Daily Sunshine

পবার পারিলায় মাদ্রাসা-গোরস্থানের জমি গোপনে বিক্রির অভিযোগ, চরম উত্তেজনা

Share

স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নে পুড়াপুকুর মাদ্রাসার ভুয়া কমিটি গঠন ও রেজুলেশন খাতা তৈরির মাধ্যমে মাদ্রাসা ও গোরস্থানের জমি বিক্রির ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেলে বিক্ষোভ  সমাবেশ করেছেন তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিক্ষোভকালে বক্তারা বলেন, হাজী মানুষ আবু বক্কর সিদ্দিক সওয়াবের আশা ও ইসলাম ধর্ম শিক্ষার উদ্দেশ্য ১৯৯৭ সালে জমি দান করে গিয়েছিলেন। অথচ ভুয়া সভাপতি আসলাম সরকার ও তার দুই সহযোগী মসদুল ও রবিউল মিলে রহমানিয়া কমপ্লেক্সের নিকট এই জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। কিয়ামত অতি সন্নিকটে। তা না হলে কিভাবে মুসলমান হয়ে গোরস্থানের জমি গোপনে বিক্রি করে দেয়।

এছাড়া পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাফ আলী মন্ডলও এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েন। তখন তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত নই।
তারা আরো বলেন, আসলাম এলাকার সকল মানুষের মৃতের পর যে জায়গায় দাফন হবে সেই জায়গা নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। একইসঙ্গে এই জমি উদ্ধার করতে প্রয়োজনে এলাকাবাসীরা নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত রয়েছি। জমি বিক্রির ঘটনায় অভিযুক্ত আসলামের ঠিকানা কালুমেড়,খড়খড়ি -৬২০৪,পবা রাজশাহী।

মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি আকরাম হাজি বলেন, আসলাম পাওয়ার অব অ্যাটর্নির কথা বলেছিলেন মিটিংয়ে। কিন্তু আমরা রাজি হইনি। তাকে সভাপতিও করা হয়নি। অথচ কিভাবে সভাপতি হয়ে আমাদের মাদ্রাসা ও গোরস্থানের জমি বিক্রি করে দিল তা আমাদের জানা নেই। আমাদের ধর্মের উপর আঘাত এনেছে সে। এর বিচার যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে ।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন- এক জমি দুইবার দান করা সম্ভব না। অথচ তারা দানের জমি বিক্রি করলো কিভাবে? এই জমি কেনা বেঁচার সাথে জড়িত সকলের শাস্তি দাবি করেন। এদিকে জমি বিক্রির পর থেকেই আসলামকে এলাকায় আর দেখা যাইনি বলে জানা গেছে। তাই তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আকরাম হাজি নিজ অর্থায়নে মাদ্রাসা, এতিমখানা করে নিজেই চালানোর জন্য জমিটা নিয়েছে। তবে দান করা জমি বিক্রি হয় না। তাই মূল্য দেখিয়ে রহমািনিয়া কমপ্লেক্সের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। পারিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাফ আলী মন্ডল ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ এনামুল হকের কথা মতো এটা করা হয়েছে।

সানশাইন / শামি

অক্টোবর ০১
২২:৪৩ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]