Daily Sunshine

অব্যবস্থাপনায় পাঠক হারাচ্ছে শাহমখদুম পাবলিক লাইব্রেরী

Share

শামীম ইসলাম: গ্রীষ্মের সূর্য উত্তাপ ছড়াচ্ছে সর্বোচ্চ মাত্রায়। পশ্চিম আকাশে জমেছে রক্তিম আভা। নগরীর পাঠানপাড়া সংলগ্ন মাদ্রাসা মাঠ এলাকার রাস্তা। প্রমত্তা পদ্মা থেকে বয়ে আসা বাতাস একটুখানি পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে দেহ-মনে। পাশে চায়ের দোকানে মানুষের জটলা। রোদ্রবৃষ্টিতে ক্লান্ত হয়ে একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন চায়ের দোকানে। চা পানে অলস দুপুরের ক্লান্তি মেটাচ্ছেন।
তাদের অতিক্রম করে আরো কিছুদুর যেতেই শাহ মখদুম পাবলিক লাইব্রেরী। চা বা অন্য পানীয় দিয়ে যেমন শারীরিক তৃষ্ণা মেটানো যায়। মনের তৃষ্ণা মেটাতে দরকার জ্ঞান। আর মানুষের জ্ঞানের তৃষ্ণা মেটায় লাইব্রেরী বা গ্রন্থাগার। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের জ্ঞান পিপাসা নিবারণ করে আসছে এই গ্রন্থাগারটি।
লাইব্রেরী কক্ষে ঢুকেই কিছু মানুষের দেখা মিলল। সবাই ব্যস্ত। কেউ পড়ছেন, কেউ প্রয়োজনীয় বইটি খুঁজে বের করছেন। পাঠাগারের ২০টি তাকে হাজার হাজার বই, ম্যাগাজিন ও পত্র-পত্রিকা। এসব বই ম্যাগাজিন ও পত্র-পত্রিকায় জানান দেয় শত বছরের জীবন গাঁথা ও ইতিহাস।
কথা হলো পাঠরত শ্রী গোবিন্দের সঙ্গে। তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতক সম্মান শেষ করেছেন। তিনি জানান, সাত মাস ধরে এখানে নিয়মিত আসেন। ছোটবেলা থেকেই বই পড়তে খুব ভালো লাগে তার। প্রয়োজনীয় ও পছন্দের সব বই তিনি এখানে পান। নিরিবিলি পরিবেশে মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারেন। তাই সময় পেলেই চলে আসেন এই লাইব্রেরীতে।
শাহ মখদুম পাবলিক লাইব্রেরির ইতিহাস অনেক পুরোনো। প্রায় ১২৫ বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে এই গ্রন্থাগারটি। শিক্ষা বিস্তার, জ্ঞানসাধনা ও আলোকিত সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে রাজশাহীর খ্যাতনামা ব্যক্তিবর্গ ১৮৯১ সালে এটি স্থাপন করেন। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ লাইব্রেরীটি রাজশাহী নগরীর জ্ঞানপিপাসু পাঠকদের চাহিদা মিটিয়ে আসছে আজও। এটি শিক্ষা নগরীর সবচেয়ে পুরনো পাবলিক লাইব্রেরী। যার বইয়ের তাকে জমা আছে বহু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা।
কথা হয় লাইব্রেরীয়ান রহিমার সঙ্গে। তিনি জানান, পাঠকদের চাহিদানুযায়ী এখানে রয়েছে আলাদা বিভাগ। পত্র-পত্রিকা বিভাগ,পাঠ্যপুস্তক বিভাগ, শিশু বিভাগ ও তথ্য শাখাসহ আরো অনেক সুযোগ সুবিধা। প্রায় ১৪ হাজার বই সম্বলিত এই লাইব্রেরী প্রতিনিয়ত পাঠকের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন পাঠকের জ্ঞানপিপাসা মেটায় লাইব্রেরিটি।
এবার কিছু হতাশার কথা। বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত লাইব্রেরীটি। অর্থের অভাবে নতুন বই কেনা সম্ভব হচ্ছে না। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার মত টাকাও তহবিলে নেই। দিনদিন পাঠক চাহিদা বৃদ্ধি হওয়ার ফলে জায়গা দেয়া যাচ্ছে না। ১টি মাত্র ওয়াশরুম। ফ্যান, লাইট ঠিক মতো জলে না। আগে যেখানে ২৭টি পত্রিকা নেয়া হত। এখন সেখানে নেয়া হয় মাত্র ১৬টি।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাঠকের অভিযোগের শেষ নেই। জায়গা সংকটের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে পড়াশোনার পরিবেশ। প্রায় সময় স্থান স্বল্পতার কারনে মেঝেতে বসে পড়তে হয় পাঠকদের। এমনকি কখনো আবার পাশের বাগানে গিয়েও বসতে দেখা যায়।
৪০-৫০ বছরের পুরোনো তালাগুলো অকেজো হয়ে গেছে। যা ব্যবহারের অনুপযোগী। লাইব্রেরীর ভেতরে পেপারের জটলা, মশার আনাগোনা। বলতে গেলে হাজার বছরের পুরনো এই পাবলিক লাইব্রেরীটি এখন ধুকঁছে। এর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষনের মাধ্যমে নগরবাসীর জ্ঞানচর্চার সুযোগটি যেন বহাল থাকে এমন চাওয়া প্রত্যেকের। এজন্য নগরপিতার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নগরবাসী।

এপ্রিল ০৩
০২:৫০ ২০১৯

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে অনণ্য দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা

নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে অনণ্য দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা

সানশাইন ডেস্ক : দেশের নারী সমাজের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আমলে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন ও তৃণমূল পর্যন্ত নারীর ক্ষমতায়নের প্রসার ঘটেছে। নারী শিক্ষা নিশ্চিত করা, নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং কর্মক্ষেত্র

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৩৮তম বিসিএসে সুপারিশ পেলেন ২২০৪ জন

৩৮তম বিসিএসে সুপারিশ পেলেন ২২০৪ জন

সানশাইন ডেস্ক : ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এই বিসিএসে ২ হাজার ২০৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে পিএসসি। ফলাফল পিএসসির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ফলপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার পালা শেষ হলো। পিএসসি সূত্র জানায়, আজ বিকেলে বিশেষ সভা শেষে পিএসসি ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত

বিস্তারিত