সর্বশেষ সংবাদ :

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দৈনিক ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র চায় ইউক্রেইন

সানশাইন ডেস্ক: ইউক্রেইন গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের সামরিক চাহিদার ফর্দ বহুলাংশে বাড়িয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিমান-বিধ্বংসী ও ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। হাতে পাওয়া এক নথির বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সামরিক সহায়তা হিসেবে অস্ত্র চেয়ে ওই ফর্দ যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের বরাবরে পাঠিয়েছে ইউক্রেইন। সেই তালিকায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য স্টিঙ্গার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ট্যাংক-বিধ্বংসী জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বেড়ে গেছে।
সিএনএনের হাতে আসা বিস্তারিত অস্ত্র সামগ্রীর ওই নথিতে দেখা গেছে, ইউক্রেনীয়রা জরুরিভিত্তিতে প্রতিদিন দৈনিক ওই দুই ধরনের ৫০০টি করে ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। এর আগে সহায়তা চেয়ে যে তালিকা ইউক্রেইন দিয়েছিল, তার চেয়ে এই চাহিদা অনেকটা বেশি।
রাশিয়ার অব্যাহত সামরিক হামলার মুখে অস্ত্র ঘাটতি দেখা দিতে পারে জানিয়ে নতুন করে এই অস্ত্রের চাহিদা দিয়েছে কিইভ – যা দেখে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা আপত্তি তৈরি হয়েছে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, এরইমধ্যে অনেক বেশি সামরিক সহায়তা ইউক্রেইনে পাঠানো হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর ৭ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো সদস্য দেশগুলো প্রায় ১৭ হাজার ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজার বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেইনকে সরবরাহ করে। ওই সময় থেকেই নেটো দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র ও সরঞ্জামের সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার পাইপলাইন খোলা রেখেছে, এমনকি অস্ত্রের চালানে রাশিয়ার হামলার হুমকির পরও।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ ইউক্রেইনের জন্য সামরিক সহায়তা হিসেবে যে ৩৫ কোটি ডলারের তহবিল অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, ওই সহায়তার অস্ত্রও গত কয়েক দিনে সেদেশে পৌঁছেছে। একশ কোটি ডলারের আরও দুটো প্যাকেজ সেখানে পৌঁছাতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বৃহস্পতিবার বলেন, “আমি এখানে যখন কথা বলছি, এই সময়ই আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলা এবং অস্ত্র ইউক্রেইনে যাচ্ছে।”
প্রতিরক্ষা দপ্তরের ওই কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, দৈনিক একাধিক ফ্লাইটে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে মার্কিন অস্ত্র পৌঁছানো হচ্ছে। তারপর সেখান থেকে সীমান্ত পার করে তা ইউক্রেইনে যাচ্ছে। এদিকে যুক্তরাজ্য বুধবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা আরও ৬ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র দেবে কিইভকে, যার মধ্যে ট্যাংক-বিধ্বংসী ও উচ্চ বিস্ফোরক অস্ত্র থাকবে। সেইসঙ্গে ইউক্রেইনের সামরিক বাহিনীর অর্থায়নের জন্য প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ থাকছে।
সিএনএনের হাতে পৌঁছানো ওই তালিকায় অন্যান্য অস্ত্রের চাহিদার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে জেট বিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং এস-৩০০ পর্যায়ের বিমান হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ওই তালিকায় রাশিয়ার তৈরি দুই ধরনের বিমানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি আকাশ থেকে ভূমিতে সেনাদের সহায়তা দিতে পারে। এ ধরনের ৩৬টি করে যুদ্ধ বিমান চেয়েছে কিইভ।
কংগ্রেসে কিছু আইনপ্রণেতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইউক্রেইন যেসব অস্ত্র চেয়েছে তা যত দ্রুত সম্ভব তাদের কাছে পৌঁছানো হোক। সম্প্রতি পোল্যান্ড ও জার্মানি সফর করে আসা ডেমোক্রেট দলীয় সেনেটর জ্যাকি রোসেন বলেন, তার এই সফরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে ‘দ্রুত কাজ করার তাগিদ’। তিনি সিএনএনকে বলেন, “শুধু যুদ্ধে টিকে থাকার জন্যই যে তাদের এসব উপকরণ দরকার, তা নয়, যুদ্ধে জেতার জন্যও তা দরকার।”


প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২২ | সময়: ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ