ঞান নিয়েও যেকোন জায়গা থেকে পণ্য অর্ডার করতে পারেন এবং নির্ধারিত সময়ের মাঝে পণ্য হাতে পেয়ে যান।

আলিবাবা’র প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা’র একটি জনপ্রিয় উক্তি হচ্ছে, “সমস্যা আর অভিযোগ যেখানে যতো বেশি, সেখানে সুযোগও ততো বেশি।” ২০১০ সালে সরকারি অনুমোদনের প্রেক্ষিতে দেশে সম্পূর্ণভাবে ই-কমার্স চালু হলেও তখনও অনলাইন কেনাকাটা এতো বেশি জনপ্রিয় ছিল না। কোন পণ্য অনলাইনে অর্ডার করার পর ক্রেতারা আশা করেন কম সময়ের মধ্যে কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই তারা পণ্য হাতে পেয়ে যাবেন।

কিন্তু, সেসময় বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ ছিল লজিস্টিকসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই, দেশের ই-কমার্স খাতের বিকাশে পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়া সহজীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সময়ের পালাবদলে দেশের লজিস্টিকস খাতের বিকাশ ঘটেছে। এছাড়াও, শুরুর দিকে অনলাইন কেনাকাটা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা কম থাকায় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ওপর আস্থা রাখা নিয়ে অনেকেই দ্বিধান্বিত ছিলেন।

বর্তমানে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রচেষ্টায় এই দ্বিধা অনেকটাই দূর হয়েছে এবং মানুষ ই-কমার্সের ওপর ক্রমশই আস্থা স্থাপন করতে পারছেন। তবে, গুটি কয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে ইদানিংকালে ই-কমার্স খাতে বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাতে গোণা কয়েকজনের জন্য গোটা ই-কমার্স খাত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা একেবারেই অনুচিত, বিশেষ করে যেখানে বিগত কয়েক বছরে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বস্ততার সাথে দেশের মানুষকে সেবা প্রদান করেছে।

অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে মূল্য ছাড় অফার বিক্রেতার বিক্রয় বাড়াতে এবং সুলভ মূল্যে ক্রেতাদের হাতে পণ্য পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূল্যছাড়ের সাথে সাধারণত বিভিন্ন ক্যাম্পেইন থাকে। অনেক সময় দেখা যায়, এসব ক্যাম্পেইন সম্পর্কে ক্রেতাদের ধারণা কম থাকে এবং লোভনীয় অফার দেখে কোন প্রকার বিবেচনা ছাড়াই ক্রেতারা অনলাইনে পণ্য অর্ডার করেন।

এক্ষেত্রে প্রতারকদের ব্যাপারে ক্রেতাদের সচেতন হতে হবে এবং আকাশচুম্বী অফারের লোভে পা না বাড়িয়ে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর, যত ক্ষুদ্র অঙ্কই হোক, প্রতারিত হলে ক্রেতাদের উচিত তাৎক্ষণিক অভিযোগ প্রদান করা। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মেরও উচিত ই-কমার্স খাতের টেকসই অগ্রগতিতে আরও দায়িত্বশীল হওয়া, সরকারি নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ এবং ক্রেতাদের যেকোন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণ।

অনলাইন কেনাকাটায় পুনরায় মানুষের বিশ্বস্ততা স্থাপনে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অনলাইন শপিং উৎসব চালু করেছে। এছাড়া, দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ বাংলাদেশ গত তিন বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বছরের ১১ নভেম্বর আবারও আয়োজন করতে যাচ্ছে ১১.১১ ক্যাম্পেইন।

বর্তমানে, ১১.১১ কে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেল ডে হিসেবে গণ্য করা হয়, যার সাফল্য ব্ল্যাক ফ্রাইডে, সাইবার মানডে’র মতো জনপ্রিয় ক্যাম্পেইনকেও পিছে ফেলেছে। এবারের ক্যাম্পেইনে আকর্ষণীয় মূল্য ছাড় আর অসাধারণ সব ডিলের সাথে থাকবে ২.৫ কোটিরও বেশি পণ্যের সমাহার। সকল বিধিমালা অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দারাজ ১১.১১ এর সকল অর্ডার ক্রেতাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দারাজ।

সানশাইন/ শামি

নভেম্বর ০৮
১৭:২১ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]