Daily Sunshine

আদমদীঘিতে প্রতিবন্ধী যুবককে নির্যাতন করে ২০হাজার টাকায় পার পেলেন অভিযুক্তরা

Share

আদমদদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:আদমদীঘিতে মোবাইল চুরির সন্দেহে সুরুজ আলী নামের এক প্রতিবন্ধিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ধামা চাপা দেওয়ার জন্য গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসা করেন প্রভাবশালী মহল। শনিবার দুপুরে উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের কাশিমিল্লাহ গ্রামের স্কুল মাঠে ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু ও মেম্বার মোঃ মামুনের উপস্থিতে ওই প্রতিবন্ধি যুবকের কাছে শরেফুলের ছেলে নাহিদ, আক্কেল আলীর ছেলে বুলু, জয়মুল্লার ছেলে রাজু মাফ চেয়ে টাকা দিয়ে মিমাংসা করেন।

জানা যায়, মোবাইল চুরির সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধি সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তাকে নির্মম ভাবে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রামে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন প্রভাবশালী মহল। তারই ধারাবাহিকতায় শনিবারে দুপুরে কাশিমিল্লাহ স্কুল মাঠে সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের উপস্থিতে সাবেক শিক্ষক আজিজার রহমানের সভাপতিত্বে গ্রাম্য শালিস অনুষ্ঠিত হয়। শালিসে নির্যতনকারী মোবাইলের মালিক শরেফুলের ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অপর নির্যতনকারী শরেফুলের ছেলে নাহিদ, বুলু, রাজু মাপ চেয়ে নেয়। ফলে এত বড় ঘটনা ঘটিয়ে ও সামান্য জরিমানা ও মাপ চেয়ে পার পেলেন নির্যানকারী ব্যাক্তিরা। বিচারের রায়ে সন্তুষ্ট না হলেও মুখ বুঝে সহ্য করে গেলেন প্রতিবন্ধি সুরুজ আলীর হতদরিদ্র পরিবার। যেনো ক্ষমতার কাছে অসহায়রা জিম্মি হয়ে আছে এমনটা বলছেন সুশীল সমাজের মানুষগুলো।

এ ব্যাপারে গ্রাম্য শালিসের সভাপতি সাবেক শিক্ষক আজিজার রহমান জানান, মানসিক প্রতিবন্ধি সুরুজের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য প্রমানে অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হয় এবং আরো প্রমানিত হয় যে মোবাইলটি চুরিই হয়নি। এ কারনে এবং অন্যায় ভাবে নির্যাতন করায় চিকিৎসা খরচ হিসাবে শরেফুলের নিকট থেকে ওই টাকা নিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া শরেফুল হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় সুরুজের হতদরীদ্র পরিবার তা নিরবে মেনে নেয়। তিনি আরও জানান, এখানে কোন বিচার শালিস হয়নি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বসেছিলাম।

সান্তাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু ও গ্রামের সম্মিলিত লোকজন এ রায় প্রদান করেন। এ বিচার শালিস ওই গ্রামের অনেকে মেনে না নিলেও নির্যতনকারীরা প্রভাবশলী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে মূখ না খুললেও তাদেরে মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক।

এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্য জালাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, ঈদের পরদিন গত ১৫ মে বেলা ১১ টারদিকে উপজেলার কাশিমিলা গ্রামের শরেফুলের মার্কেটের দোকান থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। পরে ওই মোবাইল চুরির সন্দেহে ওইদিন রাতেই প্রতিবন্ধি যুবক সুরুজকে ধরে শরেফুলের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে হাত-পা এক সাথে বেধে লাঠি দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যতন করা হয়।

 

মে ২৩
১৫:৫৭ ২০২১

আরও খবর