Daily Sunshine

‘ভোটে অনিয়ম’ তথ্যপ্রমাণের খোঁজে রাজশাহী বিএনপি’র প্রার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবেদন তৈরির জন্য তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে রাজশাহী জেলার ৬টি আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। এজন্য তারা ভোট কেন্দ্রে থাকা বিএনপি’র পুলিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে  অডিও, ভিডিও ও ছবিসহ তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে নেমেছে। কেন্দ্রের দিকনির্দেশনা অনুসারে এসব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে প্রার্থীরা মামলার প্রস্তুতি নিবেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ৬টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা ছিলেন, রাজশাহী-১ আসনে আমিনুল হক, রাজশাহী-২ আসনে মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনে শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আসনে আবু হেনা ও রাজশাহী-৫ আসনে নজরুল ইসলাম মণ্ডল। তবে রাজশাহী-৬ আসনে আবু সাইদ চাঁদের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায়, আসনটিতে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিল না। আর অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচনের দিন দুপুরেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন রাজশাহী-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু হেনা। 

সুত্রমতে, রাজশাহী-১ আসনের আমিনুল হক ৮৫ হাজার ৩৮১ ভোটে, রাজশাহী-২ আসনে মিজানুর রহমান মিনুর ১২ হাজার ১৪৬ ভোটে, রাজশাহী-৩ আসনে শফিকুল হক মিলন ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৮২, রাজশাহী-৪ আসনে আবু হেনা এক লাখ ৭৬ হাজার ২৫৫ ও রাজশাহী-৫ আসনে নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, রাজশাহীর ৬টি আসনের বিএনপি যে সমর্থন রয়েছে তাতে করে আসনগুলোতে দলটির প্রার্থীদের এভাবে ভরাডুবির কোন কারণ নেই। রাজশাহী-৪ এর মতো আসনে বিএনপি প্রার্থীর মাত্র ১৪ হাজার ভোট মেনে নেয়া যায় না। এছাড়া রাজশাহী-২ বাদে সবগুলোতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পেয়েছে দ্বিগুণেরো বেশি ভোট। ভোটের ব্যবধানের এমন সমীকরণই বলে দেয় ভোট নিয়ে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়ম হয়েছে।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্র থেকে গত ৩ জানুয়ারি ধানের শীষের প্রার্থীদের চিঠি দেওয়া হয়। সেখানে প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্বাচনের ‘অনিয়মের’ তথ্য সাত দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ১০ জানুয়ারি ছিল প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে রাজশাহীর কোনো প্রার্থীই তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি বলে নেতারা জানিয়েছেন। চিঠিতে প্রমাণস্বারূপ প্রার্থীদের নিজের ও পরিবারের সদস্যদের অবরুদ্ধ হয়ে পড়া বা হামলায় আহত, সহায়-সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য ও ছবি, ‘ভোট জালিয়াতি’, সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ‘তাণ্ডব’ ও অন্যান্য ‘অনিয়মের’ সচিত্র প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। 

জানুয়ারি ১১
২০:২৫ ২০১৯

আরও খবর