Daily Sunshine

বাধা পেরোনোর সক্ষমতার দৃষ্টান্ত পদ্মা সেতু: প্রধানমন্ত্রী

Share

সানশাইন ডেস্ক: নীতি-আদর্শ নিয়ে চললে যে কোনো বাধাই যে অতিক্রম করা যায়, পদ্মা সেতু নির্মাণ করে আওয়ামী লীগ সরকার তা প্রমাণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্ব ব্যাংক ‘দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তোলার পর নিজেদের অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করায় বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ‘পাল্টে গেছে’ বলে তিনি মনে করেন। বুধবার ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি জানি অনেক চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র। ওগুলো আমি কখনো মাথায়ও রাখি না। ওগুলো নিয়ে আমি বিভ্রান্তও না। কারণ আমরা সারাজীবনই দেখেছি এগুলো হচ্ছে, এটা হবে।
“কিন্তু একটা আদর্শ নিয়ে চলতে গেলে, একটি লক্ষ্য স্থির করে চললে, আর বাংলাদেশের তৃণমূলের একেবারে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে গেলে যারা উপরে থেকে বেশি বেশি খায়, বেশি বেশি পায়- তাদেরতো একটু দুঃখ থাকেই। তারা ভাবে, আমাদের বোধ হয় জায়গা হবে না। সেজন্য ষড়যন্ত্র করতেই থাকে।”
আর কিছু লোক কেল ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই চলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “এ ধরনের যাদের আকাঙ্ক্ষা বেশি, তারা তো দেশের মানুষের ভাগ্যের কথা চিন্তা করে না। কাজেই তারা ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকে। ৃ কিন্তু নীতি, আদর্শ নিয়ে চললে আর সৎ পথে চললে যে কোনো বাধা অতিক্রম করা যায়, সেটা আওয়ামী লীগ সরকার প্রমাণ করেছে।”
বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করবে বাংলাদেশ। এরপর ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় পূর্ণ আকৃতি পায় স্বপ্নের সেতু, যুক্ত হয় পদ্মার দুই পাড়।
সেতুর ৯৬ শতাংশ কাজ শেষে এখন চলছে পিচ ঢালাই। সব ঠিক থাকলে আসছে জুনে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যাবে বলে সরকার আশা করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেদিন পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের ওপর দোষারোপ করল, দুর্নীতি হয়েছে- যেটাকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলাম। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যখন প্রমাণ করতে পারে নাই, তারপরেই সারা বিশ্ববাসী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, একসময় যাদের কাছ থেকে ঋণ নিলে তারা মনে করত যে আমাদেরকে খুব করুণা করল; আমি কিন্তু সেই চিন্তা থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে এনেছি।”
বাংলাদেশ ঋণ হিসেবে নেওয়া টাকার জন্য সুদ পরিশোধ করে এবং ওই অর্থ যে অনুদান নয়, সে কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা কিন্তু এখন পরনির্ভরশীল না। আমাদের উন্নয়ন প্রকল্প আমরা স্ব-অর্থায়নে করতে পারি- সেটা আমরা দেখিয়েছি এবং পদ্মা সেতু আমরা নিজেদের অর্থায়নে যে করতে পারি, সেটা আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি।
“এই একটি সিদ্ধান্ত থেকেই সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পাল্টে গেছে। এখন আমাদের কেউ করুণা করতে সাহস পায় না, বরং আমাদের সমীহ করে চলতে পারে। আমাদের এই অর্জনটা ধরে রাখতে হবে।” দেশের কিছু মানুষের ‘পরনির্ভরশীল’ মনোভাবের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে বলেন, “সেই পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে আমি দেখি, সব সময় তারা কোনো একটা প্রভু খুঁজে নিয়ে তাদের পদলেহন করতে ব্যস্ত থাকে। তাদের কোনো আত্মমর্যাদা বোধ নেই, তাদের নিজের প্রতি কোনো আত্মবিশ্বাস নেই। এদের দিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণ হয় না।”
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক নেতা হিসেবে যারা নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাও, তাদেরকে আদর্শ নিয়ে, সততার সাথে, প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে। চলমান বিশ্বে সব সময় নিজেদেরকে… গতি ঠিক রেখে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই এদেশের নেতৃত্ব দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।”
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার‌্যসহ সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

জানুয়ারি ০৬
০৪:৫০ ২০২২

আরও খবর

[TheChamp-FB-Comments]