Daily Sunshine

পূর্ণমন্ত্রীসহ আনুপাতিক হারে মন্ত্রী নিয়োগের দাবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৯ আসনের মধ্যে ৩২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিশাল বিজয় হয়েছে। এ কারণে আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে বিভাগীয় মহানগরী রাজশাহীতে পূর্ণমন্ত্রীসহ জেলাগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় মন্ত্রিপরিষদে আনুপাতিক হারে মন্ত্রী নিয়োগের জোরালো দাবি উঠেছে এলাকাবাসীর মাঝে।

জাতীয় পর্যায়ে দুর্বল রাজনৈতিক প্রভাব ও উন্নয়নে অবহেলিত রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোতে বিএনপির আমলে পূর্ণমন্ত্রীসহ আনুপাতিক হারে একাধিক মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করলেও আওয়ামী লীগের বিগত তিন সরকারের আমলে এ অঞ্চল থেকে মন্ত্রিপরিষদে তেমন উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব ছিল না। ফলে হতাশ ছিল এ অঞ্চলের নেতাকর্মীসহ এলাকার উন্নয়ন প্রত্যাশী বিশাল জনগোষ্ঠীর।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এত বছর বিএনপি-জামায়াতের প্রভাবিত অঞ্চল আখ্যায়িত করে রাজশাহী অঞ্চল থেকে পূর্ণমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদে কাঙক্ষিত স্থান পায়নি আওয়ামী লীগ নেতারা। কিন্তু সময়ের হেরফেরে এখন রাজশাহী অঞ্চলের প্রতিটি জেলায় আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সংগঠনসহ যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে। সংগঠনের গতিশীলতা ধরে রাখাসহ এলাকার বৃহত্তর উন্নয়নের স্বার্থে রাজশাহী অঞ্চল থেকে মন্ত্রিপরিষদে ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব রাখা দরকার।

১৯৭৩ সালে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামানই ছিলেন রাজশাহী সদর থেকে বঙ্গবন্ধু সরকারের পূর্ণমন্ত্রী। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করলে রাজশাহী অঞ্চলের নওগাঁ থেকে মরহুম আবদুল জলিলকে বাণিজ্যমন্ত্রী করা হয়। পাশাপাশি রাজশাহী থেকে অধ্যাপিকা জিনাতুন নেসা ও নাটোর থেকে আবদুল কুদ্দুসকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। সিরাজগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ নাসিমকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় স্বরাষ্ট্র, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। তবে এতে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নের চিত্রটি তেমন হেরফের হয়নি। গড়ে ওঠেনি শিল্পাঞ্চলসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপযোগী অবকাঠামো। ফলে রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন আকাঙক্ষা থেকে গেছে সেই তিমিরেই।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে রাজশাহী বিভাগ থেকে পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগ দেয়া হয়নি। শেখ হাসিনার এ সরকারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এনামুল হককে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী, পাবনা থেকে শামসুল হক টুকুকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, নাটোর থেকে আহাদ আলী সরকারকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী করা হয়। সরকারের একেবারে শেষের দিকে রাজশাহী থেকে ওমর ফারুক চৌধুরীকে শিল্প প্রতিমন্ত্রী করা হয়। তবে আওয়ামী লীগের এ সরকারে, জয়পুরহাট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ জেলা থেকে কাউকে মন্ত্রী করা হয়নি।

২০১৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারে সিরাজগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ নাসিম, পাবনা থেকে শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ও নওগাঁ থেকে এমাজউদ্দিন প্রামাণিককে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়। রাজশাহী থেকে শাহরিয়ার আলম ও নাটোর থেকে জুনাইদ আহমেদ পলককে করা হয় প্রতিমন্ত্রী।

তবে এবারও বগুড়া, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মন্ত্রিপরিষদে কারও ঠাঁই হয়নি। বগুড়া থেকে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল মান্নানকে মন্ত্রী করার দাবি উঠলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। অতীতের ধারাবাহিকতায় রাজশাহী মহানগরী থেকে কাউকে মন্ত্রী করা হয়নি।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, অতীতে রাজশাহী অঞ্চল থেকে যারা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তারা নিজের নির্বাচনী এলাকার বাইরে বিশেষ করে বিভাগীয় শহর রাজশাহীর উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেননি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) এলাকার বাইরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যেমন যোগাযোগ এড়িয়ে চলেছেন তেমনি রাজশাহীর সামগ্রিক উন্নয়নে তার কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি।

তবে রাজশাহী মহানগরীর স্ট্যাটাস রক্ষা ও উন্নয়নে এবারে সদর আসন থেকে নির্বাচিত মহাজোট প্রার্থী (ওয়ার্কার্স পার্টি) ফজলে হোসেন বাদশাকে মন্ত্রী করার দাবিটি নানাভাবে আলোচনায় উঠছে। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের প্রকৌশলী এনামুল হক, নওগাঁ-১ (সাপাহার-পোরশা-নিয়ামতপুর) আসনের সাধন চন্দ্র মজুমদার, নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের আবদুল কুদ্দুস, পাবনা সদর আসনের গোলাম ফারুক প্রিন্স ও বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের আবদুল মান্নানকে মন্ত্রী নিয়োগের দাবি উঠেছে জোরেশোরে।

জানুয়ারি ০৩
১৫:৫৮ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

নতুন রূপ পাচ্ছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্যোগে মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে। একই সাথে সোনাদীঘি ফিরে পাচ্ছে তার হারানোর ঐতিহ্য। সোনাদীঘিকে এখন অন্তত তিন দিক থেকে দেখা যাবে। দিঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে পায়ে হাঁটার পথসহ মসজিদ, এমফি থিয়েটার (উন্মুক্ত মঞ্চ) ও তথ্যপ্রযুক্তি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সরকারি চাকরি প্রার্থীর বয়সে ছাড়

সানশাইন ডেস্ক : করোনা মহামারিতে সাধারণ ছুটিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সঙ্গে স্থগিত ছিল সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ কয়েক মাসে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পায়নি দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী। অংশ নিতে পারেনি কোনো নিয়োগ পরীক্ষাতেও। অনেকেরই বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০ বছর। স্বাভাবিকভাবেই সরকারি চাকরির আবেদনে সুযোগ শেষ হয়ে যায় তাদের। তবে এ দুর্যোগকালীন

বিস্তারিত