Daily Sunshine

বাঘা থানায় জিডি করার হিড়িক, বাড়ছে আত্নহত্যার প্রবনতা !

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা : দেশের প্রতিটা মানুষ তাঁদের প্রয়োজনী এবং গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ-পত্র সতর্কতা এবং নিরাপদ স্থানে রাখবে এটায় স্বাভাবিক। কিন্তু বাঘার ক্ষেত্রে এ নিয়েমের তোযাজ্জা করছেন না অনেকে। ফলে প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে একেক জনের নামীয় (এন.আই.ডি) কার্ড-সহ পড়া-লেখার একাধিক সনদ। এ জন্য প্রতিদিন বাঘা থানায় ডিড়ি করা হচ্ছে কমকরে হলেও ১০ থেকে ১৫ টি। এ ঘটনায় বিব্রত বোধ করেছেন খোঁদ থানা পুলিশের অনেক সদস্য।

বাঘা থানা পুলিশের একটি মুখপত্র জানান, এ উপজেলায় (এই.আই.ডি) কার্ড, এবং পড়া-লেখা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট-সহ নানা গরুত্বপূর্ন কাগজ পত্র হারানোর হিড়িক পড়ে গেছে । এর রহস্য কি আমরা বুঝছিনা। এ থানায় গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ টি করে ডিড়ি লিখতে হচ্ছে । আবার কখনো-কখনো তার চেয়েও বেশী। কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, এ গুলোর সব কিছুর মুলে রয়েছে উদাসিনতা। কেউ-কেউ মন্তব্য করছেন, প্রয়োজনী এবং গুরুত্বপূর্ন জিনিষ গুলো নিরাপদে রাখার জন্য প্রয়োজনে মাইকিং করোনা হোক। এতে করে মানুষের মধ্যে সতর্কতা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি হবে।

প্রক্ষান্তরে বাজারে বিক্রীত বিষের গুরুত্ব এবং মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকার লোকজন বলছেন, পূর্বের যেন কোন সময়ের চেয়ে এখন বেশি পরিমান মানুষ বিষ প্রান করছে। এরপর লোকজন তাদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। অত:পর চিকিৎসার বিনিময়ে তারা সুস্থ হয়ে উঠছেন। অথচ এর আগে বিষপ্রান করা রুগীদের অধিকাংশ জনই মারা যেতো। এ দিক থেকে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

বাঘার বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মনোয়ারুল ইসলাম মামুন তাঁর অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, এ বিষয়ে সরকার একটি নির্দিষ্ট আইন পাশ করে রেখেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, কেউ যদি স্বেচ্ছায় বিষ প্রানে অত্নত্যার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। আর এ জন্য সমাজের যে কোন সচেতন মানুষ যদি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাহলে তার জন্য নুন্যতম একটি সাজা দুই থেকে তিন মাস কারাদন্ডের ব্যবস্থা রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই মাসে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রায় ১৪ জন্য ছেলে-মেয়ে(শিক্ষার্থী) বিষপ্রানে আত্নহত্যা করে জীবনের জ্বালা মেটানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। এদের অনেক হাতে ব্লেট দিয়ে কাটা দাগ কিংবা সিগারেটর স্যাকা রয়েছে। যা পরিবারের লোকজন দেখেও দেখেন না। উপরুন্ত এদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে স্মাট ফোন।

এ বিষয়ে সমাজের অভিজ্ঞ মহলের সাথে কথা কললে তারা বলেন , এই দু’টি বিষয়ে যাদের নাম উঠে এসছে তাদের অধিকাংশ জনই বাল্য বিয়ে কিংবা প্রনয় ঘটিত বিষয়ের করনে এসব পথ বেছে নিচ্ছে । এ জন্য তারা উপজেলা প্রশাসসনের পক্ষ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মাঝে মধ্যে-মা সমাবেশ সহ শিক্ষার গুনগত মন উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার দাবি জানান।

সার্বিব বিষয়ে বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন নানা বিষয়ে জিডি করার ঘটনাটি এখেনে নিত্য নৈমত্তিক হয়ে দাড়িয়েছে। তাঁর মতে, এ থানায় পালিয়ে বাল্য বিয়ের ঘটনা দিন-দিন বেড়ে চলেছে। এ ক্ষেত্রে ছেলের বাবা গরিব হলেই মেয়ের পরিবার চলে আসছেন অপহরণ মামলা দায়ের করতে। তিনি এ সব বিষয়ে সমাজের সুধীজন এবং অভিজ্ঞ মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার (টি.এইচ.ও) ডা: রাশেদ আহাম্মেদ জানান, রুগী এলে চিকিৎসা দেয়। কিন্তু তারা কেন বিষ প্রান করে আত্নহত্যার চেষ্টা করছে সে বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে চায়না। অনেক সময় গনমাধ্যম কর্মীরা তাদের তথ্য উপাথ্যের ভিত্তিতে এর রহস্য উৎঘাটন করে থাকেন। তাঁর মতে, ঘটনা যায় হোকনা কেন , এ বিষয়ে পরিবার এবং সামাজিক ভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা খুবই জরুরী।

অক্টোবর ১২
০৯:০১ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]

সর্বশেষ