Daily Sunshine

রাজশাহীজুড়ে পুকুর খনন হুমকির মুখে গ্রামীণ সড়ক

Share

ক্রমেই কমছে কৃষিজমি
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর জেলা জুড়েই নির্বিচারে কৃষি জমিতে চলছে পুকুর খনন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থেমে নেই পুকুর খনন। নানাভাবে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে চলছে এসব অবৈধ কাজ কারবার। এ কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি। আবার প্রশাসন থেকে অভিযান চালালেও কাজে আসছে না। ধোরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে পুকুরখনন সিন্ডিকেট। এ নিয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।
পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডোগা দিয়ে পুকুরখনন কাজে ব্যবহৃত মাটি বোঝাই অবৈধ ট্রাক্টর গ্রামীণ পাকা রাস্তার বারোটা বাজাচ্ছে। আবার উপজেলা প্রশাসন থেকে দিনে অভিযান চালিয়ে যে পুকুর খনন বন্ধ করা হচ্ছে, রাতেই আবার সেই পুকুর খনন করা হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযানের আগেই পুকুর খননকারিরা টের পেয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রশাসনের কোন কোন সদস্য পুকুরখনন সিন্ডিকেটের সাথে আঁতাত করে চলেছে বলেই অভিযানে সাফল্য আসছে না। আবার কোনো কোনো উপজেলায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের সহযোগিতাই পাচ্ছেন। ফলে কয়েক বছরে পুকুরসহ অন্যান্য কারণে শুধুমাত্র এই জেলায় কৃষিজমি কমেছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর (এক লাখ সাড়ে ১২ হাজার বিঘা)।
রাজশাহীতে উপর্যুপরি পুকুর খননের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত রাজশাহীর বাগমারা, পবা, গোদাগাড়ী, দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলায় পুকুর খননের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে বর্তমানে তানোর উপজেলায় যত্রতত্র চলছে পুকুরখননযজ্ঞ। সেখানে নাকি উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে ঘুষ দিলেই পুকুরখননের অনুমতি মিলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুকুরখননকারীদের একজন বলেন, দিনে রাতে চলছে পুকুরখনন। এ তথ্যের সত্যতা মিলেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সরোজমিন দেখা গেছে পবার বাগধানির পর থেকে তানোরের রাস্তার দুধারে লাইটের ছড়াছড়ি। ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও এ তথ্য জানান। এরপরও দু-একটি উপজেলায় প্রশাসন পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও লাভ হচ্ছে না। পবা উপজেলায় প্রশাসন নিয়মিতই অভিযান চালাচ্ছে। তারপরও উপজেলার বড়গাছি, দারুশা, দর্শনপাড়া এলাকায় দিনের আলোতেই চলছে পুকুর খনন।
বিশেষ করে পবা উপজেলার দারুশা হাওয়ার মোড়ে ১০০বিঘা তিন ফসলি কৃষি জমিতে অবাধে চলছে পুকুরখনন। এই পুকুরেই তিনটি এস্কেভেটর (মাটি খননকারি মেশিন) প্রায় ৫০টি ট্রাক্টর দিয়ে ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাটি বহন হচ্ছে। এতে ওই এলাকার গ্রামীণ রাস্তার বারোটা বেজেছে। শনিবার সরোজমিন গিয়ে এর শতভাগ সত্যতা মিলেছে। সেখানে পুকুরখননের ছবি তুলতেই সাত-আটজন ঘিরে ধরে প্রশ্ন শুরু করেন। ছবি তুললে যন্ত্র ভেঙ্গে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। তার নাম মিনারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই পুকুরে চারবার অভিযান হয়েছে। তাতে আমার খরচ বাড়ছে। কিন্তু খননকাজ বন্ধ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় মিনারুল ইসলাম পুকুরখনন বিষয়ে এলাকায় চ্যালেন্স ছুড়েছে। তার পুকুরখনন বন্ধ করার ক্ষমতা উপজেলা ও স্থানীয় থানা পুলিশ করবেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, মিনারুলের পুকুরখননই ব্যবসা। এই এলাকায় এসিল্যান্ড অফিস ও থানার সাথে সেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। দর্শনপাড়া ইউনিয়নের কোপাকান্দি মোড়েও চলছে অবাধে পুকুরখনন। পুকুরখনন সিন্ডিকেটের সদস্য কোপাকান্দির বাবু। জানা যায় বাবু বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজশাহী প্রধান অফিসে কর্মরত। তার পুকুরখননে কয়েকদিন আগে পবা সহকারি কমিশনার ভূমি আবুল হায়াত অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে এখন অবাধে চলছে খননকাজ।
অপরিকল্পিত পুকুরখননে শুধু যে ক্ষেতের ক্ষতি ও জলাবদ্ধতা হচ্ছে তাই নয়। পুকুরখননের কাজে ব্যবহৃত এক্সেভেটর ও মাটি পরিবহনে ট্রাক্টরে গ্রামীণ সংযোগ সড়কগুলো মরণ ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। যে কারণে রাস্তাগুলো বছর খানেকের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি জনগণের কমছে আস্থা, বাড়ছে বিদ্বেষ।
এলাকায় পুকুরখনন বিষয়ে কর্ণহার থানার অফিসার্স ইনচার্জ আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, পুকুরখনন বন্ধের উদ্যোগ পুলিশ প্রশাসনের এখতিয়ার। রাস্তায় অবাধে অবৈধ ট্রাক্টর চলাচল বন্ধে তিনি পদক্ষেপ নিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুল হায়াত বলেন, পুকুর খনন কেউ করছে- এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই অভিযান চালানো হচ্ছে। এ বছর পবা উপজেলায় ৩০-৩২টি অভিযান চালানো হয়েছে। ২৫টি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু দু-এক দিন পর তারা আবার খনন শুরু করে। এতে সামাজিক সচেতনতা জরুরী। আগামীতে অব্যাহতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

জানুয়ারি ১৪
০৪:৪৬ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে অনণ্য দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা

নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে অনণ্য দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা

সানশাইন ডেস্ক : দেশের নারী সমাজের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আমলে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন ও তৃণমূল পর্যন্ত নারীর ক্ষমতায়নের প্রসার ঘটেছে। নারী শিক্ষা নিশ্চিত করা, নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং কর্মক্ষেত্র

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৩৮তম বিসিএসে সুপারিশ পেলেন ২২০৪ জন

৩৮তম বিসিএসে সুপারিশ পেলেন ২২০৪ জন

সানশাইন ডেস্ক : ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এই বিসিএসে ২ হাজার ২০৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে পিএসসি। ফলাফল পিএসসির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ফলপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার পালা শেষ হলো। পিএসসি সূত্র জানায়, আজ বিকেলে বিশেষ সভা শেষে পিএসসি ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত

বিস্তারিত