Daily Sunshine

একজন ব্যতিক্রমী নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা

Share

নুরুজ্জামান,বাঘা : উপজেলা নির্বাহী অফিসার(সংক্ষেপে ইউএনও)হলেন উপজেলার প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার)এর একজন কর্মকর্তা। সাধারণ ভাবে ইউএনও বাংলাদেশের পদমর্যাদা ক্রমঅনুসারে সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার একটি পদ। এ পদে থেকে অনেকেই দাম্ভিকতা প্রকাশ এবং অহংকারী হয়ে থাকেন বলে নানা জনের বিরুপ মন্তব্য রয়েছে ।কিন্তু রাজশাহীর বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানার বিষটি সম্পুর্ণ ভিন্ন ।

তিনি সর্বদা হাসজ্বল এবং সহজ সরল একজন সাদা মনের মানুষ। তাঁর কার্যালয়ে যেতে পরেন না এমন কোন মানুষ নেই । একজন ষাধারণ লুঙ্গী পরা মানুষ কোন প্রয়োজনে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তাকেও চেয়ারে বসতে বলেন তিনি । এ ছাড়াও নানা মুখি উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ ও শিক্ষার মান উন্নয়েন কাজকরা-সহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে তার সরব উপস্থিতি জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এ জন্য অনেকেই তাকে ইতোমধ্যে সুযোগ্য ও মানবিক ইউএনও খেতাব দিয়েছেন !

তিনি বাঘা উপজেলায় নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকে লক্ষ করা যাচ্ছে, কর্মই একমাত্র তার ধ্যান ও জ্ঞান। কর্ম পাগল এই মানুষটি প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত আট-নয়টা অবধি তার উপর অর্পিত সকল সরকারি দায়িত্ব পালনে নিরলস পরিশ্রম করে চলছেন। তাঁর সাথে কোন বিশেষ প্রয়োজনে, দেখা মেলেনি এমন ঘটনা বিরল! দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষকে সহযোগিতা, চিকিৎসা বঞ্চিতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, করোনায় সংকটে উপজেলা প্রশাসনের পুরো টিমকে নিয়ে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে কাজ করানো, লকডাউনে দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো , ক্ষুধার্থদের খাবার পৌঁছানো যা তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে করে চলেছেন।

বাঘা উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানান ,২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে টাঙ্গাইলে অবস্থিত শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে চান্সপ্রাপ্ত একজন ছাত্রী টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছে না জানার পর, তাঁর ভর্তির যাবতীয় টাকা পরিশোধ করে তিনি মেয়েটিকে ঐ মেডিকেলে ভর্তির ব্যবস্থা করেছেন। এ ছাড়া এ বছর বাঘার দুর্গম চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিলে তিনি দফায়-দফায় জেলা প্রশাসনের নিকট থেকে ত্রাণ সহায়তা এনে চরাঞ্চল বাসীদের মাঝে বিতণের ব্যবস্থা করেন।

নির্বাহী কর্মকর্তা সম্পর্কে আড়ানী ইউপি চেয়ারম্যান ও আড়ানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান ,মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী চলমান প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ভূমি-গৃহহীনদের জন্য বাঘায় বর্তমান ইউএনও এর মাধ্যমে ৩৫ টি বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বাড়ি নির্মাণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয়ণের ঘর তৈরিতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে । কিন্তু বাঘা উপজেলা তাঁর ব্যতিক্রম। এখানে নির্মানকৃত বাড়ি গুলোতে যতদিন লোকজন বসবাস করবেন ততদিন আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর নামের সঙ্গে নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানাকে স্মরণ রাখবেন।তিনি আরো বলেন, আমার ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে দীর্ঘ দিনের জলাবদ্ধতা থাকায় ফসল উৎপাদনে বিঘ্ন হচ্ছিল। বর্তমানে নির্বাহী কর্মকর্তা অত্র এলাকায় এসে কৃষকদের সাথে দু’দফা কথা বলে তিনি এই পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা করেছেন। এতে করে উপকৃত হয়েছেন অত্র এলাকার জনসাধারণ।

বাঘা উপজেলায় দির্ঘদিন কর্মরত মৎস্য অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে অনেক বছর ধরে চাকরি করছি। বিগত সময়ে কোন ইউএনওকে দেখিনি ব্যাক্তি উদ্যোগে কোরবানীর ঈদে গরু কুরবানী করে উপজেলার সকল কর্মচারী, আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী এবং এতিম খানায় নিজ হাতে মাংস বিতরণ করতে। এটি আমার জীবনে চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

বাঘার কয়েকজন ঠিকাদার জানান, গত অর্থবছরে এডিপি, রাজস্ব খাত, এবং এলজিএসপি-সহ যে সকল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্য হয়েছে তার সবগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা। এরপর যে কাজে ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়েছে তা নতুন করে কাজ করিয়ে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, বিগত সময়ে কাজের কিছু অনিয়ম হলে আমরা প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে বিল উত্তোলন করেছি। কিন্তু বর্তমানে সে সুযোগ নেই। এতে করে সাধারণ জনগনও নির্বাহী কর্মকর্তার উপরে সন্তশ প্রকাশ করেন।

বাঘা বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন বলেন, বর্তমান ইউএনও’র মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে খাদ্য পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, মূল্য তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশনা এবং ওজনে কম দেয়ার বিষয় গুলো একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে মাংস হাটে দুর্বল এবং রোগাকান্ত গরু জবাই কারার সাহস আর কেউ রাখেনা। মুকুল আরো বলেন, এর আগে বাঘায় অনেক ইউএনও এসছেন, তবে ব্যবসায়ীদের ডেকে কেও কখনো এভাবে সভা করেননি।

বাঘা রহমোতুল্লাহ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সকল দপ্তর প্রধানদের সঠিক সময়ে অফিস করানো এবং সাড়ম্বরে জাতীয় যে কোন দিবস পালন এবং নানা মুখি খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপক সাড়া জুগিয়েছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা।

তবে নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা দাবি করেছেন, তিনি যা করছেন তা সবই জনগনের কল্যানে। তাঁর মতে, উপজেলা পর্যায়ের সকল দপ্তরের কর্মকর্তাগণ যদি সঠিম সময় মতো অফিস করেন তাহলে জনগণকে একশ ভাগ সেবা দেয়া সম্ভব। এতে করে সেবাসমূহ সম্পর্কে জনগণের আস্থা ও আগ্রহ বাড়বে। এ জন্য তিনি সকল অফিসারদের সাথে নিয়ে একটি-টিম হিসেবে কাজ করছেন, এর ফলে কাজের গুণগতমান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনগণ সকল দপ্তরের সেবা দ্রুততার সাথে পাচ্ছেন। তিনি প্রতি মাসে অন্তত একটি করে ইউনিয়নে সমন্বিত সেবা প্রদান কর্মসূচী অব্যাহত রাখা সহ বর্তমান সরকারের ডিজিট্যাল বাংলাদের গড়ার স্বপ্ন পুরনে নানা মুখি উন্নয়ন এবং জনসংখ্যা কমিয়ে আনতে অভিশপ্ত বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে কাজ করে যাবেন বলে অভিমত ব্যাক্ত করেন। এ জন্য তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেছেন।

অক্টোবর ০২
০৭:৫৭ ২০২১

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]