Daily Sunshine

বাঘায় দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা দিয়ে চলছে মৎস্য অফিস, দুর্ণীতির অভিযোগ !

Share

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় বিগত প্রায় ৮ বছর ধরে দ্বিতীয় শ্রেনীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে চলছে উপজেলা মৎস অফিস। একই উপজেলার বাসিন্দা হয়ে দির্ঘদিন চাকরি কারার সুবাদে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে সীমাহীন দুর্ণীতির অভিযোগ। গত চারমাস পূর্বে এখানে প্রথম শ্রেনীর একজন অফিসার যোগদান করলেও তাঁকে কোন ঠাসা করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঐ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরে যিনি ভারপ্রাপ্ত মৎস্য অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তার নাম মোঃ আমিরুল ইসলাম। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র(এইচ.এস.সি) পাশ। অথচ তিনি অনেকের কাছে নিজেকে উচ্চ শিক্ষিত দাবি করেন। অত্র উপজেলায় তার চাকরির মেয়াদ কাল প্রায় ৮ বছর। অভিযোগ উঠেছে, এ অফিসে গত চারমাস পূর্বে আসলাম আলী নামে একজন প্রথম শ্রেনীর মৎস অফিসার যোগদান করার পরেও তাকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তিনি একটি ভিআইপি রুমে বসে অফিস করছেন। আর আসলাম আলীকে বসানো হয়েছে একটি ঝুপড়ি ঘরে এবং তাকে কোন ঠাসা করে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়-সহ অন্যান্য অফিসার ও জেলা মৎস্য অফিসার মধ্যস্তস্থা সত্ত্বেও অদ্যবধি কোন সুরাহা হয় নাই।

তার বিরুদ্ধে আসলাম আলী এ প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, আমিরুল ইসলাম ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়েও এক অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা বলে বিগত ৮ বছর যাবৎ বাঘার মত গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অত্র এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় সুবাদে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে প্রতিনিয়িত ক্ষমতার দাপট ও দুর-ব্যবহার করে দূর্নীতি করে চলেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারী উন্নয়ন মূলক কাজ গুলো দায়শারা ভাবে করে এক প্রকার লুট-পাট করে চলেছেন । চলতি অর্থ বছরে উন্মুক্ত জলাশয়(বিলে) মাছের পোনা অবমুক্ত করার নির্দেশনা থাকলেও তিনি স্থায়িত্ব শাসিত(প্রাতিষ্ঠান) যেমন-বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রী কলেজ এবং উপজেলা চত্বরের অবস্থিত জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করেছেন। এ ছাড়াও মা’ ইলিশ সংরক্ষন ২২ দিনের মধ্যে মাত্র ৪-৫ দিন লোক দেখানো অভিযান পালন করেছেন। এমনও লক্ষ করা গেছে, জাল ধরে সেই জাল অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছেন। এ ছাড়াও মা ইলিশ অভিযানের সময় লুকোচুরি করে অফিসের কাউকে অবহিত না করে মৎসজীবিদের সাথে সমঝোতা করে উৎকোচ গ্রহণ করেছেন তিনি।

অপর দিকে ইউনিয়ন পর্যায়ের মধ্যে মৎস্য চাষ প্রকল্পের বিভিন্ন প্রশিক্ষনে প্রশিক্ষনার্থীদের নির্ধারিত সম্মানী ভাতা না দিয়ে কম দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও অত্র উপজেলায় ৪৭ টি প্রদর্শনী জলাশয়(পুকুর) উপকরণে সরকারি বরাদ্দের অর্ধেক টাকা দিয়ে বাঁকি টাকা লুট-পাটের অভিযোগ রয়েছে আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ।যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ,দুর্ণীতিবাজ এই কর্মকর্তাকে অতিসত্বর অন্যত্র বদলী করা হউক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, ২০২০-২১ অর্থ বছরে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর থেকে উপজেলার জোতরাঘব এলাকায় দুটি (খাস পুকুর) মোজাতলী পুকুর ১ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা এবং ছায়ামনি পুকুর ১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকায় পুন:খনন বরাদ্দ দেয়া হয়। এই দুটি পুকুর পুন:খনন এর নামে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ার পরেও অর্থের বিনিময়ে তিনি বিল পাশ করে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি প্রথম শ্রেনীর অফিসার সঠিক। তবে তিনি এখানে যোগদান করেছেন মৎস্য অধিদপ্তর এর একটি প্রজেক্ট থেকে । আমি (এইস.এস.সি)পাশ এ কথা সঠিক নয়, আমি বিএসসি করেছি। আমার মতো সারা দেশে ৫২ জন অফিসার রয়েছে। তিনি বলেন, আমি কোন অনিয়ন-দুর্ণীতি করিনি।আমার বিরুদ্ধে যে সকল অনিয়মের কথা বলা হয়েছে তা সম্পুর্ণ মিথা ও ভিত্তিহীন ।

নভেম্বর ২৫
১৮:২৬ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]