Daily Sunshine

কৃষক পর্যায়ে সাড়া ফেলেছে জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ বিনা ধান-২০

Share

সানশাইন ডেস্ক:
গবেষণায় সাফল্যের পর এবার পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক পর্যায়ে জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল বিনাধান-২০ চাষ করে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বরিশাল। এই প্রথম কৃষকের মাঠে নতুন উদ্ভাবিত ধান চাষ করে অধিক ফলন পাওয়ায় এই ধানে উৎসাহ বাড়ছে সাধারণ কৃষকের।

জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ এই চালে রয়েছে অধিক পুষ্টিগুণ। জেলার ধান চাষীদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল এই ধান আবাদের জন্য বিনামূল্যে এই বীজ দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছে বরিশাল বিনা উপকেন্দ্র। আগামীতে বিনা-২০ ধান জেলার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলেন মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বরিশাল অঞ্চলে বছরের ৯ মাসে দুটি ফসল ফলিয়ে ভর্ষার সময়ে বাকি ৩ মাস অনাবাদী পড়ে থাকতো কৃষকের জমি। ৫ বছরের গবেষণায় বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বর্ষার সময়ে রোপনযোগ্য জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল বিনা ধান-২০ উদ্ভাবন করে।

গত কয়েক বছর গবেষনার পর এবার বরিশালের গৌরনদীর খাঞ্জাপুরে কৃষক পর্যায়ে ২০ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই ধান চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

উৎপাদিত এই ধান পুষ্টিগুনে ভরা। জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ ধান হওয়ায় মানবদেহের জন্য বিশেষ করে গর্ভবতীদের উপকারী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট বরিশাল উপ-কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার।

পরমানু কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট বরিশাল উপ-কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন বলেন, এ বছর প্রথম বিনা ধান-২০ কৃষকের জমিতে চাষ করে প্রতি হেক্টরে সাড়ে ৪ থেকে ৫ টন ফলন হয়েছে। এ অঞ্চলের মাটির চাহিদা অনুযায়ী স্বল্পজীবনকালের এই ধান চাষ করে অল্প দিনে কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারবে।

এতে কৃষক লাভবান হবে এবং অন্যান্য ফসল আগাম আবাদ করতে পারবেন। নতুন উদ্ভাবিত এই ধানের জাত কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পরমাণু কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট বরিশাল উপ-কেন্দ্র বিনামূল্যে বীজ দিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে বলে তিনি জানান।

বর্ষা মৌসুমে অনাবাদী জমিতে অসময়ে বিনাধান-২০ বপন করে অল্প সময়ের মধ্যে অধিক ফসল ঘরে তুলতে পেরে খুশী পরীক্ষামূলক চাষী গৌরনদীর খানজাপুর ইউনিয়নের জসিম মৃধা।

আরেক কৃষক মো. অলিল মৃধা জানান, বিনা ধান-২০ ফসল ১২০ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। অন্য ধান ঘরে তুলতে ১৩০ দিন থেকে ১০ দিন সময় লাগে। বীনা ধান-২০ আগে কর্তন হওয়ায় ওই সময়ে আগাম সরিষাসহ রবি শষ্য চাষ করলে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব। এ কারনে নতুন এই ধানে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন হতেকৃষি বিভাগ স্থানীয় জাতের পরিবর্তে উচ্চফলনশীল পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ জাতের ধান আবাদ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।

বিনাধান-২০ স্বল্প সময়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান। এর বিশেষ গুন জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ। জীবনকাল কম হওয়ায় অন্য ফসল আগাম চাষ করা যায। এই জাতের ধানের প্রসার ঘটলে আগামী দিনে খাদ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। নতুন উদ্ভাবিত এই ধানের চাল দিয়ে মুড়ি, চিড়া, খৈ এবং পিঠা তৈরীর গুড়া ভালো হয় বলে জানান বরিশাল বিভাগের প্রধান কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা।

সানশাইন/তই

নভেম্বর ২৩
১৩:০২ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]