Daily Sunshine

হারিয়ে যাচ্ছে মাটির বাড়ি

Share

পত্নীতলা প্রতিনিধিঃ আধুনিকতার ছোঁয়ায় কালের আবর্তে বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্য মাটির তৈরী ঘরবাড়ি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্ষার মৌশুমে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও প্রাচীন ঐতিহ্যের এসব মাটির ঘরবাড়ি গরম বা শীতের দিনে অত্যন্ত আরামদায়ক। বরেন্দ্র অঞ্চলে এখনো কিছু উঁচু এলাকায় মাটির তৈরী ঘরবাড়ি দেখা গেলেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও ঝুঁকি এড়াতে নতুন করে যারা বাড়ি তৈরী করছেন তারা ইট-বালি আর সিমেন্ট দিয়েই পাকা বাড়ি তৈরী করছেন।

বরেন্দ্র অঞ্চলের পত্নীতলা সহ অত্র এলাকায় বেশ কিছু গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রাচীনকাল থেকেই বরেন্দ্র অঞ্চল পত্নীতলা সহ নওগাঁ জেলার বিস্তৃত জনপদে মাটির তৈরী ঘরবাড়ির প্রচলন ছিল। বর্তমানে প্রায় গ্রামেই মাটির তৈরী ঘরবাড়ি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে প্রতিকূল অবস্থা ও আধুনিকতার ছোঁয়ায়।

প্রাচীনকাল থেকে দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানরাও মাটির ঘরবাড়ি তৈরী করে বসবাস করতেন। তবে অনেক বড় বড় পুরোনো মাটির তৈরী বাড়ি রয়েছে যেগুলোতে এখনও বরেন্দ্র অঞ্চলের বিত্তবানরা বসবাস করছেন। পুরাতন ঐতিহ্যের ছোঁয়া রয়েছে এসব বাড়িতে। বরেন্দ্র অঞ্চলের জমির লাল মাটিকে কাদায় রুপান্তরিত করে সেই মাটি দিয়ে প্রথমে বাড়ির ভীত দেয়া হয়। সেই ভীত শুকাতে সময় লাগে প্রায় ২০/২২ দিন। ভীত শুকানোর পর একতলা বা দোতলার উপর ভিত্তি করে তৈরী মাটি দিয়ে ঘরের দেয়াল তোলা আরম্ভ হয়। ঘরের প্রয়োজনীয় স্থান গুলোতে দরজা- জানালা স্থাপনের জন্য কাঠ অথবা তাল গাছের তীর বা তকতা ব্যবহার করা হয়। এরপর ঘরের ৭/৮ ফিট দেয়াল তোলা হলে এর উপরে তাল বা কাঠের তীর ব্যবহার করা হয় এবং তার উপরে বাঁশ অথবা কাঠের তকতা বিছিয়ে তালা পাড়ানো হয়।

মাটির ঘরকে দোতলা করতে চাইলে একইভাবে ছাউনি ছাড়াই একতলার উপরে পুনরায় দোতলা’র দেয়াল উঠানো হয়। উপর তলায় ওঠার জন্য ঘরের এক ধারে অথবা মাঝে মাটি অথবা কাঠের তৈরী সিড়ি তৈরী করা হয়। দোতলাতেও একই ভাবে জানালা দরজা সহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে তার উপরে পূর্বের ন্যায় তাল বা কাঠের তীর বসিয়ে পূনরায় তালা পাড়ানো হয়। এরপর তার উপরে টিন বা খড়ের ছাউনি দেয়া হয়। মাটির ঘর গুলির ভিতের উপরের দেয়াল ৩/৪ ফুট চওড়া করে ক্রমান্বয়ে মাথায় যেয়ে তার অর্ধেক চওড়া রাখা হয়। মাটির ঘর তৈরীর করার পর ভিতর ও বাহিরের দেয়ালে প্রলেপ সরুপ মাটিদ্বারা লেপানো হয়। এবং সেই প্রলেপ পূর্নভাবে শুকানোর পর পছন্দসই রং করলেই একটি সুন্দর মাটির বাড়ি তৈরী হয়। একাজে অনেক সময় গৃহিণীরাই তাদের হাতের স্পর্শে লেপ পোচন করে সেই মাটির তৈরী ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।

অত্র এলাকার প্রবীন ব্যক্তিরা জানান, এক সময় মাটির তৈরী ঘরবাড়ি ছিল গরমের সময় ঠান্ডা, আর শীতের সময় গরম। যা গ্রামীন ভাষায় বলা হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এখন সেই মাটির তৈরী ঘরবাড়িতে বসবাস করতে চাননা বর্তমান প্রজন্ম। প্রতিকুল অবস্থা ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষ এখন মাটির বাড়ি ছেড়ে ইটের বাড়ি তৈরী করতে শুরু করেছে। তবে মাটির তৈরী ঘরের ঐতিহ্যের ছোঁয়া এখনও ধরে রেখেছে বরেন্দ্র অঞ্চলের মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো।

তারা আরো জানান, তাদের বাপ দাদার আমল থেকে মাটির বাড়িতে বসবাস করলেও প্রাকৃতিক দূর্যোগ এড়ানো সহ সময়ের সাথে তাল মিলে ইট, রড, বালু, সিমেন্ট দ্বারা তৈরী দালান ঘর নির্মান করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান অবস্থায় কাঠ, বাঁশ, খড়, টিন ও মাটির মূল্য বিবেচনা করে ইট দ্বারা বাড়ি তৈরী করা বুদ্ধিমানের কাজ বলেও তারা জানান।

সানশাইন/২১ অক্টোবর /এম ইউ

অক্টোবর ২১
১৮:৩০ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

রোজিনা সুলতানা রোজি : প্রকৃতিতে এখন হালকা শীতের আমেজ। এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাপা পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন সবাই। আর এই উপলক্ষ্যটা কাজে লাগচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লোকসমাগম ঘটে এমন মোড়ে ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন অনেকেই। ভাসমান এই সকল দোকানে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেক পিঠা প্রেমী। রাজশাহীর বিভিন্ন

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ৩ এপ্রিলের স্থগিতকৃত নিয়োগ পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সেকশন অফিসার ও পাবলিক রিলেশন অফিসার পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদের লিখিত

বিস্তারিত