Daily Sunshine

পুঠিয়ায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকাতে এগিয়ে মুনজুর রহমান

সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই পুঠিয়া উপজেলায় বইছে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে তৃণমূলের রাজনীতি এখন বেশ চাঙ্গা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং মার্চের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবার পর্যায়ক্রমে ৪টি ধাপে সারা দেশে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এবারো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত পুঠিয়া উপজেলায় ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। গত দুই মেয়াদে এখানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়ার ব্যাপারটি চূড়ান্ত না হলেও সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি দলের হাইকমান্ডে জোর তদবির চালাচ্ছেন উভয় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছেয়ে গেছে। পছন্দের প্রার্থীকে দলীয় প্রতীক ভোট দেয়ার দাবি তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন উভয় দলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের মনোনয়ন চাওয়ার ব্যাপারে একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম শোনা যাচ্ছে।

তারা হলেন উপজেলা আ.লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মুনজুর রহমান,রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদ,

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অধ্যক্ষ গোলাম ফারুক, জেলার আ.লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের জেলা শাখার সাবেক সভাপতি জি এম হিরা বাচ্চু,

উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহিম কনক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ,  উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমনউজ্জামান সুমন।

এ ছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন চাওয়ার ব্যাপারে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খানেরও নাম শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী আ.লীগ-বিএনপির ৫ নেতা ইতিপূর্বে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের উপজেলা নির্বাচনে আ.লীগের সমর্থন পেয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেন মরহুম আব্দুস সোবহান মণ্ডল। তবে সে সময় দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে একই পদে নির্বাচনে অংশ নেন জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানউল হক মাসুদ এবং বিএনপির দলীয় সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মরহুম আবু ওয়ায়েজুল ইসলাম বাচ্চু। আ.লীগের দুই প্রার্থী থাকায় নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।

২০১৪ সালের নির্বাচনে আ.লীগের সমর্থন পেয়ে ফের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আহসানুল হক মাসুদ। তবে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেন পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রহিম কনক এবং বিএনপির সমর্থন নিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খান। দলের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ আ.লীগের দুই প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা।

এদিকে জেলা আ.লীগের অন্যতম সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা জি এম হিরা বাচ্চু ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছেন। সে নির্বাচনে আ.লীগের দলীয় সমর্থন পান উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মরহুম সারোয়ার হোসেন মিঠুন। আ.লীগের ২ প্রার্থী থাকায় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জামায়াত নেতা আহম্মদ উল্লাহ।

সবদিক বিবেচনাতে এবং তৃণমূলের পছন্দের তালিকাতে এগিয়ে আছেন ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে পরিচত উপজেলা আ.লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মুনজুর রহমান।

জানুয়ারি ২১
১৫:২৪ ২০১৯

আরও খবর