গোদাগাড়ীর সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অপসারণ দাবি কলেজ শিক্ষিকার

গোদাগাড়ীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাছমিনা খাতুন ও সার্ভেয়ার মোক্তারুজ্জামানের ‌’অনৈতিক’ কর্মকাণ্ড বন্ধসহ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গোদাগাড়ী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফজিলাতুন নেছা। শনিবার বেলা ৩টায় রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ফজিলাতুন নেছা তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার রামনগর মৌজার জেএল দাগ নং ১৯, আর এস ২০৭, জমির পরিমাণ ০.২৭ উল্লেখিত জমি আমার মায়ের ক্রয়কৃত। সেই জমির সকল বৈধতা দেখে জেনে খারিজ হয়। ১৪২৮ সাল পর্যন্ত খাজনা গ্রহণ করেন ভুমি অফিস। তিনি বলেন, উল্লেখিত জায়গার উপর একটি কু চক্র মহলের নজর পড়ে। সেই কু চক্র মহল গোদাগাড়ীর সহকারী কমিশনার ভূমির সাথে আতাত করে সেই জমি নিজেদের দাবি করে একটি নাটকীয় আবেদনের মাধ্যমে গত ২০/৪/২০২২ তারিখে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। সেই প্রতিবেদনে তিনি স্পষ্টভাবে কিছু উল্লেখ করতে পারেনি। তিনি বৈধ দলীল ও কাগজের নাম মাত্র অযুহাত দেখিয়ে অপর পক্ষের নিকট থেকে ১৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে তাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। তার এমন বিষয় নিয়ে আমার পুরো পরিবার চিন্তিত হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, আমার মায়ের ক্রয়কৃত জায়গাটি ভাগ বাটোয়ারায় আমার ভাগে পড়ার কারণে বিষয়টি নিয়ে আমি ও আমার স্বামী বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে জানতে পারি যে এই জমি দখল নিতে মাদক ব্যবসায়ী চক্ররা জড়িত। যারা কালো অর্থে সজ্জিত তাদের সাথে হাত মিলিয়ে আমার পরিবারকে হয়রানি করছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমার বৈধ কাগজ দলীল থাকার পরেও তিনি কিভাবে এমন নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিলেন সেটি আমি স্পষ্ট নয়। আমি একজন শিক্ষিকা হয়ে সত্য উদঘাটন নিয়ে আজ অসহায়ত্ব বোধ করছি। আজ মাদক সম্রাট ভূমি দস্যু আর স্বার্থ লোভী সহকারী কমিশনারের (ভূমি) রোষাণলে পড়ে নিজের বৈধ জায়গা নিয়ে বিপাকে পড়েছি। গোদাগাড়ী ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার মোক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে পুর্বেও নানা অভিযোগ রয়েছে। সিরাজগঞ্জের এই চতুর ব্যক্তির বিরুদ্ধে গোদাগাড়ী উপজেলার মাদার পুরের জৈনক ব্যক্তির ২য় স্ত্রীর সাথে নারী কেলেংকারির অভিযোগ রয়েছে। পুর্বে সরকারি পুকুর অবৈধ ভাবে দেওয়ার চেষ্টা এই নিয়ে আদালতে মামলাসহ নানা অভি্যোগ রয়েছে এই ভুমি অফিসের বিরুদ্ধে।

অধ্যাপক ফজিলাতুন নেছা কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে অপরাধীদের রষাণলে পড়ে আজ নিজের জমি নিয়ে ভুমি সহকারি কর্মকর্তার অনৈতিক ফাঁদে পড়ে সঠিক সমাধানের দিন গুনছি। ভুমি সহকারি কর্মকর্তার অপসারণসহ তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান কলেজ শিক্ষিকা।


প্রকাশিত: মে ৭, ২০২২ | সময়: ৮:২২ অপরাহ্ণ | আসাদুল্লাহ গালিব