Daily Sunshine

নিয়ম ভেঙ্গে রাবি শিক্ষকের আবাসন ব্যবসা

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের জামায়াতপন্থী অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান সরকার এবং একই রাজনৈতিক আদর্শে সক্রিয়ভাবে জড়িত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী রেজিস্ট্রার ড. মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে সোমবার আরডিএ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নগরীর মির্জাপুর মৌজার আরএস ১৩৮ নম্বর দাগে ২৮টি ফ্লাট এবং গাড়ী পার্কিংসহ ৮তলা নির্মাণের লক্ষে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ৫জন শিক্ষকসহ ১০ জন ভূমি মালিক ২০১৫ সালের ১ জুন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘তুষার কর্পোরেশন লিমিটেড’ এবং রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান সরকার, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম ও রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী রেজিস্ট্রার ড. মমিনুল ইসলামসহ ৯ জনের সঙ্গে চুক্তিপত্র করেন। যার দলিল নং ২৪৮৬। চুক্তি অনুযায়ী ভূমি মালিকদের নিকট ফ্ল্যাট হস্তান্তর করার কথা ছিল ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে। কিন্তু নির্মাণশৈলীর পরিবর্তন এনে ডেভেলপাররা ২০১৭ সালের ৩০ মে ভূমি মালিকদের সাথে দ্বিতীয় দফায় নুতন করে চুক্তি করে। এতে ‘তুষার কর্পোরেশন লিমিটেড’ এর পরিবর্তে ‘ইউনিসিটি প্রপার্টি এন্ড ডেভেলপারস লিমিটেড’ এবং রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান সরকার ও রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী রেজিস্ট্রার ড. মমিনুল ইসলাম ডেভেলপার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হন। যার দলিল নং ৩৪৫৮। দ্বিতীয় চুক্তিনামায় সংশ্লিষ্ট ইউনিসিটি প্রপার্টি এন্ড ডেভেলোপারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল ইসলাম রাবি অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান সরকারের আপন ভাগ্নে।

দ্বিতীয় চুক্তিনামা অনুযায়ী ফ্ল্যাট হস্তান্তরের কথা ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে। এরপর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ভবনটির নির্মাণকাজ এখনও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে ভবনটিতে নিয়ম বহির্ভুতভাবে নকশারও পরিবর্তন করেছেন ডেভেলপাররা। ভবনটিকে ২৮টি ফ্ল্যাট থাকলেও প্রবেশ ও বাহিরপথ রয়েছে মাত্র একটি। যার প্রশস্ততা ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি। এছাড়া সিড়ির প্রশস্ততা মাত্র ৩ ফুট ৭ ইঞ্চি। নেই গার্ড রুম। অথচ আরডিএ’র ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ি ভবনটিতে কমপক্ষে দুটি সিড়ি ও দুটি লিফট থাকার কথা। থাকার কথা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন। কিন্তু এসবের কোন কিছুই করেনি ডেভেলপাররা। এছাড়া বহুতল এই ভবনে নেই অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির জমির মালিক ১০ জনের মধ্যে ৫জন ফ্লাট পেয়েছেন। অপর ৫জন ফ্লাট না পেয়ে এখনও ডেভেলপারের পেছন পেছন ঘুরছেন। ২৮টি ফ্লাটের মধ্যে জমির ৫জন জমির মালিক এবং ডেভেলপরদের নিকট থেকে ৯টি ফ্লাট কিনে ৫ জন বসবাস শুরু করেছেন। ভবনটির আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়েছে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। ফলে জীবাণুযুক্ত এই পানিই ব্যবহার করতে হচ্ছে বসবাসকারীদের।

এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান সরকার ও রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী রেজিস্ট্রার ড. মমিনুল ইসলাম ডেভেলপার হিসাবে জমির মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেও নিয়ম অনুযায়ি তারা লাভজনক আবাসন ব্যবসা করার জন্য বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে কোন অনুমতি গ্রহণ করেননি।
অভিযোগ উঠেছে, ফ্লাট বুঝে না পাওয়া জমির অপর ৫ মালিক তাদের ফ্লাটের জন্য এবং ভবনে বসবাসকারীরা চুক্তি অনুযায়ি লিফট, সিড়ি ও বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন স্থাপনসহ অন্যান্য সমস্যা সম্ধাানের জন্য ডেভেলপারদের একাধিকবার বললেও তারা কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। উল্টো একটি ফ্লাটের ক্রেতা ইতি সরকারের স্বামী অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলামকে এসব বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে ডেভেলপাররা হুমকি দিলে তিনি মতিহার থানায় গত ১২ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন, ফ্লাট কেনার সময় ডেভেলপাররা আমাদের সাথে যে চুক্তি করেছেন, সে অনুযায়ি তারা কাজ করেননি। এমনকি নকশা অনুযায়ী তারা ভবনটি নির্মাণও করেননি। তারা আমাদের সাথে প্রতারণা করছে।

অভিযোগের বিষয়ে এবং বিশ^বিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া আবাসন ব্যবসায় সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, ইউনিসিটি প্রপার্টি এন্ড ডেভেলোপারস লিমিটেড আমার নয়, এটি আমার ভাগ্নের। ফলে আমি লাভজনক ব্যবসার সাথে জড়িত নই। তিনি বলেন, আমি নিজেও সেই ভূমির ১০ জন মালিকের একজন। আমার সাথে তাদের একটু ঝামেলা হয়েছে। এগুলো নিয়ে বসে আমি মিটমাট করে নিবো।
রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক ড. এম এ বারী বলেন, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কেউ এরকম লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারবেন না। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান সরকার ও রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী রেজিস্ট্রার ড. মমিনুল ইসলামের বিষয়টি আমার জানা নেই। তারা আবেদনও করেননি। যদি তারা লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগের পর নড়ে চড়ে বসেছে প্রতিষ্ঠানটি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরডিএ’র একজন কর্মকর্তা জানান, ইউনিসিটি প্রপার্টি এন্ড ডেভেলোপারস লিমিটেড নামের কোন প্রতিষ্ঠান আরডিএতে আবাসন প্রতিষ্ঠান হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তা সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিককে দায়িত্ব দেযা হয়েছে।

সানশাইন/১৬ সেপ্টেম্বর/ রোজি

সেপ্টেম্বর ১৬
১৯:৪৮ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

রোজিনা সুলতানা রোজি : প্রকৃতিতে এখন হালকা শীতের আমেজ। এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাপা পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন সবাই। আর এই উপলক্ষ্যটা কাজে লাগচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লোকসমাগম ঘটে এমন মোড়ে ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন অনেকেই। ভাসমান এই সকল দোকানে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেক পিঠা প্রেমী। রাজশাহীর বিভিন্ন

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

সানশাইন ডেস্ক: সাত ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা (২০১৮ সালভিত্তিক) স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ৬৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। শনিবার (২৮ নভেম্বর) ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যে সাতটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হলো হলো—সোনালী

বিস্তারিত