Daily Sunshine

‘ফোলিয়ার বিল জলকুঠি’ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তিন বন্ধুর অনন্য উদ্যোগ

Share

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক সময়ের বদ্ধ জলাশয় গত কয়েক বছরে হয়ে উঠেছে মাছ চাষের উর্বর ভূমিতে। বলছিলাম রাজশাহীর পবা ও দূর্গাপুর উপজেলা মাঝে অবস্থিত ফলিয়ার বিলের কথা।  চারদিকে মাছের বড়বড় পুকুর নির্মল বাতাস ও অনাবৃত রোদ্রচ্ছায়ামাখা আকাশের নিচে একটি ছোট্ট বিল। অপরূপ সৌন্দর্যে পরিবেষ্টিত অগভীর জলরাশির ওপর সম্পূর্ণ বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কয়েকটি কুঠির। বলছিলাম ‘ফলিয়ার বিল জলকুঠি’ নামক একটি সদ্য নির্মিত দৃষ্টিনন্দন রেস্টেুরেন্টের কথা। এটি রাজশাহীর পবা উপজেলার খড়খড়ি বাইপাস বাজার থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে ফলিয়ার বিলে নব্য নির্মিত নান্দনিক ব্রীজের পাশে পানির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে।

করোনাকাল কাজে লাগানোর প্রয়াসে রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্রবিঙ্গান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ শিমুল পারভেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস শিক্ষার্থী পারভেজ মোশাররফ ও ইসমাইল নামের তিন বন্ধু মিলে এই ভিন্নধর্মী উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেন। রেস্টুরেন্টটি চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে।

ইতোমধ্যে দৃষ্টিনন্দন এই রেস্টুরেন্ট ঘুরতে হাজারও মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন বলে জানান শিমুল পারভেজ। তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে এই প্রথম আমরাই প্রাকৃতিক পরিবেশে রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থা করেছি। সবে তো শুরু, এটি নিয়ে আমাদের বৃহৎ পরিল্পনা রয়েছে। ভোক্তা যে বিষয়গুলোতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করবে আমরা সে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিবো। আমাদের এই রেস্টুরেন্ট প্রতিদিন দুপুর থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আশার থেকেও বেশি মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে এখানে। আমাদের রেস্টুরেন্টটি নতুন হলেও বেচা-বিক্রি হয়েছে আশানুরূপ। ইতোমধ্যে আমাদের এখানে ১২ জন কর্মরত রয়েছেন। আপাতত আমরা বার্গার, স্যান্ডুইস, পাস্তা, কফিসহ ফাস্টফুড আইটেমগুলো প্রদান করছি। কিছুদিনের মধ্যে আমরা ম্যানুতে রিচফুড সংযোজন করবো।

এই বিলে ঘুরত এসেছেন পারিলা গ্রামের  মোঃ জহুরুল ইসলাম চঞ্চলে  কথা বলছিলাম তার সাথে সেই বিকেলে’ তিনি বলছিলেন যে এই পথে আমি আমার ব্যাবসার কাজে যাতায়াত করি প্রায়দিন। আগে এই রাস্তাটা খুব খারাপ ছিল, ফলে মানুষ চরম দুরভগ পোহাত এই পথে যাতায়াত করতে গিয়ে। এখন এই রাস্তাটা নতুন এবং প্রসস্থ হয়েছে,  আর সাথে এই বিলের ব্রীজটা নান্দনিক ভাবে তৈরি হয়েছে, ফলে এই বিলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। এক বিকেলে আমি এই পথে যাবার সময় এই প্লানটা করি যে এখানে মানুষের বসা ও খাবার ব্যাবস্থা করলে বিষয়টা খুব ভাল হবে। এটাতে একদিকে মানুষ জনের উপকার হবে সাথে ব্যাবসায়িক ভাবে লাভবান হওয়া যাবে। এই সূত্রধরে আমার এলাকার এই তরুনদেরকে এ বিষয়ে আমি আগ্রহী করে তুলে তাদেরকে সার্বিক সহায়তা করি। আমি খুব খুশি যে মানুষ জনেরা এখানে আসছে এবং এই উদ্যোগ দেখে আনন্দিত হচ্ছে।আমি আপনার মাধ্যমে সকলে আহবান জানাব যে তরুনরা কিছুতে উদ্যোগী হলে তাদের সাহায্য করতে তাই আপনারা আসুন এবং তাদের রেস্টুরেন্টের খাবার উপভোগ করুণ’।

 

সেপ্টেম্বর ০৯
১৬:৩৪ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]