Daily Sunshine

পদ্মার চরাঞ্চলে সরিষার হলুদ ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা : হলুদ ফুলে ভরে গেছে দিগন্তজোড়া মাঠ। কী অপরূপ সরিষার ক্ষেত! যতদূর চোখ যায়, কেবল হলুদ আর হলুদ। হলুদের সমারোহে সজ্জিত সরিষার প্রতিটি ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। সরিষার ব্যাপক চাষাবাদ গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। যা দেখে অনেকের মন নেচে উঠবে হর হামেশাই।

প্রিয় পাঠক, সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো, সরিষার রাজ্যে ডুব দিতে খুব বেশি দূরে যেতে হবে না আপনাকে । যদি প্রিয়জন কে নিয়ে ছবি তুলতে চান, তাহলে আপনাকে আসতে হবে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিস্তৃর্ণ পদ্মার চরাঞ্চলে।

কৃষকদের মতে, চলতি রবি মৌসুমে সরিষায় ভোরে গেছে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের প্রমত্ব পদ্মার বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চল-সহ সমতল এলাকার ছয়টি ইউনিয়নি এবং দু’টি পৌর সভার অনেক মাঠ । যাদের ছবি তুলতে ভালো লাগেনা, তাদের কেউ যেনো হাত ছানি দিয়ে ডাকছে এ অঞ্চলের হলুদে রঙ্গিন সরিষা ক্ষেত গুলো।

প্রতিদিন বিনোদন প্রিয় অনেক মানুষ সহ শিক্ষার্থীরা ছুটছেন সরিষা ক্ষেতে দাড়িয়ে কিংবা বসে একটি ছবি তুলতে। এ দিক থেকে বাদ পড়েননি উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান নিজেও। তিনি গত ক’দিন পূর্বে ছুটে গিয়ে ছিলেন বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলে সরিষা ক্ষেত পরিদর্শনে। অত:পর কাজের ফাঁকে তুলে নেন একটি চমৎকার ছবি।

শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, সরিষা বর্ষজীবী উদ্ভিদ। এর উৎপত্তিস্থল এশিয়া। ভারতীয় উপমহাদেশ-সহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শীতকালীন রবি শস্য হিসেবে সরিষার চাষ করা হয়। তবে বাংলাদেশে দিন-দিন এর উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ থেকে উৎপাদন করা হয় তেল। যা সয়াবিন এবং পাম ওয়েল এর চেয়ে গুনগত দিক থেকে অনেক বেশী সমাদৃত। অনেকেই সরিষা বেঁটে ইলিশ সরিষা রান্না করে থাকেন। যা ভোজন প্রিয় মানুষদের জন্য অনেকটায় প্রিয়।

বাঘা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চলতি রবি মৌসুমে বাঘা উপজেলায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। সরিষা বিক্রি করে এবার কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে বলে আশা করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় তার ব্যয় হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি ৩ মণ সরিষা আসবে। গত বছর প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করেছেন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা । তাঁর মতে, বাজারদর ভালো পেলে এবারও তিনি সরিষা বিক্রি করে লাভবান হবেন। সরিষার ফুল আসে এক মাস পর। দেড় মাস পর ফুলে সরিষা ধরে। চাষের তিনমাস পর সরিষা পরিপক্ব হয়।

চকরাজাপুর ইউনিয়ের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, চরের মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ। সরিষার ফুলে আকৃষ্ট মৌমাছিরাও এখন ব্যস্ত মধু আহরণে। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। হলুদের সমারোহে সজ্জিত সরিষার প্রতিটি ফুলে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন।

তাঁর মতে, বাঘা কৃষি সমৃদ্ধ শালী একটি উপজেলা। এখানে সকল ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকা মিলে যে পরিমান শাক-সবজি এবং ফসল উৎপাদক হয়, তার চেয়েও বেশি পরিমান উৎপাদন হয় পদ্মার চরাঞ্চলে।

ডিসেম্বর ২০
০৯:৫০ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]