সর্বশেষ সংবাদ :

‘সাদা ফুলে কালো সোনা’

সেলিম সানোয়ার পলাশ: গোদাগাড়ী উপজেলার মাঠগুলো এখন ভরে আছে পেঁয়াজের সাদা ফুলে। সাদা ফুলের মাঝে এ কালো সোনাতেই অনেক কৃষক আগামীর স্বপ্ন বুনছে। পেঁয়াজ বীজের কালো দানা এলাকায় ‘কালো সোনা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বাজারে যে দাম পাওয়া যায়, তাতে পেঁয়াজ বীজ সোনার মতোই। তাই এই বীজকে সবাই ‘কালো সোনা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া পেয়াজ বীজের অনুকুলে রয়েছে। বড় ধরনের ঝড় শিলা বৃষ্টি না হলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায় ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত থেকে পেয়াজের বীজ তোলা শুরু হয়ে যাবে।
পানি খরচ কম, উৎপাদিত বীজের বাজার মূল্য বেশী ও অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হওয়ায় অনেক কৃষক অন্যসব ফসল বাদ দিয়ে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ১শ’ ৩০ হেক্টর জমিতে পেয়াজের বীজ চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে চাষ হয়েছিল প্রায় ৯৫ হেক্টোর। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ৩৫ হেক্টোর জমিতে বেশী পেয়াজের বীজ চাষ হয়েছে। পেয়াজের বীজ চাষে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হওয়ায় এবার বেড়েছে পেয়াজ বীজের চাষ। পেয়াজের বীজ রোপনের উপযুক্ত সময় নভেম্বর মাস। রোপনের সময় হতে প্রায় ৪ মাস সময় লাগে পেয়াজের বীজ উঠতে। ১ বিঘা পেঁয়াজের বীজ চাষের জন্য জমিতে ৫ থেকে ৬ মণ পেঁয়াজ রোপন করতে হয়। চাষ হতে বীজ উঠতে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ১ বিঘা জমি হতে বীজ পাওয়া যায় দুই হতে আড়াই মণ। সময়ের ব্যবধানে বাজারে এক মন বীজ বিক্রি হয় ৬০ হাজার হতে দেড় লাখ টাকায়।
উপজেলার বিদিরপুর হােিফজিয়া মাদ্রাসা এলাকার কৃষক সোহেল রানা জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ২ বিঘা ১০ কাঠা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছে। তার ভাল ফলনের সম্ভাবনা আছে। অন্যর জমি লিজ নিয়ে সে “ম্যাটাল” জাতের পেয়াজের বীজ চাষ করেছে। তাহেরপুর থেকে এ জাত সংগ্রহ করেন তিনি। এছাড়াও সে পেয়াজের ফুলে পরাগায়নের জন্য পাবনা থেকে ১ বাক্স মৌমাছি ৩ হাজার ৬ শ’ টাকায় ভাড়া নিয়ে এসে তার পেয়াজ বীজ ক্ষেতের পার্শ্বে রেখেছে। সে বলে মৌমাছি ফুলে পরাগায়ন ঘটায়। যার ফলে বীজ উৎপাদন বেশী হয়। লিজসহ সব মিলিয়ে ২ বিঘা ১০ কাঠায় তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। গত মৌসুমে সে ১ বিঘা পেয়জ বীজের চাষ করেছিল। তাতে তার সব মিলিয়ে খরচ হয়েছিল প্রায় ৪০ হাজার টাকা। ১ বিঘায় বীজ উৎপাদন হয়েছিল ২ মণ ৩ কেজী। বিক্রি করেছিল ৬২ হাজার টাকা মণ। বীজ বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হয়েছেন সে। গত বারের তুলনায় এবার তার ক্ষেতে পেয়াজ বীজের ফুল ভাল হয়েছে। আশা করছে বিঘা প্রতি ২ মন ২০ কেজী করে বীজ ফলতে পারে। তবে সে কিছুটা অভিযোগের সুরে বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা পাইনি সে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লুৎফার রহমান বলেন, এবার জমিতে পেয়াজের বীজ ভাল রয়েছে। ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষেতে পেয়াজ বীজ ভাল হয়েছে, এখন বড় ধরনের ঝড় শিলা বৃষ্টি না হলে হাসি মুখে কৃষকেরা পেয়াজের বীজ ঘরে তুলতে পারবে।


প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২২ | সময়: ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ