সর্বশেষ সংবাদ :

নগরীতে নিহত ব্যবসায়ীর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর নিউমার্কেটের ষষ্ঠিতলা এলাকার নিহত ফুটপাত ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলামের (২৩) লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছে নিহতে পরিবারসহ এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে মহানগরীর নিউ মার্কেট এলাকা থেকে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজশাহী নগর ভবনের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন এলাকাবাসী। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ চলাকালে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এদিকে ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। সোমবার রাতে নিহত রিয়াজুলের বাবা মো. মধু শেখ বাদী হয়ে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় নাঈম হোসেন নামের একজনকে সোমবার রাতেই ঘটনাস্থলের পাশে থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আসামীদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, নগরের বোয়ালিয়া থানার ষষ্ঠিতলা এলাকার সাঈদ শেখের ছেলে রানা শেখ (৩০) ও রনি শেখ (২৬), রতনের ছেলে নাঈম (২৬), গৌরহাঙ্গা এলাকার আনুর ছেলে রিমন (২৪) ও দড়িখরবনা এলাকার হাসুর ছেলে নাঈম (৩৫)। এছাড়ও অজ্ঞাত আরও ৭ জন।
ঘটনার রাতেই নাইম নামে এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামীদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে আরএমপি মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দস তা নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার রাত ৯টার দিকে নিউমার্কেটের সামনে ছুরিকাঘাত করে রিয়াজুলকে হত্যা করা হয়। এ সময় আহত হন রিয়াজুলের ভাই রিংকু (২২)। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত রিয়াজুল ও তার ভাই রিংকুর বাড়ি নগরীর বোয়ালিয়া থানার ষষ্টিতলায়। নিউমার্কেটের গেটের ফুটপাতে তাদের স্যান্ডেলের দোকান রয়েছে। এদের মধ্যে নিহত রিয়াজুলের বুকের বাম পাশে এবং রিংকুর পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়।
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিউমার্কেটের সামনের ফুটপাতাতে দীর্ঘদিন ধরে স্যান্ডেলের দোকান করে আসছিল রিয়াজুল ও তার ভাই রিংকু। সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় রনি ও নাঈম নামের দুই যুবক নিজের তাঁতি লীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে স্যান্ডের দোকান তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রিয়াজুলকে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়।
ওসি বলেন, রাত ৯টার দিকে রনি ও নাঈম কয়েকজনকে সাথে নিয়ে গিয়ে রিয়াজুলকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় রিংকুট এগিয়ে আসলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাদের দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াজুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আর রিংকুকে হাসপাতালের ৮ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদেরকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২২ | সময়: ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ