সর্বশেষ সংবাদ :

আশাভঙ্গের বেদনায় পুড়ল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: গ্যালারিতে যেন তিল ধারণের জায়গা নেই। কানায় কানায় পূর্ণ প্রতিটা কোণা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা চার-ছক্কা মারলেই দর্শকদের সেকী গর্জন! এমন উপলক্ষ যদিও খুব বেশি এলো না। নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতায় কোনোমতে দল ছাড়াল একশ। বোলাররা তবু করলেন লড়াই। কিন্তু ফিল্ডিং হলো ভীষণ বাজে। ক্যাচ পড়ল টপাটপ। সঙ্গী তাই বড় হারের বিষাদ।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের আশা পূরণ হলো না বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে তাদের ৮ উইকেটে হারিয়ে সমতায় সিরিজ শেষ করল আফগানরা। প্রথম ম্যাচে ৬১ রানের দারুণ জয়ে এই সংস্করণে টানা আট হারের বৃত্ত ভেঙেছিল মাহমুদউল্লাহর দল। বাজে পারফরম্যান্সে পরের ম্যাচেই ফের আঁধারে ডুবল তারা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে শনিবার আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে করতে পারে কেবল ১১৫ রান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর এটিই। ২০১৮ সালে দেরাদুনে ১২২ রান ছিল আগের রেকর্ড। বিস্ময়করভাবে বাংলাদেশের ইনিংসে ছক্কা কেবল একটি, সেটিও শুরুর দিকে। চার মোটে ১১টি। শেষ ৪ ওভারে হয়নি কোনো বাউন্ডারি!
একজন স্পর্শ করতে পারেন কেবল ত্রিশ। আঙুলের চোট কাটিয়ে শততম টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে মুশফিকুর রহিম ৩০ রান করেন ২৫ বলে। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তার ৪৩ রানের জুটি ছাড়া আর কোনো জুটি স্পর্শ করতে পারেনি ২০ রানও।
আগের ম্যাচে ৯৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া আফগানিস্তান এবার হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের অপরাজিত ফিফটিতে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ১৪ বল বাকি থাকতে। শূন্য রানে জীবন পেয়ে ৪৫ বলে ৫ ছক্কা ও ৩ চারে ৫৯ রান করেন জাজাই। চোটের কারণে রহস্য স্পিনার মুজিব উর রহমানকে এই ম্যাচে পায়নি আফগানিস্তান। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তবু কাজে লাগাতে পারেননি সুযোগ। আফগানদের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন ফজলহক ফারুকি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
ম্যাচের শুরুতে প্রয়াত দুই অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রডনি মার্শ ও শেন ওয়ার্নকে স্মরণ করে দুই দল। আবারও টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের মতো এদিনও উইকেটে ছিল ঘাসের ছোঁয়া। ফারুকি ওভার শুরু করেন দুটি ওয়াইড দিয়ে। ওভারের বাকি বলগুলোই রানের জন্য ছটফট করেন মুনিম শাহরিয়ার। পরের ওভারে মোহাম্মদ নবিকে একটি চার মারার পরই বিদায় নেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। বেরিয়ে এসে সহজ ক্যাচ দেন মিড অফে।
বিপিএলে ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ে নজর কাড়া তরুণ এই ব্যাটসম্যান সম্ভাবনার ডালি সাজিয়ে জাতীয় দলে এসে প্রথম ম্যাচে ১৭ রানের পর এবার করলেন ৪। ফারুকির শর্ট বল পুল করে লিটন দাস দারুণ একটি ছক্কা মারেন ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে। কিন্তু প্রথম ম্যাচের মতো এবার আর ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ওমরজাইয়ের শর্ট বলে ছক্কায় চেষ্টায় টাইমিং করতে পারেননি। ধরা পড়েন বাউন্ডারিতে।
এই ম্যাচেও পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ২ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে কেবল ৩৩ রান। যার স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন ওঠে নিয়মিত, সেই নাঈম শেখ প্রশ্নটা উচ্চকিত করেন আবারও, ১৯ বলে ১৩। রশিদ খানের বলে একবার তাকে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর বেঁচে যান রিভিউ নিয়ে। পরে বিদায় নেন রান আউটে।
সাকিব আল হাসান এদিনও পারেননি দুই অঙ্কে যেতে। বাজে শটে বিদায় নেন বল আকাশে তুলে। দশম ওভারে ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। দুজনের ব্যাটে বাড়তে থাকে রান। ৩১ বলে ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন রশিদ। লেগ স্পিনারের বলে এলবিডব্লিউ হন মাহমুদউল্লাহ (১৪ বলে ২১)।
মুশফিক এরপর এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে। কিন্তু ঝড় তোলার কথা যখন, তখনই বিদায় নেন তিনি। সপ্তদশ ওভারে আক্রমণে ফেরা ফারুকির স্লোয়ারে ক্যাচ দেন কাভারে। ৪টি চারে গড়া তার ৩০ রানের ইনিংস। বাঁহাতি পেসার ফারুকির ওই ওভারেই ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক এর তেতো স্বাদ পান মেহেদি হাসান। আফিফ হোসেনও করতে পারেননি কিছুই। বাংলাদেশের জন্য একমাত্র স্বস্তির বিষয়, অলআউট হতে হয়নি তাদের!
প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক নাসুম আহমেদ এবারও প্রথম ওভারে পেতে পারতেন উইকেট। কিন্তু নিজের বলে জাজাইয়ের সহজ ক্যাচ ফেলেন তিনি। পরের ওভারে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়ে দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন অফ স্পিনার মেহেদি। এরপর সফরকারীদের এগিয়ে নেন জাজাই ও দলে ফেরা উসমান গনি। গনিকে ফেরানোর সুযোগ আসে দুইবার। কিন্তু ৩৯ রানে আফিফ ও ৪১ রানে নাঈম ফেলেন তার ক্যাচ। দুবারই বোলার ছিলেন মেহেদি।
অবশেষে মাহমুদউল্লাহ যখন ৯৯ রানের জুটি ভাঙেন গনিকে (৪৮ বলে ৪৭) ফিরিয়ে, আফগানিস্তানের জয় তখন খুব কাছাকাছি। দারবিশ রাসুলিকে নিয়ে বাকিটা সারেন জাজাই। নাসুমকে ছক্কায় উড়িয়ে ম্যাচের ইতি টানেন রাসুলি। বলা যায়, উড়ে যায় আসলে বাংলাদেশই!


প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২২ | সময়: ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ