Daily Sunshine

এক রাতে তিনজন খুন

Share

সানশাইন ডেস্ক : দেশের তিন জেলায় এক রাতে তিনজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাতের বিভিন্ন সময় তাদের হত্যা করা হয়। বগুড়া, পাবনা ও রাজশাহী জেলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যবসায়ী, রাজমিস্ত্রী ও একজন যুবক রয়েছেন। কেন ও কি কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেনি। খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

পাবনা: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের পাটেশ্বর নামক স্থানে আকরাম আলী নামে ৪২ বছর বয়সী এক রাজমিস্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশের ধারনা।

বুধবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত আকরাম জেলার চাটমোহর উপজেলার কচুয়াগাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।

আটঘরিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় লাশের পাশে থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও জানান, নিহত আকরাম আলীকে পিটিয়ে এবং মুখ থেতলে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধান করছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারনা বাড়ি থেকে কৌশলে তুলে এনে হত্যার ওর দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে যায়।

রাজশাহী: জেলার বাঘা উপজেলায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সকালে উপজেলার তেঁথুলিয়া শিকদারপাড়া এলাকায় তার লাশ পাওয়া যায়। ওই যুবক নিখোঁজের ব্যাপারে আগের রাতে বাঘা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিল পুলিশ।

নিহত যুবকের নাম জহুরুল ইসলাম (২৮)। তার বাড়ি উপজেলার মনিগ্রাম মধ্যপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম রফিকুল ইসলাম। জহুরুলের তিন বছর বয়সী একটা মেয়ে আছে। জহুরুল বাঘার পানিকামড়া এলাকার একটি মোবাইল ফোনের দোকানে চাকরি করতেন। এই দোকানে তিনি ফোন বিক্রি করতেন। এছাড়া এই দোকান থেকে বিভিন্ন এলাকার মোবাইলের দোকানে তিনি ফোন দিয়ে আসতেন এবং রাতে টাকা আদায় করতেন।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন তেঁথুলিয়া শিকদারপাড়া গ্রামের একটি নির্জন স্থানে রাস্তার পাশে জহুরুলের মোটরসাইকেলটি রাখা দেখতে পান। মোটরসাইকেলের ওপর মোবাইলের একটি কার্টুন ছিল। তবে ভেতরে কোন মোবাইল সেট ছিল না। আর পাশেই পড়ে ছিল একটি হাসুয়া। এর কিছুটা দূরে জহুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ পড়েছিল। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম রয়েছে। লাশটি দেখার পর স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। সকাল ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

ওসি জানান, মঙ্গলবার দুপুরের পর এক ব্যক্তির সঙ্গে জহুরুল দোকান থেকে বের হন। রাত থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। তাই পরিবারের লোকজন বিষয়টি থানায় অবহিত করেন। এরপর পুলিশ একটি জিডি করে তার সন্ধান পেতে কাজ শুরু করে। কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে তার লাশ পাওয়া গেল।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ধারণা করছি অন্য কোন স্থানে জহুরুলকে হত্যা করে তেঁথুলিয়া এলাকায় লাশ ফেলে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। এ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

বগুড়া: গতকাল সন্ধ্যার পর বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ইতালি পূর্বপাড়া গ্রামে বাড়ির সামনে এক ব্যবসায়ীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর একটি মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তার নাম ফরিদুল ইসলাম।

নিহত ফরিদুল ভবানীপুর ইউনিয়নের ইতালি গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় ছোনকা বাজারে রড সিমেন্টের ব্যলবসা করতেন।

জানা গেছে, ফরিদুল ইসলাম সন্ধ্যার পর তার দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির দরজার সামনে পৌঁছাতেই আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাকে ডাক দেয়। বাড়ির দরজার সামনে দাড়ালে দুর্বৃত্তরা তাকে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

শেরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যকতা নিশ্চিত করে জানান, কি কারণে ফরিদুলকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে এখন জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে এলাকায় অভিযান চলছে।

সানশাইন/০৬ জানুয়ারি/রনি

জানুয়ারি ০৬
১২:৩৮ ২০২১

আরও খবর