নওগাঁর শিশুগাড়ি জলমহাল পুনরায় ইজারার দাবী মৎস্যজীবীদের

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিল শিশুগাড়ি জলমহালটির পুনরায় ইজারার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। সোমবার নওগাঁ শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চকদেবীরাম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি রহিদুল আলম মৎস্যজীবীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন উপজেলার নুুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের চকদেবীরাম ও রামনগর গ্রামে অবস্থিত আয়তন ২৬ দশমিক ৭৫ একরের বিল শিশুগাড়ি জলমহাল। প্রায় ২০ বছর ধরে জলমহালটি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে চকদেবীরাম ও রামনগর গ্রামের শতাধিক মৎস্যজীবী পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। কিন্তু চকদেবীরাম গ্রামের বাসিন্দা ও রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রায়হান কবির তথ্য গোপন করে মৎস্যজীবী সেজে চেরাগপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির উপদেষ্টা হিসেবে জলমহালটি ইজারা গ্রহণ করেছে।
আইন লঙ্ঘন করে জেলা জলমহাল ইজারা কমিটি অমৎস্যজীবী এবং জলমহাল থেকে প্রায় ২৫কিলোমিটার দূরের চেরাগপুর সমবায় সমিতিকে জলমহালটি ইজারা দেওয়ার জন্য সুপারিশ করে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও নিজেকে মৎস্যজীবী পরিচয় দিয়ে জলমহাল ইজারার জন্য দরপত্র দাখিলের আবেদন করেছেন। যা সরকারি চাকরির বিধিমালা পরিপন্থী।
এই বিষয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন একটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল করিমকে প্রধান করে ৪সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি সম্প্রতি ওই শিক্ষককে রক্ষা করতে নানা রকমের পায়তারা করছে।
সম্প্রতি অভিযোগের ভিত্তিতে ডাকা শুনানির দিনে তদন্ত কর্মকর্তা শিক্ষকের পক্ষ গ্রহণ করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের কোন বক্তব্য গ্রহণ না করেই ওই শিক্ষকের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করতে যাচ্ছে।
এতে করে বিলের আশেপাশে বসবাসরত কয়েকশত মৎস্যজীবীরা তাদের সমিতির নামে বিলটির ইজারা না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। শিক্ষকের নামে দেওয়া ইজারা বাতিল করে যদি ওই বিলটি মৎস্যজীবীদের সমিতির নামে ইজারা না দেওয়া হয় তাহলে তারা মাছ ধরতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধঅহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হবে।
তাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অমৎস্যজীবী ওই শিক্ষকের নামের ইজারা বাতিল করে বিলের আশেপাশে থাকা প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সমিতির নামে ইজারা দেওয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদষ্টি কামনা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো ছিলেন মৎস্যজীবী আছির উদ্দিন মল্লিক, খলিলুর রহমান মণ্ডল, আবেদ আলী মন্ডল, সালাহ উদ্দিন, সাইদুর রহমান, আব্দুস সামাদ।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষক রায়হান কবীর ওই সমিতির উপদেষ্ঠা পদ থেকে নাম প্রত্যাহার করেছেন। তাহলে তো আর কিছু প্রয়োজন হয় না। তবে বিলটির ইজারা বাতিলের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি নন।


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২ | সময়: ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ