Daily Sunshine

প্রশাসন কঠোর: জনগণকেও হতে হবে সচেতন

Share

করোনা পরিস্থিতির শুরুতেই রাজশাহী জেলা লকডাউনের জন্য গণপরিবহণসহ মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা বাস্তবায়নে দৃষ্টান্তমূলক কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় এবার আবার কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এবার অন্তত করোনা মোকাবেলায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের যেন হের ফের না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
রাজশাহী জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্তের আগেই ৬ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বেরিয়ে রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ও রাসিক মেয়র উপস্থিত সাংবাদিকদের জানানা, সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সভায় রাজশাহী জেলাকে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সভার সেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক দ্বিমত পোষন করেন। অবশ্য এর কিছুদিন পর রাজশাহীতে করোনা রোগী সনাক্ত হলে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন লকডাউনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এসময় রাজশাহী জেলার রাস্তা ও বাজারে মানুষ চলাচলে প্রচণ্ড কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজিপুরসহ সংক্রমিত এলাকা থেকে আসা মানুষদেরকে নিয়ন্ত্রণে বা তাদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন পারেনি।
লকডাউনের মধ্যে রাজশাহীর চেকপোস্টগুলোতে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন বাইরের জেলার মানুষকে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। আর স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন তাদের চিহ্নিত করার পর হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। অবশ্য কোয়ারেন্টাইনের মধ্যেও তাদের অনেককেই বাইরে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। ফলস্বরূপ ১২ এপ্রিল থেকে রাজশাহীতে যে সকল সংক্রমিত রোগী পাওয়া গেছে তাদের সকলেই ছিলেন সংক্রমিত এলাকা থেকে আসা।
এর পর ৯ মে মার্কেট খোলার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে গিয়ে জনস্বার্থে রাসিক মেয়র ও সদর আসনের এমপি যখন নগরীর মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল রীতিমতো এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বসলো। তারা মার্কেট খোলার জন্য রাস্তায় আন্দোলনে নামলো। এর পর তিন দফা বৈঠক শেষেও স্থানীয় মেয়র, সাংসদ, প্রশাসন ও সিভিল সার্জননের নির্দেশনা অমান্য করে ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে মার্কেট খুলে ব্যবসা করে চলেছে। আর সেই মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করলো কিছু সাধারণ মানুষ। অথচ ব্যবসায়ীদের এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে কোন এ্যকশনে নামতে দেখা যায়নি।
এই যখন রাজশাহীর সার্বিক চিত্র তখন স্থানীয় জেলা প্রশাসনের পক্ষে মঙ্গলবার থেকে নিত্যপণ্য, কাঁচাবাজারসহ ওষুধের দোকান ব্যতিত রাজশাহী জেলার সকল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কেট বন্ধের বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর মহানগর পুলিশ রাজশাহী জেলা ও উপজেলায় বাইরের কাউকে প্রবেশ বা বাহিরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অবশ্য জেলা প্রশাসন এই আদেশ মে মাসের শুরুতেই জারি করেছেন। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহী নগরী ও উপজেলাগুলোতে অনুপ্রবেশ থেমে নেই।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে রাজশাহীর বাস্তব চিত্র তুলে ধরার অর্থ এই নয় যে সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসনের আন্তরিকতা নেই। রাসিক মেয়র স্থানীয় সাংসদবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জনসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দিনরাত তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চলেছেন। তবে এই সব পরিশ্রম বিফলে যাবে যদি রাজশাহীতে সংক্রমণ আরো বৃদ্ধি পায়।
আর তাই সামনের দিনগুলোতে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। রাজশাহীর উপজেলা ও নগরীতে বাইরে থাকা মানুষের প্রবেশ ঠেকাতে চেকপোস্টগুলোতে তল্লাশি আরো বৃদ্ধি করতে হবে। রাজশাহীতে অনুপ্রবেশকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। আদেশ অমান্যকারী ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট দোকানে উপস্থিত ক্রেতাদের আর্থিক দণ্ডের আওতায় আনতে হবে। সর্বপরি সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনকে তাদের নেয়া সিদ্ধান্তে অবিচল থাকতে হবে। নিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ। আর এর সবই হতে হবে জনস্বার্থে।

মে ১৯
০৪:৪৮ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

চাকরি ছেড়ে পত্রিকা করেছিলেন সাখাওয়াত হোসেন

চাকরি ছেড়ে পত্রিকা করেছিলেন সাখাওয়াত হোসেন

আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ: বিমানের এক সহযাত্রী বারবার মুখের দিকে তাকাচ্ছিলেন। তখন সাখাওয়াত হোসেনের সুপৌরুষ গড়ন। নেমেই সহযাত্রীটি পরিচিত হওয়ার জন্য হাত বাড়ালেন। তিনি একজন চলচ্চিত্র পরিচালক। তাঁর সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিলেন। তখন সাখাওয়াত হোসেন কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক। তাঁর ঝোঁক টেলিভিশন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দিকে। এ জন্য মাঝে মধ্যে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

বিআইডব্লিউটিএ’কে পিপিই ও মাস্ক দিল বসুন্ধরা গ্রুপ

বিআইডব্লিউটিএ’কে পিপিই ও মাস্ক দিল বসুন্ধরা গ্রুপ

সানশাইন ডেস্ক : করোনাকালে দুর্গতদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে দেশের শীর্ষ শিল্প গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত বসুন্ধরা গ্রুপ করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষায় এবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-কে পিপিই এবং মাস্ক হস্তান্তর করেছে। বুধবার (২০ মে) মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকের

বিস্তারিত