Daily Sunshine

অভিযানে আটক হচ্ছে চুনোপুটি, মাদক সম্রাটরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে !

Share

স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা : মাদক সংক্রান্তে সরকারের পক্ষ থেকে রয়েছে জিরো টলারেন্স ঘোষনা। তবে সীমান্ত এলাকায় এ নীতি এখনো কার্যকর হয়নি। বরং নদীতে পানি বাড়ার পর থেকে সক্রিয় এবং বেপরোয়া হয়ে উঠছে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এমনটি চিত্র লক্ষ করা গেছে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী দুটি উপজেলা চারঘাট-বাঘা এলাকায়। এ দুই উপজেলার নদীতীরবর্তী অঞ্চলে রাত-দিন সমানে মোটরসাইকেলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। যারা এক সময়ে ছিল আত্মগোপনে, এখন তারাই প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এদের অনেকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় রয়েছে মাদকের একাধিক মামলা।

অভিযোগ রয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে চুনোপুটিরা গ্রেফতার হলেও চিহৃত মাদক ব্যবসায়ী গডফাদাররা বর্তমানে কৌশল পরিবর্তন করে সীমান্ত এলাকায় দৌরাত্ত্ব বৃদ্ধি করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ কর্মকান্ড। সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে জানা গেছে এসব তথ্য। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দাবি,প্রশাসনের কঠোর নজরদারীতে প্রতিনিয়তই আটক করা হচ্ছে কম-বেশী মাদক।

স্থানীয় লোকজন জানান, চারঘাট-বাঘা উপজেলায় দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকা মাদক সম্রাটরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। নিজেদের লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে গড়ে তুলছেন কয়েকটি শক্তিশালী বলয়। এসব মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা মোটরসাইকেল দাপিয়ে রাত বিরাত ঘুরছেন বেপরোয়া ভাবে। এ ক্ষেত্রে যারা মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলবে তাদের বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করায় হচ্ছে সিন্ডিকেটের কাজ বলে জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী সুধী মহল।

নাম প্রকাশ না করার সর্তে দু’জন স্কুল শিক্ষক জানান , সীমান্তে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট মাদক পাচারে তৎপর হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ মাদক পাচার করছেন। আবার কেউ কেউ মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক পাচারে সহযোগীতা করে টাকা কামাচ্ছেন দু’হাত ভরে। আবার কেউ কেউ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সোর্স হিসেবে নিজেদের দাবি করে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের সহযোগীতা করছেন। সোর্সদের কাজ হচ্ছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের গতিবিধি মাদক ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেয়া। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন হাট বাজারের নৈশ্য প্রহরীরা মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন। আর এভাবে চলছে চারঘাট-বাঘা সীমান্তে মাদক পাচারের রমরমা বানিজ্য।

তথ্য মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে যে দু’একজন আটক হচ্ছেনা এ কথাও বলা যাবে না, অবশ্যই হচ্ছে । তবে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে খুচরা ব্যবসায়ী হিসাবে চিহৃত করছেন। আবার কেউ আটক হচ্ছেন গডফাদারদের মাদক বহন করতে গিয়ে । যাদেরকে স্থানীয় ভাষায় লেবার বলা হয়। অথচ ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে চিহৃত মাদক ব্যবসায়ী গডফাদার এবং রাঘব বোয়ালরা। এসব রাঘব বোয়ালদের আটক করতে না পারলে মাদককে কখনোয় জিরো টলারেন্স আনা যাবেনা বলে দাবি করেন সমাজের অভিজ্ঞ মহল। তাঁদের বক্তব্য, সীমান্ত এলাকায়- বিজিবি, ডিবি পুলিশ, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্র অধিদপ্তর ,র‌্যাব এবং থানা পুলিশ সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, বর্তমানে কৌশল পরিবর্তন করে মাদক ব্যবসায়ী গডফাদার হিসেবে চারঘাট-বাঘা সীমান্ত এলাকা যারা মাদক সরবরাহ করছে তাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো- চারঘাট উপজেলার রাওথা এলাকার বাহাদুর রহমান ও সুজন আলী, রাকিব আলী, ওয়াসিম আলী, আব্দুর রহমান, খালিদ হোসেন, মন্টু আলী ও শরীফুল ইসলাম, সজিব আহম্মেদ, আব্বাস আলী, ওহিদুর রহমান ওহিদ, মামুন আলী, ওয়াসিম আলী ।

অপর দিকে বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ ভানুকর এলাকার শিমুল আলী, একই গ্রামের রবিউল ইসলাম রবি, হাফিজুর রহমান, নান্টু আলী, তুফান আলী, মহদীপুর গ্রামের রুবেল মোল্লা, বুলবুল মোল্লা, রিয়াল বাহিনীর প্রধান রিয়াল আলী, ফরহাদ হোসেন ফরা ও জার্জিস। বারশিপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম , আমিরুল ইসলাম, শাহিন আলী ও শামিন আলী, আলাইপুর এলাকার চপল , ছিদ্দিক আলী ও মনি। পানি কমড়ার স্বপন। ভানুকরের সোহেল মোলা,শিমুল, ওয়াশিম ও সজিব এবং বাঘার রবি ভান্ডরি ও সীমা বেগম অন্যতম। এর মধ্যে সম্প্রতি সীমা বেগমকে (হেরোইন)সহ গ্রেফতার করেছে বাঘা থানা পুলিশ। যারা সর্ব নিম্ন দুই হাজার বোতলের নিচে ফেন্সিডিল কিংবা ইয়াবা আনা-নেয়া করেন না।

একটি বিশ্বস্ত্র সূত্র জানায়, চিহৃত এসব মাদক ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যা হলেই-পাবনা, ইশ্বরদী, নাটোর ও রাজশাহী শহর থেকে আসা মাদক ক্রেতাদের সাথে সীমান্তবর্তী রাওথা, পিরোজপুর, কেশরপুর, আলাইপুর ও হরিরামরাম পুরের চিহৃত মাদক কারবারীরা জড়ো হয় মাদক রাজ্যের রাজধানী হিসেবে পরিচতি মীরগঞ্জ হাবিবুর মোড় নামক স্থানে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মীরগঞ্জ বাজারের একজন ঔষধ বিক্রেতা জানান , বেশ কিছুদিন মাদকের থাকে সম্পৃক্তরা আত্নগোপনে ছিলো। এদের কোন খোঁজ খবরই পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে বর্তমানে নদীতে পানি বাড়ার পর কৌশল পরিবর্তন করে মাদক কারবারীরা আবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। এরা রাত-দিন সমানতালে মোটরসাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজনৈতিক নেতার অভিনয়ে। তাদের চলা ফেরা দেখে মনে হবে , এরা কোন বড় ধরণের নেতা। আসলে তারা চিহৃত মাদক ব্যবসায়ী।

সীমান্তবর্তী লোকজনের ভাষ্য মতে, মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে এখন পরিচিতি লাভ করেছে-চারঘাটের টাঙ্গন, ইউসুফপুর, গোপালপুর, পিরোজপুর ও নাম করা এলাকা রাওথা । অপর দিকে বাঘার মীরগঞ্জ,হরিরামপুর,আলাইপুর ও মনিগ্রাম হয়ে বলিহার-আমোদপুর রুট বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যোগ্য।

এদিকে যারা অত্র এলাকায় এসে যারা মাদক সেবন করে চলে যায়, তাদের জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ এলাকা হলো-চারঘাটের রাওথা এবং বাঘার মীরগঞ্জ মোড়, মহদীপুর, হাবিবুরের মোড় ও মুছার ঈদগাহ এলাকা। স্থানীয় একাধিক মানুষের ভাষ্য, চিহৃত মাদক ব্যবসায়ীরা এসব স্থানে বসেই মাদক বিক্রী ও পাচার করেন দেশের অভ্যান্তরে। গভীর রাত পর্যন্ত এসব মোড়ে- মোড়ে চলে তাদের কর্মকান্ড । প্রত্যক্ষ দর্শী অনেকেই জানান, এখানে শুধু পুরষরাই ব্যবসা করেনা , এদের পাশা-পাশি রয়েছে নারী মাদক ব্যবসায়ী। পুরুষের পাশাপাশি তারাও সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন ফেনসিডিল, ইয়াবা ও হেরোইন ব্যবসা।

এ প্রসঙ্গে চারঘাট-বাঘা সার্কেলের সিনিয়র (এ.এস.পি) প্রনব কুমার বলেন, এটি মাদক প্রবন এলাকা। পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাক্তক চেষ্ট করে যাচ্ছি । তবে পুলিশের একার পক্ষে এখানে মাদক নির্মূল করা একেবারে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারের সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশা-পাশি জনগণের সহযোগিতায় একান্ত প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যাক্ত করেন।

সেপ্টেম্বর ২৪
১১:১৭ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]